অনলাইনে চতুর্থ দফায় কলেজে ভর্তির সুযোগ

* কলেজ পায়নি ২৮ হাজার শিক্ষার্থী * ভর্তি হয়েও দোটানায় অনেকে

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

পার হয়ে গেছে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির তিন দফা সুযোগ। তবু অনেক শিক্ষার্থীর ভাগ্যে জুটেনি কলেজ ক্যাম্পাস। আবার অনেকে ভর্তি হয়েও ক্লাসে যাচ্ছে না। কারণ ক্যাম্পাস পছন্দ হচ্ছে না। তাই ক্লাস করার বিপরীতে শিক্ষার্থীদের মাঝে তৈরি হয়েছে হাহুতাশ। এ বিষয়টি চিন্তা করে অনলাইনে চতুর্থবারের মতো দেওয়া হলো ভর্তির আবেদনের সুযোগ।

এবার এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে প্রথম দফায় ১৩ লাখ ৯ হাজার ৪৭৫ জন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করেছিল। পর্যায়ক্রমে তিন দফায় বাকিরা আবেদনের সুযোগ পায়। তবে সর্বশেষ ২৮ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য কোনো কলেজ পায়নি। এদের অনেকেই জিপিএ ৫ পাওয়া। তাই কলেজ না পাওয়া এসব শিক্ষার্থীর ভর্তির সুযোগ দেওয়ার দাবি ছিল অভিভাবকদের। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড বলছে, ৩ দফায় আবেদন করেও ভর্তির সুযোগ না পাওয়া শিক্ষার্থী আছে ২৮ হাজারের বেশি।

গতকাল মঙ্গলবার থেকে এসব শিক্ষার্থীর শেষবারের মতো ভর্তি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে ভর্তিবঞ্চিতরা ১৫ জুলাই পর্যন্ত অনলাইনে আবেদনের সুযোগ পাবে। আবার পছন্দক্রম অনুযায়ী কলেজ না পাওয়া হাজারো শিক্ষার্থী এখনো ভিড় করছে ঢাকা বোর্ডে। তারা চাইছে ভর্তি বাতিল করে পুনরায় আবেদনের সুযোগ। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড বলছে, এখনই সেরকম কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নিশ্চিত করার পরও বিপাকে পড়েছে অনেকেই। একদিকে প্রত্যাশিত কলেজ না পাওয়ার আক্ষেপ অন্যদিকে কলেজ পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় শঙ্কায় হাজারো শিক্ষার্থী।

সাব্বির বলেন, ‘আমি তিন দফায় বেশ কয়েকটি কলেজে অনলাইনে আবেদন করেছি, কিন্তু কোথাও ভর্তির সুযোগ পাইনি। ভালো রেজাল্ট থাকার পরও আমার ভাগ্যে কোথাও ভর্তির সুযোগ হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘বোর্ডের ওয়েবসাইটে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে চতুর্থ দফায় ভর্তির আবেদন কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দিলেও তা এখনও চালু করা হয়নি। কবে তা চালু করা হবে এবং আমি কোথাও ভর্তির সুযোগ পাবেন কি না, তা নিশ্চিত হতে বোর্ডে এসেছি।’

মিরপুর থেকে মাকে নিয়ে এসেছেন শেখ সাদিক। সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে এসএসসি পাস করেছেন তিনি। দুই দফায় আবেদন করার পর তাকে উত্তরার মাইলস্টোন কলেজে মনোনীত করা হয়েছে। তিনি ধানমন্ডির বাসিন্দা হওয়ায় সেখানে ভর্তি হতে আগ্রহী নন। এ কারণে সেটি বাতিল করে নতুন করে অন্য কলেজে আবেদন করতে ঢাকা বোর্ডে এসেছেন।

সাদিক বলেন, ‘আমার বন্ধুরা আমার চাইতে কম নম্বর পেয়েও ভালো কলেজে ভর্তি হয়েছে। অথচ আমি দুই দফায় আবেদন করে আমাকে বাসা থেকে অনেক দূরে একটি কলেজে মনোনীত করা হয়েছে। সেখানে আমি ভর্তি হব না। এর সমাধান করতে মাকে নিয়ে বোর্ডে এসেছি।’

ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বলছেন, নির্দিষ্ট কলেজে ভর্তি হতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ছেলেমেয়েদের সেটা পছন্দ না-ও হতে পারে। আমরা ভর্তি বাতিল করতে চাচ্ছি কিন্তু পারছি না। তাহলে আমরা কি করব। অনলাইনে ভর্তি বাতিল না হলে আরেকটা সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। আর শিক্ষকরা বলছেন, আবেদন শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের ভর্তি সহায়ক কাউন্সেলিং করানো জরুরি। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড বলছে, নিজেদের অপরিণত সিদ্ধান্তের কারণেই ভুগছে শিক্ষার্থীরা।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, এরা অহেতুক শিক্ষা বোর্ডে ভিড় করছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ ভর্তি নিশ্চিত করলে তাহলে ভর্তি বাতিল করার সুযোগ নেই। বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, আগের থেকে বোর্ড অথরিটি গণমাধ্যমের সাহায্যে এবং বিভিন্নভাবে বোঝাতো তাহলে কোনো সমস্যা হতো না। সবাই ভর্তি হতে পারবে কেউ বাদ যাবে না।

"