খুলনায় জমজমাট ঈদবাজার

প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৮, ০০:০০

খুলনা প্রতিনিধি

শিল্প, বন্দর ও বিভাগীয় শহর খুলনায় ক্রেতাদের ভিড়ে ঈদের বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। বিকিকিনি নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত নগরীর বিপণী বিতানগুলো। তীব্র যানজট উপেক্ষা করে তরুণ-তরুণীরা পছন্দের পোশাকের খোঁজে ছুটছেন অভিজাত মার্কেটগুলোতে। শিশু-কিশোর আর সাধারণ মানুষরাও বাদ যাচ্ছেন না এ থেকে।

এদিকে অভিজাত টেইলার্স থেকে শুরু করে দর্জি বাড়িগুলোরও দম ফেলবার ফুরসত নেই। শেষ মুহূর্তে কাস্টমারের চাপে প্রচ- ব্যস্ততায় রাত-দিন পার করছেন দর্জি শ্রমিকরা। অধিকাংশ টেইলার্স ২০ রমজানের পর থেকে নতুন করে অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

খুলনায় এবার তরুণীদের ঈদের পোশাকে ভারতীয় হিন্দি সিনেমা ও টিভি সিরিয়ালের নায়িকাদের ব্যবহৃত পোশাকের খুব একটা চাহিদা নেই। এবারের ঈদে তরুণীদের মনে সে জায়গাটি দখল করেছে দেশি ভ্যারাইটিসের পোশাক। এ সব পোশাকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চলছে টু পার্ট ও প্রস্তুর থ্রি পিস। এছাড়া এবারের ঈদে তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে লং থ্রিপিস জিনাম, গঙ্গা, বিনয় ফ্যাশন, ইস্তা, দিল্লি বুটিক্স প্রভৃতি। এসব থ্রি পিস ৩ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

অবশ্য ক্রেতাদের অভিযোগ, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর পোশাকের দাম বেশি। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি এবার উচ্চবিত্ত পরিবারের লোকজন ঈদের বাজার করতে পাশের রাষ্ট্র ভারতের কলকাতায় যাচ্ছে। সে কারণ উচ্চবিত্তদের তুলনায় মার্কেটগুলোতে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারাদেরই ভিড় বেশি হচ্ছে। নগরীর মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে নগরীর সবচেয়ে অভিজাত বিপণী বিতান ‘খুলনা নিউ মার্কেট, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মার্কেট, রেলওয়ে মার্কেট, হ্যানিমান মার্কেট, খুলনা বিপণী বিতান, খুলনা শপিং কমপেক্স, আলো সুপার মার্কেট, জলিল মার্কেট, আক্তার চেম্বার, এশা চেম্বার, দরবেশ চেম্বার, আড়ং, সেফ এন সেভ, ফ্যাশন হাউজ অঞ্জনস, ইসট্যাসি, ক্যাটস আই, ইজি প্রভৃতি। এগুলোর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে ডিজাইন করা বুটিক-বাটিকের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশ।

নগরীর সবচেয়ে বড় পোশাক কেনাকাটার স্থান নিউমার্কেট। ফ্যাশনপ্রিয়দের ঈদের পোশাকের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে এ মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে শোভা পাচ্ছে মনকাড়া ডিজাইনের বাহারি নামের পোশাক। বিশেষ করে তরুণী ও বাচ্চাদের পোশাকের ক্ষেত্রে এ মার্কেটের দোকানগুলো ঈদকে সামনে রেখে নিত্যনতুন ডিজাইনের সমাহার ঘটাচ্ছে। দোকানীদের মতে ঈদের দু’-তিন আগেই তাদের সব পোশাক বিক্রি হয়ে যাবে। ঈদের হিট কালেকশন হিসাবে এ দোকানে রয়েছে, বিনয়ের খান জর্জেটের ওপর কাজ করা থ্রিপিস। এটি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে। থ্রি পিস রাখি ৩ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা, বর্ষা ৩ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা, হিরার সিল্ক সাড়ে ৪ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা এবং ডাবল পার্ট থ্রিপিস সাড়ে ৩হাজার টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

নিউ মার্কেটেন আমিন গার্মেন্টেসে বাচ্চাদের পোশাকের আধিক্য বেশি। এ সব পোশাকের মধ্যে বেবি স্কার্ট ১৫শ’ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা, ফ্রক ১৫শ’ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা, সুলতান সুলাইমান ও হুররম ১৫শ’ টাকা তেকে ২ হাজার টাকা, ওয়েস্টার্ন ১৮শ’ টাকা থেকে ৩৫শ’ টাকা, কটন ফ্রক ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকা, লং ফ্রক ৩৫শ’ টাকা থেকে ৫হাজার টাকা, লেহেঙ্গা ২৫শ’ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা, কিডস গেঞ্জি ১২শ’ টাকা থেকে ১৮শ’ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। আমিন গার্মেন্টেসের কর্ণদার মো. আমিন বলেন, গত বছরের ঈদের তুলনায় এবারের ঈদে বিক্রি ভালো হচ্ছে। তবে এবারের ঈদে পোশাকের দাম বেশি বলে জানান তিনি।

এবারের ঈদ বাজারে নারীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারতীয় শাড়ি। এর মধ্যে আছে সাউথ বেনারশী, জর্জেট, সিল্ক বুটিক্স, ট্রাডিশনাল প্রভৃতি। এসব শাড়ি ৪ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

পছন্দের পোশাকটি কেনার জন্য তরুণীদের পাশাপাশি তরুণরাও ঘুরপাক খাচ্ছে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে। তরুণদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পাঞ্জাবি, কুর্তা, ফতুয়া, টি-শার্ট, গেঞ্জি, শার্ট-প্যান্টসহ দেশি-বিদেশি হরেক রকম পোশাক। ফুল হাতা শার্টের তুলনায় এবার চাহিদা বেড়েছে হাফ হাতার বিভিন্ন কাটিংয়ের শার্ট। ফুল প্যান্টের তুলনায় বেড়েছে কোয়ার্টার প্যান্টের চাহিদা। ছেলেদের এসব পোশাকের দাম সাতশ’ টাকা থেকে শুরু করে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত।

দেশীয় পাঞ্জাবির মধ্যে রয়েছে যোগী, খালেক কোম্পানি, জে এস ক্রাফট, অঞ্জনসহ দোপীয়ান, সিল্ক, সিল্ক কটন, সুতির পাঞ্জাবি, শেরওয়ানী প্রভৃতি। আর ভারতীয় পাঞ্জাবির মধ্যে খান ও কুশালের পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি। এসব পাঞ্জাবির মূল্য ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। আবার শর্ট পাঞ্জাবি ১৫শ’ টাকা থেকে শুরু করে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম রয়েছে। তবে এবার ঈদে সুতির ওপর এমব্রয়ডারি বা প্রিন্টের পাঞ্জাবির চাহিদা বেশ। এগুলোর দাম ১ হাজার টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত।

নগরীর রেলওয়ে সুপার মাকের্টের অলোক গার্মেন্টসের অলোক সাহা বলেন, ‘আমাদের মার্কেটের ক্রেতারা সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের। এবার ঈদে বিক্রি ভালোই হচ্ছে।

"