বইয়ের নেশায় মত্ত বিশ্বজয়ী তানজিম

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

হাবিবুল বাশার সুমন একবার আফসোস করে বলছিলেন, ‘বই পড়ার ব্যাপারটা এখন উঠেই গেছে, তাই না? অথচ, আগে বিদেশে সিরিজ হলেই ফাঁকা সময় কাটানোর জন্য বই নিয়ে যেতাম। এখনকার কারো তেমন ইচ্ছা আছে বলে মনে হয় না।’ ক্রিকেটাররা দূরে থাক, আসলে সাধারণ মানুষদেরও পড়ার অভ্যাসটা গ্রাস করে নিয়েছে ইলেকট্রনিক গেজেট। এদিক থেকে ব্যতিক্রম যুব বিশ্বকাপ জয়ী বাংলাদেশের পেসার তানজিম হাসান সাকিব। করোনাভাইরাসের দম বন্ধ পরিস্থিতিতে ফিটনেস ঠিক রাখার পাশাপাশি বই পড়েই সময় কাটছে তার।

এবারের যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ডানহাতি তানজিমের বোলিং তেজ মনে থাকার কথা অনেকের। বাঁহাতি শরিফুল ইসলামের সঙ্গে জুটি বেঁধে আগুন ঝরা স্পেলে ভারতীয়দের কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তার শরীরী ভাষাতেও আগামীর সম্ভাবনাময় পেসারের খোঁজ মিলেছে।

করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণের আগে আবাহনী লিমিটেডের হয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) ব্যস্ত ছিলেন সিলেটের এই তরুণ। খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ছুটে যান বাড়িতে। ক্রিকেটীয় ব্যস্ততার কারণে গত সাড়ে তিন বছরে টানা ১০ দিনের বেশি বাড়িতে থাকা হয়নি তানজিমের। এবার সিলেটের বালাগঞ্জের ত্রিলক চানঁপুরের বাড়িতে ২৫ দিন ধরে আছেন তিনি। এতটা সময় বাড়িতে আটকে থাকায় হাঁসফাঁস দশা অনেকেরই। তবে তানজিম এদিক থেকে আছেন বেশ ভালোই।

তার বাবার সংগ্রহে আছে প্রচুর বই। ছোটবেলা থেকেই তাই বই পড়ার নেশা গড়ে ওঠে তানজিমের। আর এখন প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদে মগ্ন হয়ে আছেন তিনি। গণমাধ্যমকে জানালেন, বই পড়ার ফুরসত মেলায় সময়টা বেশ ভালোই কাটছে, ‘গল্পের অনেক বই পড়ি আমি। হুমায়ূন আহমেদ আমার প্রিয় লেখক। হিমু চরিত্র আমার প্রিয়, এছাড়া মিসির আলিকেও খুব ভালো লাগে। এক হিসেবে বই পড়ার জন্য সময়টা বেশ ভালো পাওয়া গেছে। জমানো বইগুলো পড়ে কাজে লাগাচ্ছি।’

খেলার ফাঁকে পড়বেন বলে মাঝে মাঝেই বই কিনে রাখতেন তানজিম। কিন্তু এতটা ঠাসা সূচির কারণে সময় বের করা হয়ে উঠতো মুশকিল। করোনার ফলে সৃষ্ট অচলাবস্থায় জমানো বইগুলো এখন তার কাছে যেন আশীর্বাদ, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার এই অভ্যাস। কিন্তু খেলা থাকায় সময় হচ্ছিল না, তাই পড়াও হতো না। আগে কিনে রেখেছিলাম কিন্তু পড়তে পারিনি, সেগুলো শেষ করছি এখন।’ এই উঠতি তারকা আরো বলেন, ‘আমার আব্বুর প্রচুর বই পড়ার নেশা। অন্য লেখকের নাম নির্দিষ্টভাবে বলছি না। যার বই সামনে পাই, পড়ি।’

বাহুতে কিছুটা চোট ছিল তানজিমের। তা কাটানোর জন্যও আদর্শ সময় মিলেছে তার। ট্রেনার রিচার্ড স্টনিয়ার ছবি ও ভিডিও শেয়ারিংয়ের অনলাইন মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে হাজির হয়ে নিচ্ছেন সেশন। তার দেওয়া কিছু ড্রিল মেনে চলছে তানজিমের ফিটনেস ঠিক রাখার কাজ। কিন্তু থমকে যাওয়া এই সময়টা আরো বাড়লে কী হবে? সেই অনিশ্চয়তাও খেলা করছে তানজিমের মনে, ‘এখন পর্যন্ত ভালো আছি, জানি না পরে কী হবে, কবে সব স্বাভাবিক হবে!’

 

"