চট্টগ্রামে পাহাড়ে বসতি উচ্ছেদে প্রশাসনকে বাধা

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে পাহাড়ে অবৈধ বসতি উচ্ছেদে অভিযান চালাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছে প্রশাসন। ফলে অভিযান শেষ না করেই ফিরে আসতে হয়েছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতকে। গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় নগরীর জিলাপির পাহাড়ের পাদদেশে মতি ঝর্ণা এলাকায় অভিযান শুরু হয়।

এর আগে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে পাহাড়ে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের উচ্ছেদের বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানানো হয়। এরপর বুধবার সকালের অভিযানে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি), সদর সার্কেল আব্দুল্লাহ আল মনসুর নেতৃত্ব দেন। নগর পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস, চট্টগ্রাম ওয়াসা, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দল এতে সহযোগিতা দেয়। প্রথমে কয়েকটি ঘর উচ্ছেদ করলেও বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযান বাধার মুখে পড়ে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হয়ে অভিযানের বিরুদ্ধে সেøাগান দিতে থাকে। বিক্ষোভে নারীদের সামনে দেখা গেছে। উচ্ছেদে দায়িত্বরত পুলিশের নারী কনস্টেবলদের সঙ্গে তারা বাকবিতন্ডা করতে থাকে। এ সময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে চাইলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে অভিযান অসমাপ্ত রেখেই তারা ফিরে যায়।

পাহাড়ের খাদে বসবাসরত ফাতেমা বেগম নামে স্থানীয় এক নারী বলেন, বাসা ভাড়ার পাশাপাশি, গ্যাস বিল ও বিদ্যুৎ বিল দিয়ে এখানে থাকি। বর্ষা আসলে আমরা সতর্ক থাকি। আমাদেরকে কেন অবৈধ বলে উচ্ছেদ করছে? আমরা গরিব মানুষ। দিনে এনে দিনে খাই, আমরা এখন কোথায় থাকব?

চট্টগ্রাম সদর সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মনসুর বলেন, স্থানীয়রা জড়ো হয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রমে বাধা দেয়। জড়ো হওয়াদের মধ্যে নারীরা সামনের দিকে ছিলেন। ওই অবস্থায় জোরপূর্বক উচ্ছেদ করতে গেলে তারা আহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তিনি বলেন, আমরা পাহাড় থেকে উচ্ছেদ করি মানুষের জীবন বাঁচাতে। কারো জীবনকে শঙ্কায় ফেলতে নয়। তাই অভিযান অসম্পূর্ণ রেখেই ফিরে এসেছি। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানানো হবে। উনার সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।

এর আগে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, নগরীর ২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি স্থাপনাকারী আছে। বুধবারে অভিযানে শুরুতে মতিঝর্ণা এলাকার পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে থাকা ১৫টি বসত ঘর অপসারণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে সব পাহাড় থেকে বসতিস্থাপনাকারীদের উচ্ছেদ করা হবে।

"