ফাইনালে জনসমুদ্র মিরপুর শেরেবাংলা

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

‘পুরো বিপিএলে সব মিলিয়েও তো এত দর্শক দেখিনি। আজকে (কালকে) সেই সকাল থেকেই মানুষের ভিড়। দোকানের সামনে থেকে সরাতেও পারছি না’- কথাগুলো বলছিলেন মিরপুরে বিসিবির একাডেমি মাঠের বাইরে থাকা (স্টেডিয়ামের ১ নম্বর গেটের পাশে) ফাস্ট-ফুডের দোকানের এক কর্মচারী। সেই দোকানের সামনের রাস্তায় তখন কয়েকশ মানুষের জটলা। তারা সবাই চাতক পাখির মতো তাকিয়ে টিকিট বুথের দিকে। সবার চাওয়া একটি টিকিট, যা রীতিমতো পরিণত হয়েছিল ‘সোনার হরিণে’।

অথচ বিকাল ৩টার আগেই কাউন্টার থেকে বলে দেওয়া হয়েছিল, শেষ হয়ে গেছে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ফাইনাল ম্যাচের সব টিকিট। এখন আর বুথের সামনে ভিড় করে লাভ নেই। কিন্তু এই বলাতে কি আর টিকিটের অপেক্ষায় থাকা দর্শকদের মানানো যায়? তাই সবাই অপেক্ষা করতে থাকেন ইতিবাচক কোনো ঘোষণার, যাতে করে পেতে পারেন খুলনা টাইগার্স ও রাজশাহী রয়েলসের মধ্যকার লড়াই মাঠে বসে দেখার সুযোগ। কিন্তু তাদের বেশির ভাগকেই ফিরতে হয়েছে হতাশা নিয়ে।

খেলা শুরুর সময় যত এগিয়েছে স্টেডিয়াম চত্বরে মানুষের ভিড় ততই বেড়েছে। বিশেষ করে স্টেডিয়ামের ১ ও ২ নম্বর গেটে মানুষের ভিড় যেন তখন পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে। মাঠে ঢোকার লাইনে দাঁড়ানো ছিল অন্তত ৫০০ মানুষ। আর লাগোয়া রাস্তায় টিকিটের অন্বেষণে থাকা মানুষের সংখ্যা ছিল কয়েক হাজার। যাদের হাতে টিকিট আছে, তারা সবাই মুখে রাজ্যের হাসি নিয়ে প্রবেশ করছেন মাঠে। আর বাকিরা ইতিউতি করছেন একটি টিকিটের জন্য।

এই সুযোগ বেশ করে লুফে নিয়েছেন অসাধু ব্যক্তিরা। তারা কালোবাজারির মাধ্যমে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করেছে ফাইনালের এক দিন আগেই সংগ্রহ করা টিকিটগুলো। স্টেডিয়ামের মূল গেটের কাছেই একটি জটলায় নজর দিতেই দেখা গেল কালোবাজারি যেন স্বয়ং বিসিবির সঙ্গেই জড়িত। কেননা তার গলায় ঝুলছিল বিসিবির দেওয়া ভল্যান্টিয়ার আইডি কার্ড আর হাতে ছিল শহীদ জুয়েল স্ট্যান্ডের অন্তত ১৫ থেকে ১৬টি টিকিট।

কথা বলতে চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে টিকিটগুলো পকেটে পুরে জটলা ভেঙে দিলেন সেই কালোবাজারি। মুখ দিয়ে ‘টু’ শব্দও না করে হাঁটা ধরলেন উল্টো পথে। ভিড়ের মধ্যে আর অনুসরণ করা যায়নি তাকে। এমন আরো বেশ কিছু জটলা দেখা গেছে ২ নম্বর গেটের কাছেও। যেখানে অজ্ঞাত পরিচয় কতিপয় ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছিলেন সাদা খাম হাতে নিয়ে। তাদের ঘিরে ছিলেন টিকিটের অপেক্ষায় থাকা দর্শকরা।

তবে কালোবাজারির বিষয়টি বাদ দিলে বিপিএলের ফাইনালকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ সত্যিই বিস্ময় জাগানিয়া। কেননা পুরো টুর্নামেন্টের বেশির ভাগ ম্যাচেই দেখা গেছে কাউন্টারে বসে মাছি মারছেন টিকিট বিক্রেতারা। স্টেডিয়ামের গ্যালারিও যেন ছিল ধূ ধূ মরুভূমি। বিগ ম্যাচের দিনগুলোতেও ছিল একই দৃশ্য, ফাঁকা গ্যালারি।

সে তুলনায় ফাইনাল ম্যাচে উৎসাহ-আগ্রহ নিয়েই মাঠে এসেছেন দর্শকরা। স্টেডিয়ামে ঢোকার লাইনে দাঁড়িয়েই একদল স্লোগান দিচ্ছিল ‘খুলনা, খুলনা’, তো আরেকদল প্রতিউত্তরে হর্ষধ্বনি তুলেছে রাজশাহীর নাম মুখে নিয়ে। একই সঙ্গে মুশফিক-রুশো, লিটন-রাসেলদের নিয়েও শোনা গেছে উচ্চস্বরে স্লোগান। খেলা শুরুর ঘণ্টা চারেক আগে থেকেই গেটের বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন এসব দর্শক। পরে মুশফিক-লিটনরা মাঠে নামার আগেই তারা পরিপূর্ণ করেছেন শেরেবাংলার গ্যালারি। ঠিক যেমনটা দেখা যায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচে। খেলার শুরুর আগে রাজশাহী ও খুলনার খেলোয়াড়দের অনুশীলনের সময়েও তুমুল সেøাগান ও করতালিতে মাঠ গরম করে রেখেছেন ক্রিকেটপাগল দর্শকরা।

এরই মাধ্যমে আসরের সবচেয়ে জমজমাট ম্যাচে দেখা মিলেছে প্রাণশক্তিতে ভরপুর শেরেবাংলার। যেন এক মাসেরও বেশি সময় অপেক্ষার পর প্রাণ ফিরে এসেছে দেশের হোম অব ক্রিকেটে।

 

"