উত্তরার সড়ক-মহাসড়কে খোঁড়াখুঁড়ি

ধুলায় পরিবেশ দূষণ দুর্ভোগে মানুষ

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে রাজধানীর উত্তরা এলাকার সড়ক-মহাসড়কজুড়ে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। আবাসিক এলাকায় চলছে ড্রেন উন্নয়ন কাজ। সব মিলিয়ে ধুলাদূষণে পরিবেশ। বাতাসে দূষণের মাত্রা বেড়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নাগরিকদের।

জানা গেছে, রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ইউলুপ ও মেট্রোরেলের মতো বড় প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে তেজগাঁও সাতরাস্তা থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত ইউলুপ নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। অপরদিকে মতিঝিল থেকে বাড্ডা-উত্তরা হয়ে জয়দেবপুর পর্যন্ত ইউলুপ নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর। একই সঙ্গে মেট্রোরেলেরও কাজ চলছে উত্তরা এলাকায়। বড় এই ৩ প্রকল্পেরই কাজ চলছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেই। উন্নয়ন কাজ করতে দিনের পর দিন খুঁড়ে রাখার কারণে রাস্তার পাশের মাটি গাড়ির চাকায় মিশে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। বিকল্প না থাকায় ধূলিময় পরিবেশে যাতায়াত করে নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন নাগরিকরা। কিন্তু এ জনদুর্ভোগের কোনো শেষ দেখছেন না মানুষ।

স্থানীয় নাগরিকদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খেয়াল খুশিমতো কাজ করায় অনেক স্থানে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে।

এদিকে সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বলছেন, একটি প্রকল্পের কাজের সময়সীমা বিভিন্ন মেয়াদে থাকে। ছোট প্রকল্পগুলোর মেয়াদ সর্বোচ্চ ৯ মাস। সেই নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে আশা করছেন কর্মকর্তারা।

উত্তরার স্থানীয় বাসিন্দা আ জ ম জাকারিয়া বলেন, উন্নয়ন কাজের জন্য সড়কের মধ্যে ও দুই পাশজুড়েই চলছে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। রাস্তার মাটি শুকিয়ে পুরো এলাকা ধূলিময় হয়ে গেছে। রাস্তার পাশে রাখা হয়েছে বালি। বাতাসে উড়ে তা ঢুকছে বাসাবাড়িতে। ফলে রাজধানীর এই অভিজাত এলাকায় জনদুর্ভোগ এখন চরমে।

স্থানীয়রা জানান, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে নাগরিকদের প্রতিনিয়ত নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য করতেই বড় বড় এসব প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এজন্য সাময়িকভাবে নাগরিকদের দুর্ভোগ হতে পারে। তবে দুর্ভোগ স্থায়ীভাবে নিরসন করতেই এই কাজ চলছে। সাময়িক এই দুর্ভোগ যাতে বেশি দিন স্থায়ী না হয়, মানুষ যাতে বেশি ভোগান্তির শিকার না হন, সেজন্য যত দ্রুত সম্ভব কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ডিএনসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেল) মো. সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, তেজগাঁও থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত ইউলুপ নির্মাণ প্রকল্পের কাজের মেয়াদ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর মেট্রোরেলের কাজ ২০১৯ সালের মধ্যেই শেষ করতে চায় সরকার। সেই লক্ষ্যেই কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

অপরদিকে উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরে ডিএনসিসি ও আইডিআইপির ড্রেন উন্নয়ন-নির্মাণ প্রকল্পের কাজও চলছে। এজন্য সেক্টর ১ ও ৪সহ বিভিন্ন সেক্টরের সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। নির্মাণ কাজ চলতে থাকলে যা হয়, ধুলাবালুতে আবাসিক এলাকায় বসবাস করাই দুরূহ হয়ে পড়েছে। এছাড়া অনেক সড়ক দিনের পর দিন বন্ধ রাখা হচ্ছে। সেখানকার বাসিন্দারা নিজস্ব বাহনে যাতায়াত করতে পারছেন না।

ডিএনসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (অঞ্চল-১, উত্তরা) মোঃ সাইদুর রহমান জানান, রাজধানীর জলাবদ্ধতা দূর করতেই ড্রেন উন্নয়ন কাজ চলছে। আমরা আশা করছি নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়ে যাবে।

 

"