না ফেরার দেশে অনন্য কোচ অ্যান্টিচ

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

তিনি সেই অনন্য ব্যক্তি, যিনি একই সঙ্গে স্পেনের তিন পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে কোচিং করিয়েছিলেন। কোচ ছিলেন স্বদেশ সার্বিয়ারও। সেই রাদোমির অ্যান্টিচ পরশু রাতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্যানক্রিয়েটিটিস (অগ্ন্যাশয়ের স্ফীতি ও প্রদাহ) নামক রোগে ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন অ্যান্টিচ। অ্যাটলেটিকোর পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সাবেক কোচ প্রাণ হারানোয় শোক প্রকাশ করে ক্লাবটির প্রধান নির্বাহী মিগেল অ্যাঙ্গেল গিল বলেছেন, ‘রাদোমিরের (অ্যান্টিচের) বিদায়ে আমরা ক্লাবের হৃদয়ের একটি টুকরা হারালাম।’

মাত্র ৩৬ বছর বয়সে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করা এই ম্যানেজার প্রথমে দায়িত্ব নেন নিজ দেশের ক্লাব পার্টিজান বেলগ্রেডের সহকারী কোচ হিসেবে। পরে মূল কোচ হিসেবে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল জারাগোজার দায়িত্ব নেন। জারাগোজাকে তুলেছিলেন উয়েফা কাপে। সেখানেই রিয়াল মাদ্রিদের নজরে পড়েন অ্যান্টিচ।

মাদ্রিদের অবস্থা তখন তথৈবচ। ১৯৯০-৯১ মৌসুমের শেষ ভাগে রিয়ালের কিংবদন্তি আলফ্রেডো ডি স্টেফানোর কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন তিনি। স্টেফানোর অধীনে খুব বেশি একটা করছিল না রিয়াল। লিগে টানা তিন ম্যাচ হেরেছিল। সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগের (তৎকালীন ইউরোপিয়ান কাপ) কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে বসেছিল রাশিয়ান ক্লাব স্পার্তাক মস্কোর কাছে। ফলে কপাল খুলে যায় অ্যান্টিচের।

তবে রিয়ালে বেশি দিন থাকা হয়নি এই সার্বিয়ান কোচের। পরের মৌসুমের মাঝ পথে ছাঁটাই হন অ্যান্টিচ। এরপর রিয়াল ওভেইদো ঘুরে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে আবার মাদ্রিদে ফেরেন। এবার দায়িত্ব নেন অ্যাটলেটিকোর। ক্যারিয়ারের স্বর্ণসময় কাটান সেখানেই। জেতেন লা লিগা ও কোপা দেল রে।

তিন বছর অ্যাটলেটিকোতে থাকার পর কিংবদন্তি এসি মিলান ম্যানেজার আরিগো সাচ্চির কাছে চাকরি হারান। তবে বেশি দিন চাকরিহীন থাকতে হয়নি। সাচ্চি অ্যাটলেটিকোকে তেমন ভালো ফলাফল এনে দিতে পারেননি, ফলে লাল-সাদা ক্লাবটি আবার দ্বারস্থ হয় অ্যান্টিচের। প্রিয় ক্লাবকে এবার অবনমনের হাত থেকে বাঁচান তিনি। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম শেষে আরেক ইতালিয়ান ক্লাউদিও রানিয়েরির কাছে চাকরি হারান। রানিয়েরি যাওয়ার পর তৃতীয়বারের মতো অ্যাটলেটিকোর দায়িত্ব নেন, কিন্তু এবার আর অবনমন এড়াতে পারেননি।

২০০২-০৩ মৌসুমের শেষ দিকে বার্সেলোনার ডাগআউটে আসেন অ্যান্টিচ। ডাচ কোচ লুই ফন গালের স্থলাভিষিক্ত হন। এর মাধ্যমে রেকর্ড বইতে নাম ওঠে তার। রিয়াল ও বার্সাÑ স্প্যানিশ ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে কোচিং করানো দ্বিতীয় ও সর্বশেষ ম্যানেজার বনে যান অ্যান্টিচ। তার আগে এই কীর্তি গড়তে পেরেছেন কেবল উরুগুয়ের এনরিকো ফার্নান্দেজ ভিয়োলা।

তিনি যখন বার্সেলোনার দায়িত্ব নেন, তখন ক্লাবের অবস্থা বেশ খারাপ। লিগের ১৫তম স্থানে ছিলেন পুয়োল-জাভিরা। শেষমেশ ষষ্ঠ স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করেন, দলকে তোলেন উয়েফা কাপে। যদিও সে প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালে জুভেন্টাসের কাছে হার মানতে হয় বার্সাকে। বার্সার দায়িত্ব ছাড়ার পর নিজ দেশের দায়িত্বে ছিলেন বছর দুয়েক। সর্বশেষ দায়িত্বে ছিলেন দুই চাইনিজ ক্লাবেরÑ হেবেই চায়না ফরচুন ও শানডং লুনেং।

কোচিং জগতে পা রাখার আগে দীর্ঘ ১৭ বছর পেশাদার ফুটবল খেলেছেন অ্যান্টিচ। সার্বিয়ার অন্যতম সেরা ক্লাব পার্টিজান বেলগ্রেডের পাশাপাশি ডিফেন্ডার হিসেবে তিনি প্রতিনিধিত্ব করেন স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল জারাগোজা ও ইংলিশ ক্লাব লুটন টাউনের। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাবেক যুগোসøাভিয়ার হয়ে ১৯৭৩ সালে একটি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন তিনি।

তার মৃত্যুতে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা আলাদা আলাদা শোকবার্তা দিয়েছে। শোক জানিয়েছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফাও।

 

"