হাসপাতাল-ক্লিনিকের বর্জ্য অব্যবস্থাপনায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

এম এ রউফ, সিলেট

নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়াই চলছে সিলেটের সরকারি-বেসরকারি অর্ধশতাধিক ক্লিনিক ও হাসপাতাল। এমনকি সিলেটের অধিকাংশ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার ভরসা ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও নেই নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ক্লিনিক্যাল বর্জ্য বিশেষভাবে পরিশোধন করার বিধান থাকলেও তা মানছে না হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো। তারা নির্ভরশীল সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর। সিসিক ক্লিনিক্যাল বর্জ্য সংগ্রহ করে একসঙ্গে ডাম্পিং ইয়ার্ডে ফেলছে। এতে ঝুঁকিতে রয়েছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য। যদিও সিসিকের দাবি, ক্লিনিক্যাল বর্জ্য আলাদা ইয়ার্ডে রাখা হয়। আর ক্লিনিক মালিকরা জানিয়েছেন, নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকলেও এখন আগের মতো বর্জ্য যত্রতত্র রাখা হয় না। ভিন্ন ভিন্ন পাত্রে আলাদা করে রাখা হয়। পরে তা সিসিক অপসারণ করে।

হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।

বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এসব বর্জ্যরে কারণে পানি ও বায়ুবাহিত রোগসহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে। সিলেট নগরীতে অনুমোদিত বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সংখ্যা ৭০টির কাছাকাছি। এর মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমোদন আছে ৫৪টির। মাত্র ৭টির রয়েছে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র। নামিদামি অনেক ক্লিনিক ও হাসপাতাল রয়েছে যেগুলোর ছাড়পত্র নেই। অথচ পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৯৭-এর ১ নম্বর তফসিলে বলা হয়েছে, পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়া কোনোভাবেই হাসপাতাল ও প্যাথলজিক্যাল সেন্টার গড়ে তোলা যাবে না। আর এসব প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্রের অন্যতম শর্তই হলো নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। আইন অনুযায়ী, ক্লিনিক বা হাসপাতাল স্থাপনের আগে সুই, সিরিঞ্জ, প্লাস্টিকসহ ক্লিনিক্যাল বর্জ্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অপসারণের ব্যবস্থা রাখার কথা। বিশেষ করে প্যাথলজিক্যাল তরল বর্জ্য পরিশোধনপূর্বক জীবাণুমুক্ত করে অপসারণ এবং তুলা, গজ, ব্যান্ডেজ ইত্যাদি পরিবেশসম্মতভাবে ইনসিনারেটরে পুড়িয়ে ফেলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিধান রয়েছে। কিন্তু সিলেটের হাসপাতালগুলো এসব নিয়ম মানছে না। আগে হাসপাতালের পাশে, কোনায় ও নিচে বর্জ্য রাখা হতো। এখন তা পরিবর্তন করে হাসপাতালের ভেতর পাত্রে রাখা হয়েছে। লাল, নীল ও হলুদ রঙের পাত্রে আলাদা করে মানুষের বর্জ্য, সুই-সিরিঞ্জ ও ব্যান্ডেজ রাখা হচ্ছে। কিন্তু একসঙ্গেই এসব বর্জ্য ট্রাকে বহন করছে সিসিক। রাখছেও একই স্থানে।

জানা গেছে, ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ধ্বংস করার জন্য ইনসিনারেটর ও অটোক্লেভ মেশিন না থাকায় সিসিকের সঙ্গে চুক্তি করে তা অপসারণ করাচ্ছে হাসপাতালগুলো। এজন্য সিসিককে টাকাও দিচ্ছে তারা।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যয়বহুল ও দেশের দু-একটি হাসপাতাল ছাড়া কোথাও নেই উল্লেখ করে সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক নুরুল ইসলাম খান (এন আই খান) বলেন, আমরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বর্জ্য অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছি। এজন্য বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ চলছে। সিলেটে আমরাই প্রথম সুখবর দেব।

এ প্রসঙ্গে সিসিকের কনজারভেন্সি অফিসার হানির রহমান জানান, ক্লিনিক্যাল বর্জ্য আলাদা ডাম্পিং ইয়ার্ডে রাখা হচ্ছে। সিসিক এসব বর্জ্য ধ্বংসকারী মেশিন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। পরিবেশ অধিদফতর সিলেটের পরিচালক মো. ছালাহ উদ্দিন বলেন, হাসপাতালের জন্য পরিবেশ ছাড়পত্র প্রয়োজনÑ তা অনেক মালিক জানেন না। তিনি জানান, ক্লিনিক্যাল বর্জ্যগুলো ধ্বংস না করে সরাসরি ডাম্পিং করলে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।

ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. দেবপদ রায় হাসপাতালের নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই জানিয়ে বলেন, বর্জ্যগুলো আলাদা করে রাখা হয়। প্রতিদিন সিসিকের গাড়ি এসে নিয়ে যায়।

স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রসঙ্গে জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিদিত রঞ্জন দে বলেন, সঠিকভাবে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য অপসারণ না করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে।

 

"