১৫ বছরেও শেষ হয়নি দুদকের তদন্ত!

প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৮, ০০:০০

শরীফুল রুকন, চট্টগ্রাম

নোটিস অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে সম্পদের তথ্য না দেওয়ায় ভ্যাট পরিদর্শক শাহাবুদ্দিন আহাম্মদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুর্নীতি দমন ব্যুরো। ২০০৩ সালের ১ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানায় মামলাটি দায়ের হয়েছিল। এরপর দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত হলে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু প্রায় ১৫ বছরেও এই মামলার তদন্ত শেষ করতে পারেনি দেশের দুর্নীতি দমনের দায়িত্বে থাকা সংস্থাটি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দুদক চট্টগ্রামের পরিচালক মো. আকতার হোসেন বলেন, দুদকের কিছু মামলা আছে, যেগুলো দীর্ঘ সময়েও তদন্ত শেষ হচ্ছে না। আসামিরা উচ্চ আদালতে রিট করে মামলাগুলো বছরের পর বছর স্থগিত করে রাখছে। এই প্রবণতার ফলে তাদের আইনের আওতায় আনা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হচ্ছে।

তিনি বলেন, তবে উচ্চ আদালতে রিট করে আসামিরা যে সব মামলার তদন্ত স্থগিত করছে, সে সব মামলায় দুদক পরে আপিল, রিভিশন করে থাকে। দুদকের আবেদন উচ্চ আদালতে মঞ্জুর হলে আবার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে সেসব মামলার তদন্ত শুরু করা হয়।

অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন আহাম্মদ ২০০৩ সালে মামলার সময় কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, চট্টগ্রামে ভ্যাট পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার বাঁশপাড়া গ্রামের মৃত মকবুল আহমেদের ছেলে। আসামির বর্তমান অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ দিতে পারেননি দুদক কর্মকর্তারা। অভিযোগের বিষয়ে জানতে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে শাহাবুদ্দিন আহাম্মদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

দুদক সূত্র জানায়, ২০০২ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর প্রাথমিক অনুসন্ধানে শাহাবুদ্দিন আহাম্মদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের সত্যতা পাওয়া যায়। বিষয়টি তখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানানো হয়। এরপর ২০০৩ সালের ২ আগস্ট সাক্ষরিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক চিঠিতে শাহাবুদ্দিনের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ প্রেক্ষিতে নির্ধারিত ছকে সম্পদের তথ্য জমা দিতে শাহাবুদ্দিনকে নির্দেশনা দিতে ২০০৩ সালের ১০ আগস্ট আদেশ জারি করে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর সদর দফতর। সম্পদের তথ্য প্রদানের নোটিসটি একই বছরের ২৮ আগস্ট শাহাবুদ্দিনকে পৌঁছে দেন ব্যুরোর কর্মকর্তা ফজলুল করিম মজুমদার। নিয়ম অনুযায়ী নোটিস গ্রহণের ৪৫ দিনের মধ্যে জ্ঞাত আয়ের যাবতীয় হিসাব জমা দিতে হয়।

মামলার নথিপত্র দেখে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদের তথ্য জমা না দিয়ে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন শাহাবুদ্দিন আহাম্মদ। এ কারণে ১৯৫৭ সালের দুর্নীতি দমন আইনের (অ্যাক্ট নং ২৬) ৪ (২) ধারায় শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করেন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পরিদর্শক চৌধুরী এম এন আলম। ২০০৩ সালের ১ নভেম্বর মামলাটি দায়েরের পর দুদকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা তদন্ত করেন মামলাটি। এ সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করা দূরের কথা আসামিও গ্রেফতার হয়নি।

মামলাটি তদন্তের অগ্রগতি স্বশরীরে হাজির হয়ে জানানোর জন্য ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর দুদকের তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয় আদালত। এ প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির হয়ে তদন্ত শেষ না হওয়ার ব্যাপারে লিখিত ব্যাখ্যা দেন সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক জাফর আহমেদ।

এতে তিনি লিখেছেন, ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর এক অফিস আদেশে তাকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর আদালতে ব্যাখ্যা দেওয়ার দিন ৭ ফেব্রুয়ারি মামলার নথি বুঝে পেয়ে তদন্তভার গ্রহণ করেন তিনি। দুর্নীতি দমন আইনে তদন্তের সময়সীমা ১৮০ কার্যদিবস রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন বলেও আদালতকে জানান দুদক কর্মকর্তা জাফর আহমেদ।

দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছরেও এই মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ার কারণ সম্পর্কে জাফর আহমেদ আদালতকে লিখিতভাবে জানান, ‘মামলাটি উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন (৬১৪৮/২০০৩) মূলে দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল। তাই আগের তদন্ত কর্মকর্তারা কাজ শেষ করতে পারেননি। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।’ তবে গতকাল সোমবার পর্যন্ত এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দুদক জমা দেয়নি বলে আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছে।

মামলা অগ্রগতি বিষয়ে বিষয়ে জানতে গতকাল সোমবার দুপুরে দুদকের সহকারী পরিচালক জাফর আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়, প্রসঙ্গ শুনে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যস্ত আছি এখন। পরে এ বিষয়ে কথা বলব।’

 

"