সমস্যায় জর্জরিত জবি ক্যাফেটেরিয়া

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

জবি প্রতিনিধি

প্রতিষ্ঠার এক যুগ পার হলেও অভাব ও দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছে না জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা অনুভব করতে থাকেন একের পর এক সমস্যা। হল নেই, ক্লাসরুম সংকট, একমাত্র ক্যাফেটেরিয়া সেখানেও পচা-বাসি খাবার। যাতায়াত সংকট, একমাত্র মেডিকেল সেন্টারে নেই চিকিৎসার সঠিক সরঞ্জাম ও সুব্যবস্থা। ছাত্র-শিক্ষক মিলন কেন্দ্রে (টিএসসির) নেই কোনো অবকাঠামো ও কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগার। মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চার জন্যও নেই কোনো মুক্তমঞ্চ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সমাবর্তন হয়নি।

ক্যাফেটেরিয়ায় নিম্নমানের খাবারের উচ্চমূল্য যেন শিক্ষার্থীদের জীবনকে বিষাক্ত করে তুলেছে। ভর্তুকির অভাবে গলা কাটা দামে বিক্রি করা হচ্ছে ক্যাফেটেরিয়ার নিম্নমানের খাবার। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। প্রায় ২৩ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টিতে একটি ক্যাফেটেরিয়াসহ দুটি নামেমাত্র ক্যান্টিন রয়েছে। অবকাশ ভবনে অবস্থিত ক্যাফেটেরিয়াটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন এবং কলা অনুষদে অবস্থিত রেভেনাস প্লাস ক্যান্টিন (সম্পূর্ণরূপে বেসরকারি) ও বিজনেজ স্টাডিজ ভবনে শিক্ষক লাউঞ্জের সামনে অবস্থিত টিচার্স ক্যান্টিনটি (যা এখন বন্ধ)।

ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের অবস্থা : অবকাশ ভবনে অবস্থিত কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় সকালের নাশতায় আধাসিদ্ধ পরটা, ডাল/ভাজি/ডিম (কখনো থাকে কখনো থাকে না), ছোট ছোট শিঙাড়া (ভেতরে সবজি কখনো কখনো পচা পাওয়া যায়), এর সঙ্গে পাতলা সসÑ এই হলো জবি ক্যাফেটেরিয়ার সকালের নাশতা। আর দুপুরের খাবার মানেই শুধু খিচুড়ি আর নামেমাত্র মোরগ পোলাও। নেই ভাত খাওয়ার কোনো ব্যবস্থা। পরটার দাম ৫ টাকা, ডাল/ভাজি ১০ টাকা, খিচুড়ি ৩০, মোরগ পোলাও ৪০ টাকা, যা খুবই নিম্নমানের। যা বাইরের দামের সমান। তাও আবার সব সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ পাওয়া যায় না।

ক্যাফেটেরিয়ায় শুধু খাবার মানের সমস্যা তা নয়, সমস্যা রয়েছে বসার জায়গারও। প্রায়ই আসনের অভাবে সেখানে খাবার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর। ক্যাফেটেরিয়ায় মধ্যে বসে খাওয়ার জন্য কয়েকটি টেবিল থাকলেও নেই পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা। হাতে গোনা কয়েকটি বেঞ্চ ও কয়েকটি ভাঙা চেয়ার। ক্যাফেটেরিয়ার পাশেই রয়েছে একটি শৌচাগার। যেটা দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কার ও পরিষ্কার করা হয় না। ফলে সেখান থেকে বের হয় মারাত্মক দুর্গন্ধ। যে দুর্গন্ধ ক্যাফেটেরিয়ার ভেতর পর্যন্ত পৌঁছায়।

বরাবরের মতোই নীরব প্রশাসন ক্যাফেটেরিয়ার সমস্যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তেমন কোনো চিন্তা নেই বললেই চলে।

জানা যায়, ক্যাফেটেরিয়ায় ব্যবহারকৃত গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল ছাড়া আর কোনো ভর্তুকি বা সুবিধা দেওয়া হয় না বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ফলে শিক্ষার্থীদের টাকায় চলে ক্যাফেটেরিয়া। ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের দাম বেশি থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বাইরের ফুটপাতের কম দামি খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছেন। ফুটপাতের খাবার খেয়ে নানা ধরনের রোগ যেমনÑ ডায়রিয়া, আমাশয়ের মতো পেটের পীড়ার সম্মুখীন হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে তারা প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

কয়েকজন শিক্ষাথী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এমনিতেই আমাদের মেসে থাকতে হয় ফলে খরচ বেশি হয়। ক্যাম্পাসে এসে অপেক্ষাকৃত কম দামে খাব, কিন্তু সেখানেও দাম অনেক বেশি। ফলে অনেক সময় না খেয়েই ক্লাস করতে হয়।

বিভিন্ন সময় ক্যাফেটেরিয়ায় ভর্তুকি বাড়ানো, খাবারের দাম কমানো ও মান বাড়ানোর দাবি জানিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো।

গত বছর তীব্র আন্দোলনের মুখে ক্যাফেটেরিয়া সংকট নিয়ে শাখা ছাত্রলীগ, ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র ইউনিয়ন, জাসদ ছাত্রলীগ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের প্রতিনিধি হিসেবে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করেছিল জবি প্রশাসন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের সভাপতিত্বে ক্যাফেটেরিয়া সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। কমিটিকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ক্যান্টিনের বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধান খুঁজে বের করা জন্য উপাচার্য সময় বেঁধে দিলে ওই মিটিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সেলিম ভূঁইয়া উপাচার্যের কাছে দুই মাস সময় চান। উপাচার্য সময় মঞ্জুর করার পর বছরখানেক সময়েও এ কমিটি কোনো ফলাফল দিতে পারেনি।

"