শিরোপায় শুরু রিয়ালের

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

মাঝে প্রাক-মৌসুম পর্বের কয়েকটা ম্যাচের ব্যর্থতা সমর্থকদের চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু উয়েফা সুপার কাপ জিতে রিয়াল জানিয়ে দিল আগামী মৌসুমের জন্য প্রস্তুত তারা। গত মৌসুম যেখানে শেষ হয়েছিল সেখান থেকেই যেন আবার নতুন মৌসুম শুরু করল ‘গ্যালাকটিকোসরা’। তবে টানটান উত্তেজনার এ ম্যাচে সহজেই জয় পায়নি রিয়াল। শেষদিকে দারুণভাবে জমে উঠেছিল লড়াই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপ জিতেছে জিনেদিন জিদানের দল।

মঙ্গলবার মেসিডোনিয়ার স্কোপিয়েতে ইউরোপা লিগ চ্যাম্পিয়ন এবং চ্যাম্পিয়নস গিল বিজয়ীদের মধ্যেকার লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী রিয়াল জিতেছে ২-১ গোলের ব্যবধানে। যদিও ম্যাচে তুলনামূলকভাবে দাপট ছিল রিয়ালের। কাসেমিরো ও ইসকোর গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ইউনাইটেডের হয়ে নতুন রিক্রুট রোমেলু লুকাকু একটি গোল শোধ করলেও তা শিরোপা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। এদিন ফিট থাকলে রিয়াল একাদশের বাইরে রাখে দলের প্রাণভোমরা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। রিয়ালের মাঝমাঠ সাজানো হয়েছিল টনি ক্রুস, লুক মডরিচ ও কাসেমিরোকে নিয়ে। অন্যদিকে মরিনহো শুরু করেন নেমাঞ্জা মাতিচ, ভিক্টর লিনডেলোফ ও ক্রিস স্মলিংকে দিয়ে।

প্রাক-মৌসুমের প্রস্তুতিপর্বে দলের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে কিছুটা হতাশ ছিলেন রিয়াল কোচ জিদান। কয়েক দিন আগে সংবাদমাধ্যমের কাছে সেই হতাশা ব্যক্তও করেন তিনি। তবে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল শুরুর সঙ্গে সঙ্গে দল ছন্দে ফিরবে বলে আশাবাদীও ছিলেন তিনি। কোচকে নিরাশ করেননি করিম বেনজেমা-ইসকোরা।

এদিন ম্যাচের শুরুতে কিছুটা অগোছালো ফুটবল দেখা যায় দুই দলের মধ্যেই। এর মধ্যেই ১৬ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যেতে পারত রিয়াল। কিন্তু কর্নারে কাসেমিরোর নিচু হয়ে নেওয়া হেড ক্রসবারে লাগলে বেঁচে যায় ইউনাইটেড।

কিন্তু সাত মিনিট পর আর সুযোগ হাতছাড়া করেনি রিয়াল। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার কাসেমিরোর গোলেই এগিয়ে যায় স্প্যানিশ জায়ান্টরা। দানি কারভাহালের ডি-বক্সে বাড়ানো দারুণ ক্রস পেয়ে বাঁ-পায়ের নিচু শটে বল জালে জড়ান কাসেমিরো। এর মাঝে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ এসেছিল রিয়ালের সামনে, ২৯ মিনিটে বল জালে পাঠিয়েছিলেন গ্যারেথ বেল; কিন্তু অফসাইডের বাঁশি বেজে ওঠে। ৪৩ মিনিটে করিম বেনজেমার নিচু শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান ডেভিড ডি গিয়া। এই গোলের ব্যবধানেই বিরতিতে যায় দুদল। তবে প্রথমার্ধে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে আর সুযোগ হাতছাড়া করেনি রিয়াল। গত মৌসুমে আলো ছড়ানো ইসকোর দারুণ নৈপুণ্যে ৫২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে জিদান শিষ্যরা। বেলের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করার পথে সবাইকে ফাঁকি দিয়ে ডি-বক্সে দ্রুত ঢুকে কোনাকুনি শটে গোলটি করেন স্পেনের এই মিডফিল্ডার।

দুই মিনিট পর মুহূর্তের ব্যবধানে ভালো দুটি সুযোগ নষ্ট করে ইউনাইটেড। কেইলর নাভাস বরাবর হেড করেন পল পগবা আর গোল করার মতো জায়গা থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন লুকাকু। ৬১ মিনিটে বেলের কোনাকুনি শট ক্রসবারে বাধা পায়। কিছুক্ষণ পরই কারভাহালের পাস ছয় গজ বক্সের মুখে পেয়েও শট নিতে পারেননি বেনজেমা। এর পরের মিনিটেই ব্যবধান কমান লুকাকু। নাভাস জোরালো একটি শট কোনোমতে ঠেকালে বল পেয়ে যায় অরক্ষিত এই ফরোয়ার্ড। এ মৌসুমেই ইউনাইটেডে যোগ দেওয়া লুকাকু অমন সুযোগ হাতছাড়া করেননি। ৮২ মিনিটে বেনজেমাকে তুলে দলের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নামান জিদান। সাত মিনিট যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে মারুয়ান ফেলাইনির হেড ঝাঁপিয়ে ঠেকান নাভাস। পাল্টা আক্রমণে মার্কো আসেনসিওর শট ঠেকিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি ডি গিয়া। এই নিয়ে টানা দ্বিতীয় ও মোট চতুর্থবার শিরোপাটি জিতল রিয়াল। এর আগে ২০০২, ২০১৪ ও ২০১৬ সালের পর আরেকবার সুপার কাপের শিরোপা দেশে নিয়ে গেল রিয়াল।

"