বাজেটে রাজশাহীর জন্য বাড়তি বরাদ্দ দাবি

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

রাজশাহী ব্যুরো

‘রাজশাহী এখন অনেক এগিয়েছে। তবে শিল্প ও কলকারখানা সম্প্রসারণে এগোতে পারচ্ছে না। ধীরগতির যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে শিল্প উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসছেন না। এ অবস্থায় রাজশাহী-ঢাকা বিরতিহীন ট্রেন সার্ভিস চালু খুবই জরুরি।’ আসন্ন জাতীয় বাজেটে রাজশাহীর জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশকালে এ কথা বলেছেন বক্তারা। সামাজিক সংগঠন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের মানববন্ধনে গতকাল রোববার সমাবেশে রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা রাজশাহীবাসীর উন্নয়নে আগামী বাজেটে অতিরিক্ত বরাদ্দের এ দাবি জানান। সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মো. লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

আগামী জাতীয় বাজেটে রাজশাহীর উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে অতিরিক্ত বরাদ্দের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা বলেন, বাড়তি অর্থ বরাদ্দ দিয়ে চলতি অর্থ বছরেই রাজশাহী-ঢাকা বিরতিহীন ট্রেন সার্ভিস চালু, আব্দুলাপুর-রাজশাহী-রহনপুর ডুয়েল গেজ রেল লাইন নির্মাণ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন, ভুখন্ড রক্ষায় স্থ’ায়ী নদী তীর প্রতিরক্ষা প্রকল্প গ্রহণ, কৃষিভিত্তিক ইপিজেড প্রতিষ্ঠা, টেক্সটাইল মিলসহ সকল বন্ধ কলখানা চালুর পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, নগরীর একাধিক মাধ্যমিক স্কুল সরকারিকরণ, ক্রিকেট টেস্ট ভেন্যু স্থাপন, পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ, পদ্মা নদীর চরে সরকারিভাবে অর্থনৈতিক জোন স্থাপন, পদ্মা নদীর রাজশাহী-চাঁপাই ও চারঘাট-বাঘা ড্রেজিং প্রকল্প গ্রহণ করে নদীপথে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা চালুকরণ, আম, টমেটোসহ অন্যান্য ফল সংরক্ষণে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং নারী শিল্পোদ্যোক্তাদের বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং রাজশাহীতে একাধিক সিএনজি স্টেশন স্থাপন, বসতবাড়ি ও শিল্পে বন্ধ গ্যাসের সংযোগ পুনরায় চালুর দাবিও করেন বক্তারা।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, মহানগর ওয়ার্কার্স পাটির সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক দেবু, জাতীয় পার্টির নেতা সালাউদ্দিন মিন্টু, জাসদ নেতা শাহরিয়ার রহমান, বাসদের নগর সমন্বয়ক আফজাল হোসেন, সাংবাদিক হাসান মিল্লাত, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাবলু, আবু সালেহ মো. ফাত্তাহ, রাজশাহীর বারের সহসভাপতি এন্তাজুল হক বাবু, মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান আলী বরজাহান, রাজশাহী চেম্বারের সাবেক পরিচালক হারুনার রশিদ, প্রগতিশীল নাগরিক পরিষদের সদস্য সচিব শাহ মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন, সংস্কৃতিকর্মী মনিরা রহমান মিঠি, নারী শিল্প উদ্যোক্তার চেয়ারম্যান সেলিনা বেগম, লাইফস্টক সোসাইটির নেতা এনামুল হক, মহিলা পরিষদের নেত্রী রেহেনা আলী খান, সাংবাদিক আফরোজ খান হেলেন, জেলা লোকমোর্চার সভাপতি অধ্যাপক আলাউদ্দিন আল আজাদ, প্রকৌশলী খাজা তারেক, রাজশাহী বেনেতি ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি মহেষ চন্দ্র সরকার, গেরিলা বাহিনীর সদস্য মিনহাজ উদ্দিন মিন্টু, জাতীয় আদিবাসী নেতা সুভাষ চন্দ্র হেমব্রন, বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি অশোক কুমার, দিগন্ত প্রসারীর আব্দুল মতিন, কে এম জুবায়েদ হোসেন জিতু ও জাহিদ হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

"