জানুয়ারিতে শ্যূটিং লিগ

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গনের সম্ভাবনার অন্যতম সেরা একটা উৎস শ্যূটিং। শ্যূটিংয়ের হাত ধরেই বৈশ্বিক কোনো ইভেন্টে বড় ধরণের সাফল্য পেয়েছিল বাংলাদেশ। যার সুবাদে কমনওয়েলথ গেমস এবং ইসলামিক গেমসের ইতিহাসে স্বর্ণজয়ী দল হিসেবে নাম লেখায় লাল-সবুজের দেশটি। ২০০২ সালে যেলক্ষ্যে জাগরণ তুলেছিল সেপথেই হাঁটছে শ্যূটিং। এবার খেলাটির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ শ্যূটিং স্পোর্ট ফেডারেশন (বিএসএসএফ)। পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমবারের মতো আয়োজন করতে যাচ্ছে শ্যূটিং লিগ।

মূলত শূট্যারদের স্বার্থে এবং পিস্তল-বন্দুকের খেলাটি জনপ্রিয়তা করতেই সৃজনশীল এই উদ্যোগ হাতে নিয়েছে বিএসএসএফ। নতুন বছরের শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে লিগের যাত্রা শুরু করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন বিএসএসএফের সাধারণ সম্পাদক ইন্তেখাবুল হামিদ অপু। প্রতিদিনের সংবাদকে বলেছেন, ‘শ্যূটিংকে আরো জনপ্রিয় করতে আমরা লিগ চালু করতে চাচ্ছি। যাতে খেলোয়াড়রা আরো বেশি অনুশীলন পায়, আরো বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। আগামী জানুয়ারি মাসে আমরা পরীক্ষামূলকভাবে লিগ চালু করতে চাচ্ছি।’

শ্যূটিং লিগ আয়োজনের বিষয়টি আপাতত সংগঠকদের মস্তিস্ক পর্যন্ত আছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শ্যূটিং ক্লাবগুলোর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন তারা। পেয়েছেন ইতিবাচক সাড়াও। সেই ভরসাতেই এগুচ্ছেন বিএসএসএফ সাধারণ সম্পাদক, ‘আমাদের হকি লিগ আছে, ক্রিকেট লিগ আছে। তাহলে শ্যূটিং লিগ কেন নয়? আমরা কদিন আগে টিম এবং ক্লাব ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা স্বাগত জানিয়েছেন। লিগ হতে পারে স্পন্সর কিংবা ক্লাব ভিত্তিক। তবে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

অবশ্য প্রাথমিকভাবে লিগটা স্বল্প মেয়াদে করার ইচ্ছে ফেডারেশনের। দেশি শূট্যাররা তো আছেনই, আকর্ষণ হিসেবে লিগে রাখা হচ্ছে কোটাভিত্তিক বিদেশিদের অংশগ্রহণ। এ প্রসঙ্গে ইন্তেখাবুল হামিদ বলেছেন, ‘ক্লাবের উপর এটা নির্ভর করবে। তারা যদি মনে করে বিদেশি শ্যূটার আনবে তো আনুক। এটা সবার জহন্য উন্মুক্ত।’

তিনমাস ব্যাপি এই প্রতিযোগিতা প্রথম আসরে ৬টি দলের অংগ্রহণ চায় ফেডারেশন। নারী-পুরুষ দুই বিভাগের বন্ধুক যুদ্ধ চলবে শুধু ১০ মিটারের রেঞ্জে। লড়াই চলবে ঢাকার বাইরের রেঞ্জগুলোতেও। তবে ফাইনালটা ফেডারেশনেই করার পরিকল্পনা আয়োজক কর্তাদের। সেলক্ষ্যে ক্লাবগুলোর কাছ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদকের। বলেছেন, ‘আমি সব ক্লাবকে অনুরোধ করব ক্লাবগুলো যেন লিগকে স্বাগত জানায়। কারণ এটা একটা টিম ওয়ার্ক। যেটা না হলে লিগ ধসে পড়বে।’

লিগ যেন সে ধরণের পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয় সেটার জন্য এখন থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করতে চান আয়োজকরা। প্রণয়ন করতে চান নীতিমালা। অনুসরণ করতে চান জার্মানিকে। ইন্তেখাবুল হামিদ বলেছেন, ‘আমরা ইউরোপের লিগ অনুসরণ করব। বিশেষ করে জার্মানিকে। আর যেসব নিয়মকানুনের ব্যাপার আছে সেগুলো ক্রিকেট এবং ফুটবল লিগ অনুকরণ করব।’

স্পন্সর সংকট, বিদেশি শ্যূটারদের আনা, ক্লাবের আর্থিক সংকট এসব প্রেক্ষাপট বিচেনায় লিগ শুরু করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। চ্যালেঞ্জটা মানছেন ইন্তেখাবুল হামিদও। তবে এটা মোকাবেলা করতে প্রস্তুত তারা, ‘এটা অবশ্যই চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। অনেক টাকার ব্যাপার। ক্লাবগুলো এমনিতেই চলে না অর্থ সংকটে। তারা নতুন করে এটার দায়িত্ব নেবে কি না। দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদেরকে আমাদের সমর্থনও দিতে হবে। তারা এখানে খেলবে কি না। প্রতিযোগিতা কোথায় হবে। আমরা চাচ্ছি এখানে ফাইনালটা হোক। সবকিছু চিন্তা-ভাবনা করে এটাকে আমরা পাইলট প্রকেক্ট হিসেবে নিচ্ছি।’

"