গৌরব নিয়েই দেশে ফিরলেন মাশরাফিরা

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৭, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সাসেক্সে ১০ দিনের কন্ডিশনিং ক্যাম্প দিয়ে শুরু। এরপর আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ। সম্ভাব্য সেরা প্রস্তুতি নিয়েই চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে স্বপ্নযাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষের হার দিয়ে থেমেছে টাইগারদের অভিযান। সবমিলিয়ে ৫০ দিনের সফর শেষে কাল সকালে দেশে ফিরেছেন মাশরাফিরা। ফেরার সঙ্গে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা ফিরেছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে ওঠার গৌরব নিয়ে।

কিন্তু এ অর্জনের পরও বিমানবন্দরে ক্রিকেটারদের মুখে চওড়া হাসি দেখা গেল কমই। হতে পারে বার্মিংহাম থেকে ১৮ ঘণ্টার বিমানযাত্রার ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেননি তারা। স্বাভাবিকভাবেই ক্লান্তির ছাপ মুখে। কিন্তু সব ছাপিয়ে শেষ চারের লড়াইয়ে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানের হারের হতাশাটা যেন বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছে ক্রিকেটারদের চোখে-মুখে। আলোকচিত্রীদের ডাকে মুস্তাফিজ-সৌম্য-সাব্বির সাড়া দিলেন, মৃদু হাসলেন। তবে সেই হাসিতে যেন প্রাণ নেই!

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে খেলেছে, তাতে গর্বের উপাদান খুঁজে পাচ্ছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। কিন্তু স্বপ্নযাত্রার সমাপ্তি যেভাবে হয়েছে, তাতে তিনি হতাশ, ‘অবশ্যই ভালো লাগছে। সেমিফাইনালে খেলাটা অনেক বড় ব্যাপার ছিল। তবে খারাপ লাগাও আছে। যেহেতু একটা ভালো সুযোগ পেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি। এখানেই শেষ নয়। সামনে আরো বড় টুর্নামেন্ট বা সিরিজ আছে। সেগুলোয় ভালো করাটা এখন গুরুত্বপূর্ণ।’

২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সাফল্য পেয়েছিল তরুণ-অভিজ্ঞের ডানায় চড়ে। সিনিয়র-জুনিয়ররা জ্বলে উঠেছিলেন একসঙ্গে। কিন্তু এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সিনিয়ররা ভালো করলেও হতাশ করেছেন তরুণেরা। সাব্বির-সৌম্যর ব্যাট যেমন কথা বলেনি, দেখা যায়নি মোস্তাফিজ-জাদুও। তবে মাশরাফি আশা হারাচ্ছেন না। অধিনায়ক মনে করেন, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তরুণ খেলোয়াড়েরা ঝলক দেখাবেন ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ২০১৯ বিশ্বকাপে, ‘তরুণদের জন্য এসব টুর্নামেন্ট সহজ নয়। তাদের আরো উন্নতি করতে হবে। হয়তো প্রত্যাশা অনুযায়ী তারা ভালো খেলেনি। তবে ওদের ভালো ভবিষ্যৎ আছে। ২০১৯ বিশ্বকাপে তারা আরো দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারবে। দুই বছর পর আরো পরিণত হবে। এখন উন্নতির সময়। যে পর্যায়ে তারা খেলেছে, এটা যদি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে পারে, ২০১৯ বিশ্বকাপে আরো ভালো খেলতে পারবে।’

দলের সবাই অবশ্য একসঙ্গে দেশে ফেরেননি। কদিনের ছুটি কাটাতে মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ ও ইমরুল কায়েস থেকে গেছেন ইংল্যান্ডে। কালই পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরার কথা সাকিব আল হাসানের। তবে দলের সবাই আপাতত কদিন ক্রিকেট থেকে দূরে থাকবেন। ঈদের পর শুরু হবে তাদের নতুন ব্যস্ততা। কারণ আগস্টে দেশের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ। নতুন চ্যালেঞ্জের হাতছানি সাকিব-তামিমদের সামনে ।

সফরে সব মিলিয়ে পাওয়া তিন জয়ে আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার পথে অনেকটা এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ৯৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয় নম্বরে থাকা দলটির চেয়ে অনেক পিছিয়ে নয় নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৭৭)। স্বাগতিক ইংল্যান্ড এবং র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা অন্য সাত দল সরাসরি খেলবে ২০১৯ বিশ্বকাপে।

"