সিলেটে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

রেলের ৩ স্টেশন পরিত্যক্ত

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

এম. এ রউফ, সিলেট

সিলেটে সিলেট-ছাতক রেলওয়ে সেকশনের খাজাঞ্চীগাঁও, সৎপুর ও আফজালাবাদ স্টেশন ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে । নিয়ম রক্ষায় ট্রেন যাতায়াত করলেও দীর্ঘদিন যাবৎ খাজাঞ্চীগাঁও ও আফজালাবাদ স্টেশনটি রয়েছে তালাবদ্ধ। এই দুটি স্টেশনের জরাজীর্ণ ভবনটি দৃশ্যমান হলেও প্রায় ১৫ বছর পূর্বে সৎপুর স্টেশনের পুরো অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যায়। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণকে। এছাড়া ট্রেনে বখাটেদের উৎপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন যাত্রীরা।

এদিকে, ট্রেনের পরিচালক অনিকুর রহমানের বিরুদ্ধে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ও রশিদ ছাড়া ভাড়ার টাকা আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, সিলেট হতে ছাতক পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিঃমিঃ দীর্ঘ রেলপথটি ১৯৫৬ সালে নির্মাণ করা হয়। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ট্রেন যাত্রীদের সেবায় একনিষ্ট ছিল। ট্রেনে প্রায় ৪৫ মিনিটে ছাতক হতে সিলেট পৌঁছতে পারতেন যাত্রীগন। সিলেট হতে ছাতক পৌছতে ট্রেন পতিমধ্যে তিনটি স্টেশনে (আফজালাবাদ, সৎপুর ও খাজাঞ্চীগাঁও) যাত্রাবিরতি করে।

ছাতক, আফজালাবাদ, সৎপুর ও খাজাঞ্চীগাঁও তিনটি রেলস্টেশনের পাশ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার যাত্রী সিলেট শহরে পৌঁছতে একসময় এই ট্রেনই ছিল যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। ১৯৮৫ সাল থেকে ওই রেলপথে মন্দাভাব দেখা দেওয়ার পর থেকে নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেন যাত্রা শুরু করে না, যার কারণে যাত্রীসাধারণ সময়মত গন্তব্যে পৌঁছতে পারেন না।

প্রায় ১৫ বছর পূর্বে সৎপুর রেলওয়ে স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর স্টেশনের মূল্যবান মালামাল অযতেœ ও অবহেলায় নষ্ট হতে থাকে। একপর্যায়ে এই স্টেশনের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়। দেখলে মনে হয়না একসময়ে এখানে সৎপুর রেলওয়ে স্টেশন ভবন ছিলো। অপর দুটি স্টেশনের (খাজাঞ্চীগাঁও ও আফজালাবাদ) প্লাটফর্ম ও অফিসের অবস্থা বর্তমানে খুবই জরাজীর্ণ। এখানে নেই কোন স্টেশন মাস্টার, নেই কোন টিকেটের ব্যবস্থা। এমনকি স্টেশনে কোন কর্মকর্তা কর্মচারীও নেই। তবে প্রতিদিন দুইবার ট্রেন চলাচল করলেও দীর্ঘদিন যাবৎ তালাবদ্ধ রয়েছে এই স্টেশনটি। অযতনে আর অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ভবনটি। ধীরে ধীরে হারাচ্ছে স্টেশনের অস্তিত্ব।

শিল্প নগরী ছাতক থেকে চুনা পাথর, সিমেন্ট, বালু, বোল্ডার ও ভাঙা পাথর দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয় রেলপথে। বর্তমানে এ লাইনের বেহাল দশা। ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছে ট্রেন। অকেজো ,মেয়াদ উর্ত্তীণ বগি, পর্যাপ্ত পাথরের অভাব এবং যথাসময়ে প্রয়োজনীয় মেরামত না করায় এ রোডে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন শুকনো মৌসুমে লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা কম ঘটলেও বর্ষা মৌসুমে অহরহ ট্রেন লাইনচ্যুত হয়।

এছাড়া সিলেট রেলস্টেশনের পুরনো প্লাটফর্মে মাদকসেবী ও চিনতাইকারীদের ভয়ে যাত্রীরা নিরাপত্তাহীণতায় ভোগেন। স্থানীয়রা জানান, সিলেট-ছাতক রেলপথকে উন্নত ও যথাসময়ে ট্রেন সার্ভিস চালুর দাবিতে অনেকবার ট্রেন অবরোধ করা হয়েছে। বহুবার রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করলেও কোন ফল আসেনি।

সিলেট-ছাতক রেললাইনের অবস্থার উন্নতি, পর্যাপ্ত ওয়াগণ সরবরাহ, বন্ধ স্টেশনগুলি চালু ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে যাত্রীগন সড়ক পথের চেয়ে রেলপথেই যাতায়াত করতে বেশী আগ্রহী হবেন। সরকার এই রেললাইন ও স্টেশনের সংস্কার এবং আধুনিকায়নে এগিয়ে আসলে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, টিক তেমনি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানটি।

সিলেট রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, জনবল সংকট থাকায় ওই তিনটি স্টেশন (খাজাঞ্চীগাঁও, সৎপুর ও আফাজালাবাদ) বন্ধ রয়েছে। সরকার চাইলে এসব স্টেশনগুলিতে লোকবল নিয়োগ দিয়ে আবারো কার্যক্রম শুরু করতে পারেন।

"