মুমিনুল-নাসিরের পর তানভীর

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

শরীফুল রুকন, চট্টগ্রাম

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম তার প্রিয় মাঠ। টেস্টে যে চারটি সেঞ্চুরি করেছেন, তার তিনটিই এই মাঠে। জহুর আহমেদে ৫ টেস্টে তার রান ৫২৮। গড়? ৮৮! চট্টগ্রামের পয়া মাঠে আবারও দারুণ খেলছিলেন মুমিনুল। ছুটছিলেন সেঞ্চুরির পথেই। কিন্তু ৭৩ রানে থেমে যায় মুমিনুল হকের ব্যাট।

অনেক দিন টেস্ট দলের বাইরে থাকা নাসির হোসেনের জন্য প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল এটা পরীক্ষা। ৬২ পেয়ে সেই পরীক্ষায় পাস করলেন নাসির। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া তানভীর হায়দারও ৫০ ছাড়ালেন। চট্টগ্রামের প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে ২৮৩ রানে অলআউট হয়েছে তামিমের দল। আগের দিন ৯ উইকেটে ১৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছিল মুশফিকের দল। মাত্র ১৭ রানে পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে মুশফিক একাদশের ইনিংসে ধস নামান শফিউল।

গতকাল বৃহস্পতিবারও বৃষ্টিতে খেলা শুরু হয় দেরিতে। প্রথম দিন উইকেটে বেশ বাউন্স থাকলেও কাল ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে অনেকটা ছিল মন্থর। বাউন্স কম থাকায় কঠিন হয়ে পড়ে পেসারদের কাজ। এরপরও দারুণ বোলিংয়ে ৩ উইকেট নিতে সক্ষম হন রুবেল হোসেন। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে তামিম ছিলেন সতর্ক। বড় কিছু করতে নামা তামিম বেশি দূর যেতে পারেননি। মুমিনুলের ডাকে সাড়া দিয়ে কাভার থেকে মাহমুদউল্লাহর সরাসরি থ্রোতে রান আউট। ড্রেসিং রুমে ফেরার আগে তামিম করেন মাত্র ২৯ রান। প্রস্তুতি ম্যাচ হলেও রান আউটে প্রচন্ড হতাশা দেখা গেল তামিমের শরীরী প্রতিক্রিয়ায়।

এরপর ১০ রানে ফেরেন সাব্বির রহমান। দারুণ দুটি অফ ড্রাইভে শুরু করলেও বোল্ড হন তাইজুলের বলে। স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে থাকেন মুমিনুল। শুরুটায় একটু অস্বস্তি ছিল মুমিনুলের ব্যাটে। তবে শুভাশিসকে দারুণ এক অন ড্রাইভে চার মারার পর কাটে জড়তা। পরের ওভারে রুবেলকে চার মারেন কাভার ড্রাইভে। হঠাৎই সাকলাইন সজিবকে স্কুপ মতো করতে গিয়ে ক্যাচ দিলেন ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে। ১৬৪ মিনিট উইকেটে থেকে মুমিনুল ৭৩ করেছেন ১৩৫ বলে। চার ছিল পাঁচটি।

এর আগে পাঁচে নেমে সাবলীল এক ইনিংস খেলেন নাসির। শুরুটা ছিল ধীরগতির। থিতু হওয়ার পর দেখা দিয়েছেন অন্য রূপে। বেরিয়ে এসে সাকলাইনকে ছক্কা মারেন লং অন দিয়ে। পঞ্চাশের আগেই ছক্কা মেরেছেন আরো দুটি। বেশি চড়াও হয়েছিলেন তাইজুলের ওপর। একবার উড়িয়ে ফেলেছেন লং অন গ্যালারিতে, আরেকবার লং অফ দিয়ে। তাইজুলকে সোজা চার মেরেই ছুঁয়েছেন পঞ্চাশ। সম্ভাবনাময় এই ইনিংসটি শেষ করেন তরুণ অফ স্পিনার নাঈম হাসান। তার বাড়তি স্পিনে নাসির ক্যাচ দিয়েছেন শর্ট লেগে। তিনটি ছক্কার পাশে ৯২ বলে ৬২ রানের ইনিংসে তিনটি চার। দুই বছর আগে সবশেষ টেস্ট খেলা এই অলরাউন্ডার জানান দিয়ে রাখলেন, টেস্টের জন্য প্রস্তুত আছেন তিনি।

নাসির আউট হলেও তানভীর হায়দার খেলেছেন দুর্দান্ত। ওয়ানডের গতিতে খেলেন তিনি। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্সে ছিল উন্নতির প্রমাণ। কালও দারুণ ব্যাট করে ৬১ বলে করেছেন ৫১। এরপর সানজামুল একটু লড়েছেন। নিচের সারির অন্যদের ব্যাট হাসেনি। মুশফিক একাদশের হয়ে ভালো বোলিং করেন রুবেল। সমান ৩ উইকেট নিয়েছেন সাকলাইন।

কাল বিকেলে মুশফিকের দল ব্যাটিং নামে দ্বিতীয় ইনিংসে। মুস্তাফিজের প্রথম দুই বলেই চার মারেন ইমরুল। কিন্তু তৃতীয় বলটি একটি গ্রিপ করল, লাফিয়ে উঠল প্রথম ইনিংসের মতো। ইমরুল খেললেন জায়গায় দাঁড়িয়ে, পয়েন্টে ক্যাচ! সৌম্য ও শান্ত খেলছিলেন এরপর। কিন্তু বৃষ্টিতে আগেই শেষ হয় দিনের খেলা।

ম্যাচ শেষে নাসির জানালেন ক্রিকেটটা শুধুই উপভোগ করতে চেয়েছিলেন তিনি। ম্যাচে ভালো করার পর কেমন লাগছে? জবাবে নাসির বলেন, ‘তেমন কিছু লাগছে না। খেলাটা খুব এনজয় করেছি। এটা একটা প্রস্তুতি ম্যাচ। আমি অনেক দিন টেস্ট ম্যাচ খেলিনি। চেষ্টা করেছি এখানে ইনিংস বড় করার। হয়তো আরো বড় করা যেত।’

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

মুশফিকের দল ১ম ইনিংস : ৯ উইকেটে ১৪০ (ইনিংস ঘোষণা)

তামিমের দল ১ম ইনিংস : ৭৮.৩ ওভারে ২৮৩ (আগের দিন ৪৯/১) (তামিম ২৯, লিটন ৫, মুমিনুল ৭৩, সাব্বির ১০, নাসির ৬২, তানভীর ৫১, সানজামুল ২২, তাসকিন ২, রাব্বি ২, শফিউল ১০*, মুস্তাফিজ ২, রুবেল ১৭-২-৫৪-৩, শুভাশিস ৭.৪-৩-১৭-০, আল আমিন ৮.২-১-২২-০, নাঈম ৯-১-২৩-১, তাইজুল ১৮.৩-০-৮০-২, মাহমুদউল্লাহ ১-০-৮-০)।

মুশফিকের দল দ্বিতীয় ইনিংস : ৫ ওভারে ২৪/১ (ইমরুল ৮, সৌম্য ৯*, শান্ত ৭*, মুস্তাফিজ ১ উইকেট)

"