সান্তনার জয়ে রংপুরের সমাপ্তি

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

রংপুর রেঞ্জার্সের জন্য ম্যাচটা ছিল নিছক আনুষ্ঠানিকতার। অন্যদিকে যমুনা ব্যাংক ঢাকা প্লাটুনের জন্য ছিল শীর্ষে ওঠার হাতছানি। জিতলেই সেরা দুইয়ে থাকা অনেকটাই নিশ্চিত হতো। কিন্তু এমন ম্যাচে রংপুরের কাছে হেরে গেল ঢাকা। আসরের শেষ ম্যাচে জ্বলে উঠল রংপুরের বোলাররা। তাতে রাজধানীর দলকে ১১ রানে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু বিপিএলে ইতি টানল তিস্তাপাড়ের দলটি।

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কাল শুরুতে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেটে ১৪৯ রানের সংগ্রহ গড়ে আগেই সেরা চার থেকে ছিটকে যাওয়া রংপুর রেঞ্জার্স। জবাব দিতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৮ পর্যন্ত যেতে পারে ঢাকা প্লাটুন।

গতকাল অবশ্য টস জিতেছিল ঢাকাই। কিন্তু প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। বল হাতে ম্যাশই প্রথম রংপুর শিবিরে আঘাত হানেন। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক শেন ওয়াটসনকে ফেরান তিনি। তার সঙ্গে দুই স্পিনার মেহেদী হাসান ও শাদাব খানও দারুণ বোলিং করেন। ফলে দলীয় ৫০ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি।

এরপর লুইস গ্রেগরিকে নিয়ে দলের হাল ধরেন আল-আমিন জুনিয়র। গড়েন ৪৯ রানের জুটি। এ জুটি ভাঙেন থিসারা পেরেরা। এরপর জহুরুল ইসলাম অমিকে নিয়ে ৪১ রানের আরেকটি জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন আল-আমিন। অবশ্য ইনিংসের শেষ ওভারে দেখা যায় চরম নাটকীয়তা। শেষ চার বলে ৪টি উইকেট হারায় রংপুর। তবে শেষ দুটি রানআউট হওয়ায় কোনো হ্যাটট্রিক হয়নি।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৬ রানের ইনিংস খেলেন গ্রেগরি। ৩২ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। ২৪ বলে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৫ রান করেন আল-আমিন। জহুরুলের ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪৯ রান সংগ্রহ করে দলটি। ঢাকার পক্ষে ২৩ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নিয়েছেন থিসারা। ২৫ রানের বিনিময়ে শাদাবের শিকার ২টি। মাঝারি লক্ষ্য ছুড়েও রংপুর দল পেয়েছে বোলারদের দারুণ নৈপুণ্যে। দলের সব বোলারই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন। লক্ষ্য তাড়ায় দলীয় ৯ রানেই এনামুল হক বিজয়কে হারায় ঢাকা। তবে দ্বিতীয় উইকেটে মেহেদী হাসানকে নিয়ে ৪৬ রানের জুটি গড়েন তামিম ইকবাল। এরপর মেহেদী আউট হলে মমিনুল হককে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু এ জুটি ভাঙতেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। হাল ধরতে পারেননি কোনো ব্যাটসম্যান। স্কোরবোর্ডে ৪০ রান যোগ করতে ৭টি উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ে পড়ে ঢাকা।

যদিও শেষ দিকে ম্যাচ কিছুটা হলেও জমিয়ে দিয়েছিলেন মাশরাফি। তাতে অবশ্য লাভ হয়নি। কেবল হারের ব্যবধানই কমেছে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৮ রানের বেশি করতে পারেনি দলটি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন তামিম। মেহেদী হাসান করেন ২০ রান। রংপুরের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন জুনায়েদ খান, তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানি। একটি করে শিকার ধরেছেন লুইস গ্রেগরি ও মুস্তাফিজুর রহমান। এ জয়ের ফলে ১২ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে আসর শেষ করল রংপুর। আগেই প্লে-অফ নিশ্চিত করা ঢাকা এ হারের পরও রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। ১১ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট তাদের। সমান ম্যাচ সমান ১৪ পয়েন্ট রাজশাহীরও। আজ রাউন্ড-রবিন পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে খুলনা টাইগার্সের মোকাবিলা করবে ঢাকা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

রংপুর রেঞ্জার্স : ১৪৯/৯, ২০.০ ওভার

ঢাকা প্লাটুন : ১৩৮/৯, ২০.০ ওভার

ফল : রংপুর রেঞ্জার্স ১১ রানে জয়ী

ম্যাচসেরা : লুইস গ্রেগরি

 

"