বাঘিনিদের হাতে মালদ্বীপের ক্রিকেট পাঠ

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

চলমান দক্ষিণ এশিয়ান (এসএ) দিয়েই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিযান শুরু করেছে মালদ্বীপের মেয়েরা। আনকোরা এই দলটাকে পেয়ে তাই সবাই ছেলেখেলায় মেতেছে। নেপালের বিপক্ষে মাত্র ১৭ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল মালদ্বীপের মেয়েরা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও করতে পেরেছিল মাত্র ৩০ রান। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থা তো আরো ভয়াবহ। মাত্র ৬ রানেই অলআউট গেছে দলটি। কাল ঋতু মনির বোলিং তোপের পাশাপাশি সালমা খাতুনের ঘূর্ণিতে কী লজ্জাটাই না পেল ভারত মহাসাগরের বুকে জেগে ওঠা দ্বীপ দেশটি। ফলে ২৪৯ রানের ইমারতসম জয় পেয়েছে বাঘিনিরা।

শুধু বোলিংয়ে নয়, মালদ্বীপের বিরুদ্ধে রান বন্যার খেলাতেও মেতেছিল প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানরা। শ্রীলঙ্কা তো করেছিল ২৭৯ রান। তাই তাদের বিপক্ষে এভারেস্ট উচ্চতার স্কোর গড়বেনÑ এমনটা প্রত্যাশিতই ছিল বাংলাদেশের মেয়েদের কাছে। সেই প্রত্যাশা পূরণও করেছে সালমা খাতুনের দল। বৃহস্পতিবার পোখারার রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে ২৫৫ রানের অট্টালিকা গড়েছে বাংলাদেশ, যা এ সংস্করণে তাদের সর্বোচ্চ স্কোরও বটে। এর আগের সর্বোচ্চ ছিল ১৫২ রান।

রান উৎসবের ইনিংসে দুই ব্যাটার নিগার সুলতানা ও ফারজানা হক তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। তৃতীয় উইকেটে তাদের করা ২৩৬ রানের জুটিও নতুন রেকর্ড। কারণ এতো বড় জুটি হয়নি বাংলাদেশের মেয়েদের ক্রিকেটে। তবে রানের ‘টুইন টাওয়ার’ স্থাপন করেও কিছুটা আক্ষেপ করতেই পারেন তারা। কারণ ম্যাচটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃত নয়। অন্যথায় জুটির নতুন রেকর্ডের পাশাপাশি দেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার খেতাবটা পেতে পারতেন নিগার। টি-টোয়েন্টি তো দূরের কথা, ওয়ানডে ক্রিকেটেও কোনো সেঞ্চুরি নেই বাংলাদেশি নারী ক্রিকেটারদের।

পোখারায় এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে বাঘিনিরা। তবে শুরুটা হয়েছিল বিবর্ণ। দলীয় ১০ রানেই ওপেনার শামিমা সুলতানা রানহয়ে সাজঘরে ফেরেন। আরেক ওপেনার সানজিদা ইসলামও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। স্কোরবোর্ডে আর ৯ রান যোগ হতেই ফিরে আসেন তিনি। এরপর চাপে পড়া বাংলাদেশের হাল ধরেন নিগার ও ফারজানা। দুই ব্যাটসম্যানই দায়িত্ব নিয়ে প্রাথমিক চাপ সামলে আগ্রাসী ঢঙে ব্যাট করতে থাকেন। দুইজনই পৌঁছান তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে। মাত্র ৬৫ বলে ১৪টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ১১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন নিগার। ফারজানা ছিলেন আরো আগ্রাসী। হার না মানা ১১০ রান করতে মাত্র ৫৩টি বল মোকাবেলা করতে হয়েছে তাকে।

‘অসম্ভব’ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের তোপে পড়ে মালদ্বীপ। সেই সঙ্গে ফিল্ডাররাও ছিলেন দুর্দান্ত। দুই ব্যাটারকে রানআউট করেছেন তারা। দলের সর্বোচ্চ রানের স্কোরটি মাত্র ২। আসে শাম্মা আলির ব্যাট থেকে। আট জন তো রানের খাতাই খুলতে পারেননি। ফলে মাত্র ৬ রানেই প্যাকেট হয় মালদ্বীপ। ট্রাইগ্রেসদের হয়ে ৩টি করে শিকার ধরেছেন ঋতু ও সালমা। রোববার সোনালি সাফল্যের খোঁজে শেষবার মাঠে নামবেন তারা।

বাংলাদেশ : ২৫৫/২, ২০ ওভার মালদ্বীপ : ৬ অলআউট, ১২.১ ওভার

ফল : বাংলাদেশ ২৪৯ রানে জয়ী

 

"