ফুল ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা বেড়েছে

বাজারে প্লাস্টিক ফুল, ক্রেতা সংকটে দেশি ফুল

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবছর মোট সাতটি উৎসব ঘিরে ফুল বেচাকেনা করে থাকেন রাজধানীসহ দেশের ফুল ব্যবসায়ীরা। এ মাসেই বড় তিনটি উৎসব- বসন্ত, ভালোবাসা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। গতকাল ছিল ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। আজ বুধবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এ দিবসকে ঘিরে রাজধানীর ফুলের বাজারগুলো যেন জেঁকে বসেছে ফুল আমদানিতে। আমদানি বেশ থাকলেও ক্রেতা সংকটে ভুগছে রাজধানীর অধিকাংশ দেশীয় ফুলের বাজার। এর কারণ হিসেবে কয়েক দোকানদার জানালেন, প্লাস্টিক ফুলে সয়লাব হয়েছে রাজধানী। তাই কমেছে দেশি ফুলের চাহিদা।

গত সোমবার মধ্যরাতের পর থেকেই সাভারের বিভিন্ন ফুলের বাগান থেকে রাজধানীর শাহবাগ আসতে শুরু করে নানা ধরনের ফুল। পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ফুলের বেচাবিক্রি বেড়েছে কয়েক গুণ, সেই সঙ্গে দামও অন্য যেকোনো দিনের তুলনায় বেশি।

প্রতিবছর বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে পাইকারি ও খুচরা বাজারের ফুল বেচাকেনা হয় অন্য দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি দামে। এবার প্রতি একশ গোলাপ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১৬শ টাকা। আর খুচরা প্রতিটি গোলাপের দাম ২০-৩০ টাকা। শাহবাগের এই ফুলের আড়ৎ থেকেই পাইকারি বিক্রেতাদের মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার খুচরা বিক্রেতাদের হাতে পৌঁছে যায় ফুল। দিবস ঘিরে অন্যান্য ফুলের তুলনায় বিভিন্ন রঙের গোলাপ, গ্যালোডিলাক্স, গাঁদা ইত্যাদি ফুলের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে দাম সপ্তাহ শেষে প্রায় দুই থেকে আড়াই গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

রাজধানীর শাহবাগে ফুলের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দিবস তিনটিকে ঘিরে ভারত, চায়না ও থাইল্যান্ড থেকে বিদেশি গোলাপ আসতে শুরু করছে। যার প্রতিটির মূল্যে ৮০-৯০ টাকা। এছাড়াও যশোরের গদখালী ও ঢাকার সাভার থেকে আসা দেশি গোলাপের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ৫/৮ টাকা থেকে ১৫/২০ টাকায় গিয়ে পৌঁছেছে।

এদিকে বাজারে কম মূল্যের প্লাস্টিক ফুলে বাজার সয়লাব হওয়ায় দেশীয় ফুলের দোকানগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলক কম। অপরদিকে, দাম তুলনামূলক কম ও অনেক দিন স্থায়ী হওয়ায় ক্রেতাদের মনে জায়গা করে নিয়েছে প্লাস্টিক ফুল।

এ ব্যাপারে শাহবাগে অবস্থিত অনিন্দ্য পুষ্প নীড়ের কর্মচারী আল-আমিন জানান, দেশের রাজনীতির খারাপ অবস্থার কারণে গত বছরের তুলনায় এ বছর বেচাবিক্রি অনেকটাই কম। ক্রেতা সংকটে রয়েছে দেশের ফুলের বাজারগুলো, তবে দ্রুত এ অবস্থার পরিবর্তন হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও দেশীয় ফুলের বাজারের জন্য বড় হুমকি হিসেবে প্লাস্টিক ফুলকে দায়ী করেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বাবুল প্রসাদ জানান, বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে এখন পর্যন্ত ফুলের বিক্রি আশানুরূপ নয়।

প্লাস্টিক ফুলের ব্যাপারে তিনি জানান, দেশীয় ফুলের বাজার নষ্টের জন্য প্লাস্টিক ফুল অনেকাংশে দায়ী। এগুলো ফুলপ্রেমীদের থেকে আসল ফুলের আকর্ষণ কমিয়ে ফেলছে। দেশি ফুলের চাহিদাকে ফুলপ্রেমীদের কাছে ধরে রাখতে সরকারকে অতি দ্রুত এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবিও জানান তিনি।

"