আলো ছড়ালেন তামিম

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৭, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

যেকোনো বিবেচনায় বর্তমানে বাংলাদেশ দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান তিনি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শুরুটাও করেছিলেন দারুণ এক শতক দিয়ে। মাঝখানের এক ম্যাচ বাদ দিলে পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলেছেন বাংলাদেশ দলের ওপেনার তামিম ইকাবাল। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও।

প্রথম ওভারেই কোনো রান না করে বিদায় নিলেন সৌম্য। এরপর সঙ্গ দিলেন সাব্বিরকে। কিন্তু সাব্বিরও ঠিকমতো পারলেন না। দ্রুত রান তুলতে গিয়ে বিদায় নিলেন এই মারকুটে ব্যাটসম্যান। তারপর তামিম জুটি গড়লেন মুশফিকের সঙ্গে। দুজন মিলে করলেন ১২৩ রানের জুটি। এই জুটিটিই মূলত সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে লড়াইয়ের ভিত গড়ে দিল বাংলাদেশকে। তবে এদিন তামিম ফিরতে পারতেন আরো আগেই। হার্দিক পান্ডিয়ার বলে বোল্ড হয়ে বেঁচে গেলেন নো বল হওয়ার কারণে। সেই বলে ফ্রি-হিটেও ক্যাচ দিয়েও বেঁচে গেছেন তামিম। কিন্তু লাইফ পাওয়ার পরই তামিম খেলেছেন নিজের মতো। প্রথম দিকে চাপ সামাল দিতে যে বলগুলো ডট দিয়েছিলেন তা পুষিয়ে দিলেন দ্রুত রান তুলে। দলীয় ১৯ ওভারে ৬২ বলে তুলে নিলেন নিজের ৩৭তম ফিফটি। দারুণ চাপের মুখে আসে তামিমের এই অর্ধশতক। অর্ধশতকের পর তামিম খেলেছেন আরো সাবলীলভাবে। বলের সঙ্গে রানের ব্যবধান কমিয়েছেন দ্রুত। যেভাবে খেলছিলেন সবাই তার কাছ থেকে টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় শতকের আশাই করছিল। কিন্তু এ যাত্রায় আর পারলেন না তামিম। কেদার যাদবের বলে বোল্ড হয়ে ফিরলেন এই ড্যাশিং ওপেনার। ফেরার আগে খেললেন ৮২ বলে ৭০ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। তার ইনিংস সাজানো ছিল ৭টি চার এবং ১ ছয়ে। এর আগে লন্ডনে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১২৮ ও ৯৫ রানের দুটি অসাধারণ ইনিংস খেলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিজের যাত্রা শুরু করেছিলেন তামিম। সেই দুই ম্যাচে অন্য ব্যাটসম্যানের ব্যর্থতার মধ্যে অনেকটা একাই লড়েছিলেন তামিম। প্রথম ম্যাচে মুশফিকের কাছ থেকে কিছুটা সঙ্গ পেলেও, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একাই দলকে টেনেছিলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। অবশ্য কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিতে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে আউট হলেন কোনো রান না করে। ম্যাচটিতে সাকিব-মাহমুদউল্লাহর ঐতিহাসিক এক জুটিতে দারুণ জয় পায় বাংলাদেশ। তবে সেই ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়েছেন বলে এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তার সর্বোচ্চ রানের আসনটা হাতছাড়া হয়েছে শিখর ধাওয়ানের কাছে। কিন্তু জায়গাটা কিছুক্ষণের জন্য একবার নিজের অধিকারেও নিয়েছেন বাঁহাতি ওপেনার। বাংলাদেশের ইনিংস শেষে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সর্বোচ্চ স্কোর ছিল তামিমের। তবে এরপর নিজেদের ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৪৬ রান করা ধাওয়ান উঠে যান সবার ওপরে। তবে এবারের টুর্নামেন্টে সবার ওপরে থাকতে না পারলেও, প্রথম তিনজনের মধ্যে তামিমের অবস্থান অনেকটাই নিশ্চিত। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তার বর্তমান রান ৭৩.২৫ গড় এবং ৮৬.১৭ স্ট্রাইকরেটে ২৯৩। তবে তামিমকে ছাড়িয়ে তিনশোর্ধ্ব রান করে সবার ওপরে এখন শিখর ধাওয়ান। তামিম আক্ষেপ করতে পারেন গতকাল যেভাবে ব্যাট করেছেন ইনিংস বড় হতে পারত আরো। তবে সেটি না হলেও চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ইতিহাসে এবারের আসরের তামিমের পারফরম্যান্স অনেক দিন মনে রাখার মতো। কেদার যাদবের নিরীহ একটা বলে বোল্ড না হলে হয়তো টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় শতকও পেয়ে যেতে পারতেন তিনি। তবে রানে না পারলেও, ছক্কাতে এখনো সবার ওপরেই আছেন তামিম। এখনো পর্যন্ত টুর্নামেন্টে ৭টি ছক্কা মেরেছেন তামিম। ইংলিশ ক্যাপ্টেন ইয়ন মরগানও মেরেছেন সাত ছক্কা। অবশ্য ৬ ছক্কা মেরেছেন রোহিত শর্মাও। আর দুটি ছক্কা মারলেই তামিমকে ছাড়িয়ে যাবেন রোহিত। তবে শুধু ছয়ে নয় চারের মারের দিকেও ওপরের দিকে থাকবেন তামিম ইকবাল। টুর্নামেন্টে ২৫টি চার এসেছে তার ব্যাট থেকে। যা এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

অবশ্য গতকাল ফিফটিকে তিন অঙ্কে রূপ দিতে পারলে পরিসংখ্যানটা আরো উজ্জ্বল হতো তামিমের। তবে এর মধ্যে একটি রেকর্ড নিজের অধিকারে নিয়েছেন। এই ম্যাচের আগে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান ছিল মুশফিকুর রহিমের (৫২৬)। মুশফিককে ছাড়িয়ে এ মুহূর্তে তামিম সবার ওপরে (৫৭৪)। কিন্তু সেটি আবার নিজের মুঠোয় নেওয়ার পথেই ছিলেন মুশফিক। যদিও নিজের ভালো ইনিংসটি ৬১ রানেই থেমে যায় মুশফিকের। সবিমিলিয়ে আরো একবার টুর্নামেন্টজুড়ে বাংলাদেশের ভরসা জায়গা হয়ে ছিলেন তামিম। বাংলাদেশের সামনের পথচলাতেও তামিম হবেন অন্যতম কারিগর।

"