ক্রিকেটের তালা খুলছে আজ

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২০, ০০:০০

সাহিদ রহমান অরিন

সাউদাম্পটন। ১০৮ বছর আগে সাড়া জাগানো জাহাজ টাইটানিকের সমুদ্রযাত্রা শুরু হয়েছিল যেখান থেকে, একবিংশ শতাব্দীতে এসে লকডাউন পরবর্তী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হচ্ছে ঠিক সেখান থেকেই!

জনক বলে কথা। বাড়তি একটা দায়িত্ববোধ তো আছেই। ক্রিকেটের তালা খোলার দায়িত্বটা তাই নিজেদের কাঁধে নিয়েছে খেলাটার জনক ইংল্যান্ড। সাউদাম্পটনের এজিয়াস বোলে আজ বিকাল ৪টায় দীর্ঘ চার মাসের করোনা-নির্বাসন কাটিয়ে ফিরছে ব্যাট-বলের লড়াই, ফিরছেন স্টোকস-হোল্ডাররা। ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের লড়াইয়ের শুরুটাও হচ্ছে অভিজাত সংস্করণ টেস্ট ক্রিকেট দিয়ে। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে সনি সিক্স।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত মার্চ থেকে বোতলবন্দি হয়ে পড়ে বিশ্ব ক্রিকেট। আশা করা হচ্ছিল, শিগগিরই বিদায় নেবে এই অদৃশ্য শত্রু। আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে সবাই, প্রাণ ফিরে পাবে ক্রিকেট। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। আর সবার মতো গৃহবন্দি হয়ে পড়েন ক্রিকেটাররা। তবে ব্রিটেনের করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। এক-দুই-দশ দিন নয়, ১১৬ দিন পর প্রত্যাবর্তন ঘটছে ক্রিকেটের। গত ১৩ মার্চ সিডনিতে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছিল দুই প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড। রুদ্ধদ্বার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচটি ৭১ রানে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেটিই ছিল সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

অপ্রত্যাশিত এই বিরতি শেষে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তনে রোমাঞ্চিত অনুরাগীরা। কারণ এই টেস্টকে ঘিরে আয়োজনের কমতি রাখেনি ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। আয়োজনের পুরোটা থাকছে সুরক্ষাবলয়। ক্রিকেটার-কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে ধারাভাষ্যকার, কর্মকর্তা, সাংবাদিক, মাঠকর্মী সবাইকেই থাকতে হচ্ছে সুরক্ষিত ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশে। সাউদাম্পটনের মাঠের পাশেই রয়েছে হোটেল। সেখানেই থাকছেন ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকারসহ সবাই। ধারাভাষ্য কক্ষে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা হবে। ধারাভাষ্যের মাঝে নিজের রুমের ব্যালকনিতে বসে খেলা দেখতে পারবেন তারা।

খেলোয়াড়দের জন্য রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ চিকিৎসা ব্যবস্থা। খেলা চলাকালীন কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিতে প্রস্তুত সাউদাম্পটনের স্বাস্থ্যকর্মীরা। বাউন্ডারির ওপারেই হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই টেস্টকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন ইসিবির প্রধান নির্বাহী টম হ্যারিসন। তিনি বক্তব্য, ‘ক্রিকেট ফিরছে, এতেই আমরা খুশি। তবে আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে আগামীকাল (আজ) থেকে শুরু হওয়া ম্যাচটি। সবকিছু ঠিকঠাক সম্পন্ন করতে হবে আমাদের। আমরা প্রস্তুত। সব ধরনের সুরক্ষা বলয় নিয়ে আমরা তৈরি।’

ইংল্যান্ডের জন্য যে এটি চ্যালেঞ্জের, সেটি বলতে দ্বিধাবোধ করেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। এই টেস্টটি বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করেন তিনি, ‘ইংল্যান্ডে এই টেস্ট ম্যাচ উদাহরণ হতে চলেছে। এটা অন্যদের দেখিয়ে দিতে পারে, কঠিন সময়ে কীভাবে খেলা সম্ভব। ইসিবি প্রশংসার দাবিদার এই কারণে যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তারা ম্যাচ আয়োজন করতে যাচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে মানুষও এখন মানসিকভাবে চিন্তিত। এই ক্রিকেট ম্যাচ দেখে মানুষও কিছুটা আনন্দিত হবে, উপভোগ করার সুযোগ পাবে।’

দর্শক নেই, পিচে থাকছে বাড়তি ঘাস, উদ্যাপনের ক্ষেত্রে আলিঙ্গন করা যাবে না, বোলাররা বল উজ্জ্বল করতে থুতুর ব্যবহার করতে পারবে নাÑ এ রকম অনেক নতুনত্ব নিয়ে ফিরছে নব দিগন্তের ক্রিকেট। ১৯১২ সালে সাউদাম্পটন বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া টাইটানিক প্রথম যাত্রাতেই ডুবে গিয়েছিল। তবে ২০২০-এ এসে সেই সাউদাম্পটন থেকেই ক্রিকেটের নতুন সূর্য উদিত হোক- খেলাপাগলদের একমাত্র চাওয়া এখন এটাই।

 

"