নারায়ণগঞ্জে আতঙ্কে কাটছে রনির দিন

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

কেমন আছেন? জিজ্ঞেস করতেই কণ্ঠে প্রচ- উদ্বেগ। এ সময় স্বস্তিতে থাকার অবস্থা অবশ্য কারোরই নেই। কিন্তু ক্রিকেটার রনি তালুকদারের উৎকণ্ঠা যেন একটু বেশি। তার কারণও অবশ্য অনুমেয়। তার বাড়ি যেখানে, সেই নারায়ণগঞ্জে করোনাভাইরাস যে এক যমদূতের নাম।

কাল পর্যন্ত সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১২৩১ জন। এর মধ্যে ১৬৪ জন নারায়ণগঞ্জের। শীতলক্ষ্যা পাড়ের জেলাটিতে মৃতের সংখ্যাও দুই অঙ্কে ছুঁয়েছে বেশ কদিন আগে। সেখান থেকে অন্য জেলায় গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, এমনও আছেন অনেকে। প্রতিদিনই আক্রান্তের নতুন খবর আসছে। অবরুদ্ধ নারায়ণগঞ্জে গুজবেরও যেন শেষ নেই।

বাংলাদেশের হয়ে একটিমাত্র টি-টোয়েন্টি খেলা নারায়ণগঞ্জের ছেলে রনি ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ পরিচিত নাম, নিয়মিত পারফরমার। দেশের এক গণমাধ্যমকে মুঠোফোনে জানালেন, আতঙ্ক মাথায় নিয়ে কাটছে তাদের দিন, ‘অবস্থা তো খারাপ। সবাই আতঙ্কে আছে। প্রতিদিন রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। আমার বাড়ির এক কিলোমিটারের মধ্যেই আছে একাধিক আক্রান্ত। ভয় আরেকটা জায়গাতেও আছে। কিছু লোকের মৃত্যুর খবর পাচ্ছি করোনা উপসর্গ নিয়ে, কিন্তু সেগুলো চিহ্নিত হচ্ছে না বা পরিষ্কার ধারণা পাচ্ছি না আসলে কীভাবে মারা গেল। ভয়ে আমরা তো বাড়ি থেকে বেরই হই না। নানা রকম কথা শুনতে পাই। অনেক সময় সত্য-মিথ্যা যাচাই করার উপায়ও থাকে না। এ কারণে ভীতি বাড়ছে।’

শিল্প নগরী হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের ভিড় নারায়ণগঞ্জে। এদের অনেকেই নিম্নআয়ের। করোনাভাইরাস বাংলাদেশে ছড়িয়ে যাওয়ার পর সবাইকেই সতর্ক করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ঘনবসতির নারায়ণগঞ্জে সেই কাজটাই হয়নি ঠিকঠাক। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার যে আহ্বান করা হয়েছিল, তা আমলে নেয়নি বেশির ভাগ মানুষ। রনি মনে করেন, এর পরিণতি দেখছে তার শহর, ‘মানুষ সতর্ক ছিল না। নিম্নআয়ের মানুষ বেশি। তারা নানা ছুতোয় বাসা থেকে বেরোচ্ছিল। তারা মুভ করছিল, ভিড় জমাচ্ছিল। এখন লকডাউন করে দিয়েছে, তারপরও দেখা যাচ্ছে লোকজন রাস্তায় হাঁটছে। প্রতিদিন সতর্ক করা হয়েছে। কেউ গায়ে লাগায়নি।’

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) বন্ধ হওয়ার পর থেকে নারায়ণগঞ্জেই আছেন রনি। লকডাউনের আগ পর্যন্ত বন্ধুদের নিয়ে দিন-রাত ত্রাণ বিতরণে অংশ নিয়েছেন তিনি। এখন আর বাইরে গিয়ে ত্রাণ দেওয়ারও অবস্থা নেই। তবে খবর পাচ্ছেন, করোনার সঙ্গে নিম্নআয়ের মানুষদের একটা খাদ্য সংকটের বিপদও আসছে, ‘আমাদের সংগঠন ফ্রেন্ডস ডটকম থেকে ত্রাণ দিয়েছি। এ ছাড়া আমাদের বাড়ির একটা সংগঠন আছে আমার বাবার নামে (মনোরঞ্জন তালুকদার), যেটা আমার ছোট ভাই চালায়। ওখান থেকেও দিয়েছি। কিন্তু এখন দেখছি সামনে আরো বিপদ আসতে পারে। তাই আমরা এটা (ত্রাণ বিতরণ) চালু রাখব। আমরা বন্ধুরা মিলে কথা বলেছি। সামনে রোজা আসছে। কী করা যায় ভাবছি।’

ঘরবন্দি সময়ে ছোট ভাই আরেক ক্রিকেটার জনি তালুকদারকে নিয়ে ফিটনেস ঠিক রাখার কাজটাও চালু আছে রনির। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ট্রেনারদের দেওয়া পরামর্শ মেনে চলার চেষ্টা করছেন দুই সহোদর। কিন্তু আতঙ্কের আবহে কোনো কিছুতেই যেন মন বসাতে পারছেন না। আবার কবে সব স্বাভাবিক হবে, ফিরতে পারবেন মাঠে তা নিয়ে চিন্তা বাড়ছে ক্রমেই, ‘সামনে কী আছে, তা একমাত্র ওপরওয়ালাই জানেন। অনিশ্চয়তা বাড়ছে। আমরা যদি এখনো সতর্ক না হই, মহাবিপদ হতে পারে।’

 

"