অসহায় অ্যাথলেটের পাশে তামিম

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফুটবল মৌসুমে খ্যাপ খেলে (ভাড়াটে খেলোয়াড়) বেড়ান সামিউল ইসলাম। গতির কারণে খুলনার ফুটবল অঙ্গন তাকে ডাকে ‘এমবাপ্পে’ নামে। তবে ফুটবল মাঠে ঝলক দেখিয়ে আলোচনায় আসেননি তিনি। এসেছেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ‘অবহেলিত’ অ্যাথলেটিক্সে নাম লিখিয়ে। প্রথমবার জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্সে খেলতে নেমেই বাজিমাত। গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত আসরে বিজেএমসির হয়ে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ১১.৪১ সেকেন্ড সময় নিয়ে হন দ্রুততম মানব। এরপর ডিসেম্বরে হঠাৎই বিজেএমসি জানিয়ে দেয় তারা আর অ্যাথলেটিক্স দল রাখবে না। ফলে চাকরি হারান সামিউল।

এরপর পুরোপুরি ফুটবলে খ্যাপ খেলায় মনযোগী হন। কিন্তু করোনাভাইরাসের থাবায় বিপর্যস্ত জনজীবন। সামিউলের খ্যাপ খেলাও তাই বন্ধ। আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনাহারে দিন কাটছিল তাদের। এমন পরিস্থিতিতে ভীষণ আর্থিক সংকটে পড়া এই অ্যাথলেটের দুর্দশা দূর করতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন তামিম ইকবাল। সামিউলের পরিবারের আগামী এক মাসের খরচ দিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক।

ক’দিন আগে একটি জাতীয় দৈনিকে এই তরুণ স্প্রিন্টারকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। প্রতিবেদনটিতে সামিউল ও তার পরিবারের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরা হয়। তাদের দৈনিক খরচ ১৫০ টাকার মতো। কিন্তু সেটা যোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছিল। সামিউলের হাতে কোনো কাজ না থাকায় সংসার চালানোর সব ভার পড়েছিল তার বাবার ওপর, যিনি লিটারপ্রতি মাত্র ৩ টাকা লাভে কৃষকদের কাছে ডিজেল বিক্রি করছিলেন। কিন্তু দৈনিক ৪০-৫০ লিটার ডিজেলও বিক্রি হচ্ছিল না। হৃদয়স্পর্শী প্রতিবেদনটি বাঁহাতি তারকা ক্রিকেটার তামিমের নজরে আসার পর তিনি ২০ বছর বয়সি তরুণের পাশে দাঁড়ালেন।

গণমাধ্যমকে সামিউল জানিয়েছেন, তামিম তাকে অর্থ সহায়তা করেছেন, ‘বিপদে বন্ধু খুঁজে পাওয়া দায় হলেও আমি আমার বিপদে তামিম ভাইকে পাশে পেয়েছি। আগামী এক মাস চলার জন্য আমাদের ৬ সদস্যের পরিবারের যে টাকা দরকার, তা তিনি দিয়েছেন।’ করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট অচলাবস্থার মাঝে দেশসেরা ওপেনারের এমন ভূমিকাকে বর্ণনা করার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন সামিউল, ‘আর্থিক সহায়তা পেয়ে আমরা স্বস্তি অনুভব করছি। আমি খুবই গর্বিত এটা ভেবে যে, বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক আরেকজন অ্যাথলেটের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন। আমি কথা বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।’

উল্লেখ্য, গেল অক্টোবরে সামিউল জুনিয়র অ্যাথলেটিক্সে ১০০ মিটারে চ্যাম্পিয়ন হন। এর আগ পর্যন্ত তিনি ফুটবলে খ্যাপ খেলার জন্য পরিচিত ছিলেন স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে। পাশাপাশি বিজেএমসির চুক্তিবদ্ধ অ্যাথলেট ছিলেন সামিউল। অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি করতেন খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিলে। কিন্তু বিজেএমসির লোকসানের কারণে গেল ডিসেম্বরে চাকরি হারাতে হয় তাকে। চাকরিতে থাকাকালে প্রতি সপ্তাহে ১ হাজার ৮৫০ টাকা পেতেন সামিউল। তাছাড়া ফুটবল মৌসুমে খ্যাপ খেলে মাসে ৭-৮ হাজার টাকাও আয় হতো তার। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মহাবিপাকে পড়তে হয়েছিল তার পরিবারকে। তবে তামিম এগিয়ে আসায় অন্ধকার পেরিয়ে এখন আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন তিনি।

 

"