দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ

নারায়ণগঞ্জে রেললাইনে অবৈধ দোকানপাট

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

আব্দুল আলীম, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ শহরের ১নং রেলগেট থেকে ২নং রেলগেট পর্যন্ত রেললাইনের দুইপাশের সামান্য ফাঁকা জায়গাতে চৌকি বসিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পসরা সাজিয়ে বসেছেন। বছরের পর বছর ধরে তারা রেলওয়ের জায়গা দখল করে একটি চক্রকে চাঁদা দিয়ে এভাবে ব্যবসা করে যাচ্ছেন। কিন্তু অতিরিক্ত জায়গা না থাকায় রেললাইনের ওপরে দাঁড়িয়েই কেনাকাটা করতে হয় ক্রেতাদের। এ ছাড়া রেললাইনের ওপর দিয়েই চলাচল করতে হয় পথচারীদের। এতে বিপত্তি ঘটে। যখন ট্রেন আসে, তখনি বাধে হুলস্থুল। ক্রেতা-বিক্রেতা পথচারী নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটতে থাকে। প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা, প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তারপরেও রেলওয়ে কর্র্র্র্তৃপক্ষ উদাসীন। রেললাইনের পাশের এই অবৈধ বাজার বা দোকানদারদের উচ্ছেদে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে হতাহতের সংখ্যা রেড়েই চলেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভয়াবহ অবস্থা। রেললাইনের দুইপাশে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বাজার। কাঁচা সবজি, শুঁটকি, ফল, মসলা, কাঁচের তৈজসপত্রসহ সব কিছুই বিক্রি করা হচ্ছে এখানে।

রেললাইনের পাশে দোকানগুলো এমনভাবে বসানো হয়েছে যে, ট্রেন আসলে সঙ্গে সঙ্গে রেললাইন থেকে সরে আসার কোনো উপায় নেই। সারি সারি দোকান পার হয়ে তারপর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয় ক্রেতা ও পথচারীদের। ট্রেন আসার পর হাতে পর্যাপ্ত সময় না থাকলে রেললাইনের ওপর থেকে সরতে পারছেন না ক্রেতা ও পথচারীরা। আর এতেই ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রথমত এসব অবৈধ দোকানের জন্য দেখা যাচ্ছে না ট্রেন। আবার ট্রেন খুব কাছে আসলে দুই পাশের সারি সারি দোকানের জন্য রেল লাইন থেকে সরে নিরাপদ জায়গায় যেতে পারছে না মানুষ। আর এভাবেই ঘটে চলেছে হতাহতের ঘটনা। সর্বশেষ গত শনিবার মৃত্যু ঘটে নারায়ণগঞ্জে ছেলের বাসায় বেড়াতে আসা মঞ্জুরুল ইসলামের (৫০)। দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রসঙ্গে সেখানকার এক ব্যবসায়ী জানান, ‘যখন ট্রেন আসে তখন খুব সতর্ক থাকতে হয়। ট্রেন আসলে আমরা চিল্লায়া অন্য ব্যবসায়ীগো জানাই। ট্রেন আসলে দুরে সইরা যাই। এখন আর ভয় লাগে না। এখন অভ্যাস হইয়া গেছে।’

বাজার করতে আসা ফাহিমা বেগম জানান, বাজার ভেতরে, এখানে সব পাওয়া যায়। তাই আর ভেতরে যাই না। ঝুঁকি থাকলেও সবসময় এখান থেকেই কেনাকাটা করা হয়। প্রতিনিয়ত এমন দুর্ঘটনা ঘটার পরেও কর্তৃপক্ষকে দেখা যাচ্ছে না কোনো পদক্ষেপ নিতে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে দেখা যাচ্ছে উদাসীন। একে অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে নিজেদের দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন সবাই।

১নং রেল গেট থেকে ২নং রেল গেট পর্যন্ত রেললাইনের দুই পাশের অবৈধ বাজার উচ্ছেদের ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশনের কর্মরত স্টেশন মাস্টার গোলাম মোস্তফার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জে রেলওয়ের যত সম্পত্তি আছে তা দখলমুক্ত করার জন্য আমাদের বিভাগীয় অফিস অর্থাৎ ঢাকা থেকে দেখা হয়। এ প্রসঙ্গে আমাদের কিছু করার নেই। তাছাড়া ব্যবসায়ীদের সকালে উচ্ছেদ করলে বিকেলে আবার আসে। আবার বিকেলে উচ্ছেদ করলে রাতে এসে আবার উপস্থিত হয়। তাদের সচেতনতা ছাড়া উচ্ছেদ সম্ভব না।

উচ্ছেদ অভিযান সম্পর্কে জানতে নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ পরিদর্শক আবদুল্লাহ জানান, অবৈধ স্থাপনা আছে তা আমরা জানি। কিন্তু স্টেশন মাস্টার যদি আমাদের অভিযোগ না করে তবে আমরা তো আভিযান পরিচালনা করতে পারি না। স্টেশন মাস্টার যদি আমাদের কাছে অভিযোগ করেন যে, রেলওয়ের এই সম্পত্তি দখল করা হয়েছে তাহলে আমরা ম্যাজিস্ট্রেটসহ সেখানে অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে পারব। কিন্তু আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসছে না, তাই আমরা কিছু করতে পারছি না।

"