বাংলায় সাইনবোর্ড লেখার নির্দেশ

উত্তরের পর এবার দক্ষিণের গণবিজ্ঞপ্তি

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

হাসান ইমন

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ইংরেজিসহ অন্য ভাষায় লেখা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামফলক, সাইনবোর্ড, ব্যানার ও বিলবোর্ড বাংলায় প্রতিস্থাপনের নির্দেশ দেওয়ার পর এবার পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এরই মধ্যে ডিএনসিসি বাংলা ভাষায় সাইনবোর্ড না লেখায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। তবে ডিএসসিসি অভিযান শুরু না করলেও আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সাইনবোর্ড, ব্যানার ইত্যাদি বাংলা ভাষায় রূপান্তর না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এক আদেশে দেশের সব সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার, গাড়ির নম্বরপ্লেট, সরকারি দফতরের নামফলক এবং গণমাধ্যমে ইংরেজি বিজ্ঞাপন ও মিশ্র ভাষার ব্যবহার বন্ধ করতে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশের প্রায় চার বছর পরও সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ডে বাংলা লেখা নিশ্চিত করা যায়নি। এবারই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বিলবোর্ড, ব্যানার ও সাইনবোর্ডে বাংলা ভাষা ব্যবহার করতে পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। একইসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন অভিযানও শুরু করেছে।

রাজধানী ঢাকার বেশকিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ইংরেজি শব্দে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম রাখার প্রবণতা বেশি। এছাড়া ইংরেজিতে (রোমান হরফ) লেখা সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, নামফলকের ছড়াছড়ি। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইংরেজিমাধ্যমের স্কুল, দোকানপাট, শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ সাইনবোর্ড ইংরেজিতে লেখা। তবে সরকারি দফতরের সাইনবোর্ড বা নামফলক বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাংলায় রূপান্তর হয়ে গেছে। এছাড়া যানবাহনের ডিজিটাল নম্বরপ্লেটগুলো বাংলায় সরবরাহ হওয়ার কারণে এক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ অনেকটাই বাস্তবায়ন করা গেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং অন্তত ৫০টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই জানেন না আদালতের এ রকম আদেশের কথা। কেউ কেউ বলছেন, তাদের ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো ইংরেজিতে হওয়ার কারণে তারা ইংরেজিতেই সাইনবোর্ড তৈরি করেছেন। অথচ ট্রেড লাইসেন্স (ব্যবসা করার অনুমতি) নেওয়ার সময় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সাইনবোর্ডে বাংলা ব্যবহারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়। অতিরিক্ত একটি সিল দিয়ে ট্রেড লাইসেন্সে লেখা থাকে, সাইনবোর্ড/ব্যানার বাংলায় লিখতে হবে। কিন্তু লাইসেন্স নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলায় সাইনবোর্ড লিখছে কিনা, দেখার দায়িত্ব কারÑএর জবাবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএনসিসির একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা বলেন, এটি দেখার দায়িত্ব নগর কর্তৃপক্ষের হলেও প্রতিটি এলাকায় গিয়ে জনে জনে সাইনবোর্ড তদারকি করা কঠিন। এ বিষয়ে নাগরিক সচেতনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে যেহেতু সিটি করপোরেশন পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে এবং এলাকায় গিয়ে মাইকিং করেছে, তাহলে জনচেতনতা বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার বলেন, আদালতের আদেশের পর ডিএসসিসির সব দফতরেই বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এবার বাণিজ্যিক সাইনবোর্ড ও ব্যানারে ইংরেজি বাদ দিয়ে বাংলায় লেখার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তারা যদি ইরেজি সাইনবোর্ড বা নামফলক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অপসারণ না করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ডিএনসিসি গত ৭ ফেব্রুয়ারি মোবাইল কোর্ট চালিয়ে গুলশান-২ এলাকার ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন। ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজিদ আনোয়ারের নেতৃত্বে অভিযান চলে।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, হাইকোর্ট বিভাগের ১৬৯৬/২০১৪ নং রিট পিটিশনে প্রদত্ত আদেশ অনুযায়ী সব প্রতিষ্ঠানের (দূতাবাস, বিদেশি সংস্থা ও তৎসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র ব্যতীত) নামফলক, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার ইত্যাদি বাংলায় লেখা বাধ্যতামূলক।

"