সিলেটজুড়ে অবৈধ স্ট্যান্ড

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

এম রউফ, সিলেট

সিলেট নগরের দক্ষিন সুরমা থেকে এয়ারপোটর্, শাহ জালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাহ পরান গোটা সিলেট নগর অবৈধ স্ট্যান্ডের দখলে। এতে করে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারিরা। আর যানজট তো লেগেই থাকে।

নগরর ব্যস্ততম কোর্টপয়েন্টে ১০টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা দাঁড়ানোর মৌখিক অনুমতি দেয় সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। এ সংক্রান্ত সাইনবোর্ড ঝুলানো থাকলেও সেটি এখন লাপাত্তা। দশের বদলে শতাধিক অটোরিকশা ও হিউম্যান হলারের স্ট্যান্ড এখন কোর্টপয়েন্ট। সরজমিনে সিলেট নগর ঘুরে এদৃশ্য দেখা যায়। নগরে আনাচে-কানাচে রাস্তায় হয়েছে অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ড, হিউম্যান হলার ও লাইটেস স্ট্যান্ড। এগুলো উচ্ছেদে উদ্যোগ নেই পুলিশ ও সিসিকের। ফুটপাত দখল করে আছে হকার আর রাস্তার দখলে অটোরিকশা। এ ছাড়া যাত্রী উঠা-নামানোর প্রতিযোগিতায় দখল হয় রাস্তার অর্ধেক। যানবাহন পাশ কাটিয়ে চলতে গিয়ে প্রতিদিন দুর্ঘটনার শিকার হন পথচারিরা। সিলেটের যত্রতত্র অবৈধ স্ট্যান্ড বসায় যান চলাচলে এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে অবৈধ স্ট্যান্ড ও ফুটপাত সরানোর নির্দেশে পুলিশ ও সিসিকের টানাপোড়েন দেখা দেয়। এ কারণে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে আদালতেও যেতে হয়েছে। একাধিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২২ হাজার রেজিস্ট্রেশনভুক্ত অটোরিকশার পাশাপাশি এ যাবতকালে রেজিস্ট্রেশনবিহীন কমপক্ষে ১০ সহস্রাধিক অটোরিকশা সিলেটের বিভিন্ন সড়কে চলমান রয়েছে। যেগুলো পুলিশকে টোকেনের বিপরীতে টাকা দিয়ে নগর ও শহরতলী কেন্দ্রিক চলাচল করে। এতে করে সিলেটে যানবাহনের চাপ বেড়েই চলেছে। অবৈধভাবে চলাচলকারী অটোরিকশার হিসাব করা হয় না উল্লেখ করে বিআরটিএ সিলেটের উপ-পরিচালক কেএম মাহবুব বলেন, বর্তমানে সিলেটে প্রায় ২২ হাজার রেজিস্ট্রেশনভুক্ত অটোরিকশা (থ্রি হুইলার) রয়েছে।

দক্ষিণ সুরমা, সুরমা মার্কেট, ক্বীন ব্রিজের দক্ষিণ প্রান্ত, তালতলা, কাজিরবাজার সেতুর দুই প্রবেশদ্বার, বন্দরবাজার, সুবহানিঘাট, নাইওরপুল, রিকাবিবাজার, মেডিকেল, আম্বরখানা, চৌহাট্টা ভিআইপি সড়কে, মাজার গেইট, এয়ারপোর্ট রোড, দর্শন দেউড়ি, মদিনা মার্কেট, উপশহর পয়েন্ট, শিবগঞ্জ, টিলাগড় এমনকি নগরীর ধোপাদিঘীর পাড় খোদ অর্থমন্ত্রীর বাসা হাফিজ কমপ্লেক্সের বিপরীতে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্ট্যান্ড।

সিলেট জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাকারিয়া আহমদ বলেন, শহরের বাইরে থেকে আসা গাড়িগুলো কোর্ট পয়েন্টসহ একাধিক পয়েন্টে যাত্রী উঠানামা করায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ রাখা যায় না। তবে সিসিক থেকে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড দিলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে বলে জানান তিনি। সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ লালা বলেন, ফুটপাত উচ্ছেদ ও যানজট নিরসনে অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে আদালতে মামলা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় অনেকে জেলও খেটেছেন। কিন্তু কাঙ্খিত ফলাফল এখনো আসেনি। যে কারণে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে। অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে পুলিশ প্রশাসনের নিরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। নগর ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নিকোলিন চাকমা বলেন, নগর এলাকায় কোনো স্ট্যান্ড বৈধ না। কিন্তু চালকরা বলে সিসিক তাদের মৌখিক অনুমতি দিয়ে রেখেছে। এ সমস্যা দূর করতে যতদ্রুত সম্ভব একটি জায়গায় নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড প্রয়োজন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেটে এখন সিএনজি অটোরিকশা আধিক্য বেড়েছে। নগরে কত সংখ্যক গাড়ি চলাচল করতে পারে-এনিয়ে বিআরটিএসহ আরটিসির সভায় বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

"