বর্ণবিদ্বেষের জবাব গোল-উৎসবে

প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

সাহিদ রহমান অরিন

ইউরোর চূড়ান্ত পর্ব আর ইংল্যান্ডের মধ্যকার ফারাকটা এখন মাত্র এক পয়েন্টের। সোমবার রাতে বুলগেরিয়ার বিরুদ্ধে ৬-০ গোলের বিশাল জয় ইংলিশদের মহাদেশীয় ‘ফুটবল ফেস্টের’ সন্নিকটে নিয়ে এসেছে। তবে গ্যারেথ সাউথগেটের শিষ্যদের গোল-উৎসব ছাপিয়ে ম্যাচটা স্মরণীয় হয়ে রইল কুরুচিপূর্ণ এক কারণে। বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যের জেরে দুই-দুইবার যে খেলা থামাতে হয়েছে ক্রোয়েশিয়ান রেফারি ইভান বেবেককে!

বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় মার্কাস রাশফোর্ড ও রস বার্কলের শুরুর গোলে দুই দফা এগিয়ে গিয়েছিল ইংলিশরা। নিজেদের ঘরে অতিথিদের এমন দাপট কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি বুলগেরিয়ার কট্টর সমর্থকরা। ফলে ইংলিশ ফুটবলারদের দিকে ধেঁয়ে আসতে থাকে তাদের ছোড়া একের পর এক বর্ণবাদী মন্তব্য, যেখানে বুলগেরিয়ানদের মূল টার্গেট ছিলেন অভিষিক্ত টাইরন মিঙ্গস।

এই ঘটনার পর খেলা থামাতে একদমই বিবেকে বাঁধেনি রেফারি বেবেকের। একটু পর সমর্থকদের উদ্দেশে ঘোষণা দেওয়া হলো, যদি বর্ণবিদ্বেষী কথাবার্তা চলতে থাকে তাহলে ফের খেলা বন্ধ করে দেওয়া হবে। ম্যাচ অফিশিয়ালদের কড়া বার্তার পর ক্ষণিকের জন্য মুখ বন্ধ রাখেন বুলগেরিয়ানরা। শুরু হয় ম্যাচ।

স্বাগতিকদের বর্ণবাদী আচরণের ‘প্রাথমিক ধাক্কা’ সইয়ে ফের খেলায় মনোনিবেশ করার চেষ্টায় ইংল্যান্ড। কিন্তু ইংলিশদের সে চেষ্টায় গুঁড়োবালি। ৩২ মিনিটে অধিনায়ক হ্যারি কেনের ক্রস থেকে মাথা ছুঁয়ে নিজের জোড়া আর দলের তৃতীয় গোলটা করে যেন ‘মহাভুল’ করে ফেললেন বার্কলে! এবার আর বুলগেরিয়ানদের থামায় কে? বাধ্য হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো খেলা বন্ধ করলেন রেফারি বেবেক। ডেকে নিলেন দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের। জানিয়ে দিলেন, এমনটা চলতে থাকলে মূল্য চোকাতে হবে বুলগেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশনকে। উয়েফার তরফ থেকে আসতে পারে শাস্তির ঘোষণা।

এবার নড়েচড়ে বসল আয়োজকরা। বিষয়টা সমর্থকদের মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ নিল তারাই। স্টেডিয়াম থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হলো ‘চিহ্নিত’ বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যকারীদের। দুই দফা বিলম্বের পর আবার শুরু হলো ম্যাচ। তবে এবার যেন আরো সুসংহত হয়ে ফিরলেন হ্যারি কেনরা। বর্ণবৈষম্যের শিকার সতীর্থ মিঙ্গসের মন খারাপের মুহূর্তটা হয়তো একটু বেশিই তাতিয়ে দিয়েছিল রাহিম স্টার্লিংকে। ম্যানটেস্টার সিটি তারকা সেটার ঝাঁজ দেখালেন বিরতিতে যাওয়ার আগেই। বারবার ম্যাচ বন্ধ হওয়ায় প্রথমার্ধের স্টপেজ টাইম দাঁড়িয়েছিল ৬ মিনিটের। স্টার্লিং স্কোরশিটে নাম তুললেন তার ২ মিনিট আগেই। দলের হালি পূরণে তাকে সহযোগিতার বল বাড়িয়ে দিলেন দলনেতা কেনই।

বুলগেরিয়ানরা হয়তো ততক্ষণে বুঝে গেছেন, ‘ইংলিশদের যত জ্বালাবে ওরা তত বেশি গোল করবে।’ ফলে বিরতির পর মুখ থেকে আর কুকথা বের করার সাহস দেখাননি তারা। কিন্তু ইংরেজরা তাতে সায় দিলে তো! দ্বিতীয়ার্ধে আরো দুই দফা তিন কাঠির ভেতর থেকে বুলগেরিয়ান গোলকিপারকে দিয়ে বল কুড়িয়ে আনিয়েছে সাউথগেটের ছাত্ররা। ৬৯ মিনিটে পঞ্চম গোল করেন সেই স্টার্লিং। এবারও বলের জোগানদাতা হ্যারি কেন।

বুলগেরিয়ানদের গোলের মালা পরিয়ে যখন বর্ণবিদ্বেষের জবাব দিচ্ছিলেন সতীর্থরা, তখন কেনই বা গোলবঞ্চিত থাকবেন কেন? ম্যাচের ৮৫ মিনিটে স্বাগতিক কফিনে এপিটাফ লেখার দায়িত্বটা নিলেন টটেনহাম স্ট্রাইকার নিজেই। অমøমধুর এই জয় ১৯৬৬-এর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে গেল মূল পর্বের আরো কাছে। সঙ্গে বুলগেরিয়াকে দাঁড় করাল অপরাধীর কাঠগড়ায়। নিজেদের ফুটবলাররা বর্ণবিদ্বেষের শিকার হওয়ায় এরই মধ্যে যে উয়েফাকে তদন্তের আর্জি জানিয়েছে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)!

"