কৈশোরে ছিলেন মাদকাসক্ত

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রতিভা, অধ্যাবসায় আর উপযুক্ত ক্ষেত্র পেলে হয়তো শত প্রতিবন্ধকতা জয় করেও সফল হওয়া যায়। হাকিম জিয়েখ তার বড় উদাহরণ। ইউরোপিয়ান ফুটবলে কয়েক বছর ধরেই খুব নামডাক অ্যাটাকিং এই মিডফিল্ডারের। ড্রিবলিং, ফিনিশিং আর মাপা দূরপাল্লার শটে ফুটবলবোদ্ধাদের মন জিতে নিয়েছেন ২৬ বছর বয়সি তারকা। ২০১৮-১৯ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেরা ২০ ফুটবলারের একজন তিনি। কিন্তু এই হাকিমকে জয় করতে হয়েছে কঠিন সব বাস্তবতা।

সবে কৈশোরে পৌঁছাতেই বাবাকে হারান। ৯ ভাই-বোনের সংসারে হঠাৎ বাবার মৃত্যুতে অন্ধকার নেমে আসে হাকিমের পরিবারে। বাবাই ছিলেন ফুটবলার হওয়ার বড় অনুপ্রেরণা। সেই বাবা যখন চলে গেলেন হাকিমের জীবন থেকে ফুটবলও হারিয়ে যেতে বসেছিল।

ফুটবল খেলার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। আগ্রহটাই মরে গিয়েছিল। কিশোর বয়সে অভিভাবকের সান্নিধ্য না পাওয়া হাকিম ধূমপান, মদ্যপানে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। কঠিন বাস্তবতা তাকে মাদকসেবী বানিয়ে ফেলে। হাকিমের সুন্দর জীবন যখন ধ্বংসের মুখে তখন আশীর্বাদ হয়ে আসেন আজিজ দৌফিকার। মরক্কো থেকে নেদারল্যান্ডসে খেলা প্রথম ফুটবলার আজিজ। নেদারল্যান্ডসের ড্রোনটেন শহরে তরুণ প্রতিভাবান ফুটবলারদের নিয়ে কাজ করছিলেন সাবেক তারকা এই ফুটবলার। হাকিমকে খুঁজে পান সেভাবেই, আর হাকিমের আজকের তারকা হয়ে ওঠার সূচনাও সেখান থেকে।

ডাচ সংবাদমাধ্যম ‘দেল ভলসক্রান্তে’র কাছে কঠিন মুহূর্তগুলোর বর্ণনা তুলে ধরেছেন হাকিম। বলেছেন, ‘(বাবার মৃত্যুর পর) আর স্কুলে যাওয়া হয়নি। ফুটবল অপ্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে। পুরো শেষ হয়ে যাই আমি।’

বাবার মৃত্যুর সময়টা উল্লেখ করেছেন এভাবে, ?‘ওই সময়ের কথা সব মনে আছে আমার। ওটা ছিল শীতের সময়, বড় দিনের পরপরই। বাবা অসুস্থ, আমি তার পাশে থাকতে চেয়েছি। তার বিছানার এক কোণে ঘুমিয়ে পড়ি। মাঝরাতে হুট করে ঘুম ভেঙে গেলে দেখি পরিবারের অন্যরা কান্নাকাটি করছে। পরে দেখি বাবা মারা গেছেন। তখন আমার বয়স ১০ বছর।’

হাকিমের সেই সময়ের দিনগুলো নিয়ে আজিজ দৌফিকার বলেন, ‘বাবাকে হারিয়ে সে পদচ্যুত হয়ে পড়ে। মদ্যপান, ধূমপানের সঙ্গে ড্রাগস নিতে থাকে। সেখান থেকে তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি আমি। আমি তার পথপ্রদর্শক, কোচ এবং বাবা। সে ফুটবলকে ভয় পেত। তাকে নানা টুর্নামেন্ট খেলে স্বাভাবিক করে তুলি। এরপর উন্নতিটা দেখেছি। ভাগ্যও সঙ্গে ছিল, এখন সে পুরো প্রস্ফুটিত।’

কঠিন বাস্তবতা জয় করা হাকিমের দুনিয়াটাই পাল্টে গেছে এখন। আয়াক্স থেকে ৪৪ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তিতে তাকে দলে ভিড়িয়েছে চেলসি। বাংলাদেশি মুদ্রায় অঙ্কটা প্রায় ৪০৪ কোটি টাকা।

 

"