ইমরান খানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ শিরোপা উপহার দেওয়ার পরই ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছিলেন অধিনায়ক ইমরান খান। পরে রাজনীতিবীদ এবং বর্তমানে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। সেই ইমরান খানের নামেই এক গুরুতর অভিযোগ তুললেন আরেক সাবেক পাকিস্তান ক্রিকেটার বাসিত আলি। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিপক্ষে আনা বাসিত আলির অভিযোগ হচ্ছে, ‘অবসর নেওয়ার পরও পাকিস্তান দল পরিচালনা করতেন ইমরান এবং তার নির্দেশেই জাভেদ মিয়াঁদাদকে পাকিস্তান দল থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল।’

ইমরান খানের বিপক্ষে যে অভিযোগ তুলেছেন বাসিত আলি, তা রীতিমত ষড়যন্ত্রের সমান। কারণ, ওই সময় ইমরান খান দলের কেউ ছিলেন না। পেছন থেকে কলকাঠি নেড়ে তিনি জাভেদ মিয়াঁদাদকে দল থেকে বাদ দিতে ষড়যন্ত্র করেছেন বলেই দাবি করছেন বাসিত।

জাভেদ মিয়াঁদাদকে দল থেকে বাদ দেয়ার ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৩ সালে। ওই সময় পাকিস্তান দলের অধিনায়ক ছিলেন ওয়াসিম আকরাম। সবাই তখন জানতো, ওয়াসিম অধিনায়ক হলেও পেছন থেকে দল পরিচালনা করেন কিন্তু ইমরান খানই। ওয়াসিম হচ্ছেন ইমরান খানের হাতের পুতুল।

পাকিস্তানের হয়ে ১৯ টেস্ট এবং ৫০ ওয়ানডে খেলা বাসিত আলির অভিযোগে সেটাই স্পষ্ট হিসেবে ফুটে উঠছে। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সময়ে বাসিত আলি ছিলেন তার ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে। তাকে অনেকটাই জাভেদ মিয়াঁদাদের সঙ্গে তুলনা করা হতো। বিশেষ করে আগ্রাসী ব্যাটিং স্টাইলের কারণে। একই সঙ্গে তখন থেকেই মনে করা হয়, জাভেদ মিয়াঁদাদকে দল থেকে বাদ দেয়ার পেছনে বাসিত আলিকেই দাবার গুটি হিসেবেই ব্যবহার করা হয়েছিল।

টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাসিত আলি বলেন, ‘১৯৯৩ সালের দিকে জাভেদ মিয়াঁদাদকে দল থেকে বাদ দেয়ার পেছনে অনেক বড় একটি ষড়যন্ত্র কাজ করেছিল। তবে, এ ক্ষেত্রে আমাকে জাভেদ মিয়াঁদাদের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছিল। সত্যি বলতে, মিয়াঁদাদ ভাই যা করে গেছেন, তার এক পার্সেন্টও আমি করতে পারিনি।’

তিনি (বাসিত আলি) এরপর আরও বলেন, ‘আমি সাধারণত ৪ নম্বরেই ব্যাট করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতাম বেশি। কিন্তু যখন মিয়াঁদাদকে বাদ দেয়া হলো, আমাকে নামিয়ে দেয়া হলো ৬ নম্বরে। ৪ নম্বরে আমি সব সময়ই ভালো খেলতাম। গড় ছিল ৫৫ করে। কিন্তু ৬ নম্বর নামিয়ে দেয়ার পর আমার পারফরম্যান্স নিচের দিকেই যেতে থাকলো। তারা আমাকে স্লো পজিশনে ব্যাট করতে দিলো। এমনকি আমি প্রায়ই ব্যাট করতে নামতে পারতাম না।’

নিজের খেলা সম্পর্কে বাসিত আলি বলেন, ‘আমি সত্যিকারার্থই আমার খেলাকে ভালোবাসতাম। ছিলাম দারুণ প্যাশনেট। ৬ নম্বরে ব্যাট করত নামলে আমি প্রায়ই বড় শট খেলতে যেতাম এবং আউট হয়ে যেতাম। খুব কমই আমার সেরা ব্যাটিংটা আসতো।’

বাসিত আলির কাছে জানতে চাওয়া হলো, কে আপনাকে প্রথম চারে খেলতে বলেছিল, কে আপনাকে ৬ নম্বরে নামিয়ে দিয়েছিল? জবাবে তিনি বলেন, ‘ওই সময় ওয়াসিম আকরাম ছিলেন অধিনায়ক। কিন্তু ওই সময় জাভেদ মিয়াঁদাদের দল থেকে বাদ পড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় দায়ী হচ্ছেন একজন। যিনি পেছন থেকে সমস্ত কলকাঠি নেড়েছিলেন। তিনি হচ্ছেন ইমরান খান।’

বাসিত আলি একই সঙ্গে জানান, পাকিস্তান দল থেকে বাদ পড়ার পর জাভেদ মিয়াঁদাদ চুপই ছিলেন। কিন্তু ১৯৯৬ বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেতে তিনি সব খেলোয়াড়ের কাছে ধর্ণা দিয়েছিলেন। মিয়াঁদাদ হচ্ছেন বিশ্ব রেকর্ড গড়া ক্রিকেটার। যিনি টানা ৬টি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পান। ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯৬ বিশ্বকাপ। এই গৌরব অর্জণ করা বাকি ক্রিকেটার হলেন ভারতের শচিন টেন্ডুলকার।

বাসিত আলি বলেন, ‘আমি এখন এমন একটি বিষয় শেয়ার করবো, যা অনেকেই জানে না। আমি ছিলাম দেশের প্রতি অনুগত। মিয়াঁদাদকে ১৯৯৬ বিশ্বকাপের প্রাথমিক স্কোয়াডে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। ১৫ সদসের সেই দলে ছিলাম আমিও। কিন্তু দলে সুযোগ না পেয়ে তিনি আমাদের প্রত্যেক খেলোয়াড়ের কাছে আসলেন। অনুরোধ জানালেন তাকে ৬ষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলে রেকর্ড গড়ার সুযোগ দিতে। তিনি বললেন, এই ১৫ জনের মধ্যে কে আছে, যে আমাকে তার জায়গাটা ছেড়ে দিতে পারবে? তার এই অনুরোধ শুনে আমি নিজেই নিজেকে প্রত্যাহার করে নিলাম। তাকে সুযোগ দিলাম খেলার জন্য।’

কেন তিনি এই কাজ করলেন? বাসিত আলি বললেন, ‘১৯৯৫-৯৬ সালে আমি ছিলাম ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ চূড়ায়। এ কারণেই বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পাই। কিন্তু আমি আমার জায়গাটা স্যাক্রিফাইস করলাম মিয়াঁদাদকে। কারণ, তাকে আমি অনেক বেশি পছন্দ করতাম।’

১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ৬ বিশ্বকাপে ৩৩ ম্যাচ খেলেন মিয়াঁদাদ। রান করেছেন ১০৮৩। গড় ৪৩.৩২ করে। একটি সেঞ্চুরিও ছিল। ১৯৮৭ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০০ বলে ১০৩ রান করেছিলেন তিনি। দেশের হয়ে মোট ১২৪ টেস্ট খেলেন মিয়াঁদাদ। ওয়ানডে খেলেন ২৩৩টি। দুই ফরম্যাটে যথাক্রমে রান করেন ৮৮৩২ এবং ৭৩৮১। টেস্টে ২৩টি এবং ওয়ানডেতে করেন ৮টি সেঞ্চুরি।

বাসিত আলি একই সঙ্গে দাবি করেন, ১৯৯৩ সালে ওয়াসিম আকরামকে অধিনায়ক করা হলে দলের অনেক ক্রিকেটার বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল। তিনি বলেন, ‘১৯৯৩ সালে অধিনায়ক ওয়াসিম আকরামের বিপক্ষে দলের মধ্যে বিদ্রোহ দেখা দিয়েছিল। বিদ্রোহ করার মূল কারণ ছিল, ওয়াসিম আকরাম ইমরান খানের নির্দেশেই দল পরিচালনা করেন। সুতরাং তারা ওয়াসিমের অধীনে খেলবে না।’

 

"