সংসদে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

১১ সিটিতে কর বকেয়া ৭২৯ কোটি টাকা

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

সংসদ প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন ১১ সিটি করপোরেশনের কাছে সরকারের বকেয়া গৃহ করের পরিমাণ ৭২৯ কোটি টাকার বেশি বলে সংসদকে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, বকেয়ার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বকেয়া রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের। গতকাল রোববার ঢাকা-১১ আসন থেকে নির্বাচিত সরকারদলীয় এমপি এ কে এম রহমতুল্লাহর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এ তথ্য জানান। বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অধিবেশন শুরু হয়।

মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে ১১টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। এসব সিটির অধীন অসংখ্যা আবাসিক ভবন রয়েছে। সেগুলো থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করে থাকে সিটি করপোরেশন। কিন্তু হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের খুব বেশি সাফল্য নেই নগর কর্তৃপক্ষের।

সংসদে দেওয়া মন্ত্রীর তথ্যে দেখা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটির বকেয়া গৃহ করের পরিমাণ ৯৭ কোটি টাকা। সেখানে ঢাকা উত্তর সিটিতে বকেয়ার হার ২৪০ কোটি ৭২ লাখ ৪১ হাজার ৮৬১ টাকা। একইভাবে চট্টগ্রাম সিটিতে ২০৩ কোটি ৫৪ লাখ ২৫ হাজার ৪২৩ টাকা, রাজশাহীতে ৮ কোটি ৭৯ লাখ ৪৫ হাজার ৯৭৬, খুলনায় ৬৬ কোটি ৮৫ লাখ ৯ হাজার ৪৫০, সিলেটে ৩২ কোটি ৬১ লাখ ২১ হাজার ৮২৭, বরিশালে ৯ কোটি ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬১, নারায়ণগঞ্জে ২০ কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার ২৩০, কুমিল্লায় ৯৭ লাখ ৯১ হাজার ৭১১, রংপুরে ১০ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ১৫০ এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ৩৭ কোটি ৬৮ লাখ ৬৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। ১১ সিটিতে মোট বকেয়া গৃহ করের পরিমাণ ৭২৯ কোটি টাকার বেশি।

মন্ত্রী বলেন, বকেয়া কর আদায়ের জন্য নগর কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপও নিয়েছে। এর মধ্যে প্রতিটি গৃহে বিলবহি প্রেরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া গৃহ মালিকদের সচেতন করার জন্য মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির জন্য অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি বড় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করা হচ্ছে।

সব উপজেলা শতভাগ স্যানিটেশনের আওতায় আসেনি : মৌলভীবাজার-২ আসনের এমপি মো. আবদুল মতিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে কোনো থানা-উপজেলা এখনো শতভাগ স্যানিটেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। শতভাগ স্যানিটেশন সম্পন্ন না হওয়া এসব থানা-উপজেলায় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে দেশে ল্যাট্রিন ব্যবহারকারী পরিবারের সংখ্যা ৯৯ শতাংশ; যার মধ্যে ৬১ শতাংশ মানুষ উন্নত ল্যাট্রিন, ২৮ শতাংশ মানুষ যৌথ ল্যাট্রিন এবং ১০ শতাংশ মানুষ এখনো অনুন্নত ল্যাট্রিন ব্যবহার করেন। ঢাকায় ৩০ নগরবিদের বিপরীতে আছেন দুইজন : চট্টগ্রাম-১১ আসনের এমপি সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, আয়তন ও জনসংখ্যা ঘনত্বের বিবেচনায় রাজধানী ঢাকায় নগর পরিকল্পনারবিদের চাহিদা রয়েছে ৩০ জন। কিন্তু এই চাহিদার বিপরীতে কর্মরত আছেন দুইজন; যার মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে একজন এবং দক্ষিণ সিটিতে একজনসহ মোট দুইজন। মন্ত্রী বলেন, আয়তন ও জনসংখ্যা ঘনত্বের চাহিদা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সংখ্যাক নগর পরিকল্পনাবিদের পদ সৃজনের জন্য ইতোমধ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

"