মূল্য পরিশোধ না করে জমি দখলের অভিযোগ

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

অ্যাকোয়ার করা জমির মূল্য পরিশোধ না করে দখলে নেয়ার পাঁয়তারা করছে ঢাকেশ্বরী মন্দির কর্তৃপক্ষ। এমন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জমির মালিকরা।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে মালিকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোহাম্মদ আজম।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী আমাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আমাদের চকবাজার থানাধীন লালবাগ মৌজার ৫৫ শতক জমি উপযুক্ত বাজারমূল্যে ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে দেয়ার জন্য বলেন। আমরা তার কথায় রাজি হয়ে যাই। মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ৩০০ টাকার স্টাম্পে চুক্তি হয়। পরে জেলা প্রশাসকের দফতর থেকে ৩ ধারায় নোটিশ আসে। আমরা জবাব দেই। মোহাম্মদ আজম বলেন, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি জমির মূল্য পরিশোধের জন্য ব্যানার ও লিফলেট দিয়ে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা তাদের ব্যাংক একাউন্টে সংগ্রহ করে। ডিসি অফিস থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে জমির মূল্য পরিশোধের তাগিদ দেয়। এরপর আমাদের ৪ ধারা ও ৫ ধারার নোটিশ না দিয়ে ৬ ধারার নোটিশ পাঠায়, যা নির্দিষ্ট তারিখের একদিন পরে আমরা পাই। এখন দেখছি জমি অ্যাকোয়ার হওয়ার পর জমির মূল্য না দিয়ে ধোঁকাবাজি করে পজিশন নেয়ার জন্য ৪ ও ৫ ধারার নোটিশ না দিয়ে ৬ ধারার নোটিশ দেয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, মন্দির কর্তৃপক্ষের ধোঁকাবাজির বিষয়টি বুঝতে পেরে আমরা হাইকোর্টে রিট করি। যার নম্বর ৪৫৫/২০১৫। এরই মধ্যে মন্দির কর্তৃপক্ষ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে ১৯০৮ সালের দলিল দেখিয়ে ২০ বিঘা সম্পত্তি দাবি করে। কিন্তু ওই দলিল থেকে ভাওয়াল রাজার তিন পুত্র পূজারী হেম চন্দ্র চক্রবর্তীর পিতা পূজারী প্রতাপচন্দ্র চক্রবর্তীকে সিএস ১৬৭৯৯ খতিয়ানে এক আনা ভোগোত্তরের দলিল দেয় ঢাকেশ্বরী মাতার সেবা পূজা করার জন্য। ওই দলিলকে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের ২০ বিঘার দলিল বলে ভক্ত এবং প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে অন্যের জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। আজম আরো বলেন, আমি আইনমান্যকারী নাগরিক হিসেবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট না হয় সেজন্য সংবাদ সম্মেলনে আপনাদের মাধ্যমে সবার কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। আমাদের ক্রয়কৃত জমির সঠিক মূল্য পরিশোধ করলে আমরা ঢাকেশ্বরী মন্দিরের কাছে জমি হস্তান্তর করতে চাই।

 

 

"