শাহ আমানত গোলচত্বরে ট্রাফিক পুলিশের প্রকাশ্য চাঁদাবাজি

‘বকশিশ ছাড়া কোনো গাড়ি ছাড়ে না’

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০১৯, ০০:০০

তাজুল ইসলাম পলাশ, চট্টগ্রাম ব্যুরো

জেলার ১৯ সড়কের প্রবেশমুখ নগরীর শাহ আমানত গোলচত্বর। এই গোলচত্বর হয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৭টি উপজেলা ও ৪টি জেলার মানুষ যাতায়াত করে। প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি পার হয় এই গোলচত্বর। এজন্য স্থানটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট। দায়িত্বে থাকা পুলিশের একটু অবহেলা হলেই তাৎক্ষণিক দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

এদিকে ঈদের আর মাত্র বাকি কয়েক দিন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শাহ আমানত গোলচত্বরে আদায় করা হচ্ছে বকশিশের নামে চাঁদা। ঈদের বকশিশের জন্য তারা প্রতিটি গাড়িকে আটকে দিচ্ছেন। চালক ও যাত্রীরা জানান, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করার পরিবর্তে ট্রাফিক পুলিশ চালকদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত থাকে। ফলে গোলচত্বরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে থাকে যানজট। মাঝে মধ্যে সিএমপির পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা কিছু সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ।

এ বিষয়ে কথা বলতে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (ট্রাফিক উত্তর) হারুনুর রশিদ হাজারির মোবাইলে কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

শাহ আমানত গোল চত্বরে দায়িত্বরত ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) সামসুদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আমি আসার পর থেকে চাঁদাবাজি তো দূরের কথা কোনো যানজটও নেই।’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেরিনার্স সড়কের বিষয়টি আমি খবর নিয়ে দেখতেছি। চালকদের অভিযোগের কথা উল্লেখ করলে তিনি বলেন, ‘ওরা কারা আমার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের নজর থাকে পণ্যবাহী গাড়ির দিকে এ কারণে যানজট হচ্ছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার এলাকায় কোনো যানজট নেই।

রোববার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চট্টগ্রাম শহরে সবচেয়ে বেশি গাড়ি প্রবেশ করে শাহ আমানত সেতু দিয়ে। কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলা এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের ছয়টি উপজেলার যাত্রীবাহী ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের শত শত গাড়ি প্রবেশ করে ওই এলাকা দিয়ে। তাছাড়া কক্সবাজারগামী কোচ কাউন্টার রয়েছে অনেক। পাশাপাশি জেলার আওতায় থানাগুলোরও কাউন্টার রয়েছে। এসব গাড়ি সড়কের বিশাল একটি অংশ দখল করে থাকে। যে যার মতো করে যাত্রী তুলছে। যাত্রী তোলা ও নামানোর মধ্যে নেই কোনো নিয়মনীতি।

জেলার ১৯ সড়কের মূল পয়েন্ট হলো শাহ আমানত গোলচত্বর। অন্যদিকে নগরীতে প্রবেশের জন্য রয়েছে চারটি সড়ক। একটি বহদ্দারহাটমুখী, আরেকটি ফিরিঙ্গিবাজার নিউমার্কেটমুখী, আরেকটি চাক্তাই দিয়ে কোতোয়ালি এবং অন্যটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের দিকে। ওই চারটি সড়কের মুখে সব সময় যানজট লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু যানজট দেখা গেলেও সেই হিসাবে দেখা মেলেনি ট্রাফিক পুলিশের। দু-একজনকে দেখা গেল শাহ আমানত সেতু ব্রিজের মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে। কিছুক্ষণ পর পর একজন এসে সিগনাল দিচ্ছে। কে শুনে কার কথা। গাড়ির চালকরা তাদের মতো যাত্রী তুলছে। লক্ষ্য করা গেছে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পশ্চিম পাশে একটি ঝুপড়ি। ওই ঝুপড়িতে দায়িত্ব পালন করছেন সার্জেন্টসহ কয়েকজন কনস্টেবল। তাদের দৃষ্টি পণ্যবাহী গাড়ির দিকে। ব্রিজ থেকে গাড়ি নামা মাত্রই সিগন্যাল। কাগজ পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে যথারীতি বকশিশ। তাও আবার ৫০০ টাকার কম নয়।

লোকজনের দৃষ্টি যেন তাদের চাঁদাবাজির দিকে নজর না পড়ে সেজন্য পুলিশের বক্সের ভেতরে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। সেখানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর্যন্ত চলে দরকষাকষি।

কথা হলে শফিউল আলম নামে একজন চালক জানান, এই মাত্র ৩০০ টাকা দিলাম। সব কিছু ঠিক আছে। এরপরও বিশেষ আইন দেখিয়ে টাকা নিয়ে নিল। সিএনজি চালক আবদুল খালেক জানান, গাড়ি চার মাসের ডেইট ফেইল তাই ১০০০ টাকা দিতে হলো। এ রকম অনেক অভিযোগ চালকদের।

তাছাড়া দেখা গেছে, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা পুলিশ বক্সে দায়িত্বে থাকা টিআই সামসুদ্দিনের সঙ্গে আড্ডা ও খোশ গল্পে সময় কাটাতে। দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাফিক সার্জেন্টরা। কিছুক্ষণ পর পর গাড়ি আটকাচ্ছেন তারা। যথারীতি দরকষাকষির পর ছাড়া। এই দৃশ্যে এখন নগরীর কর্ণফুলী সেতু এলাকার গোলচত্বরের।

"