‘বাংলাদেশ আমার দ্বিতীয় বাড়ি’

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

স্মরণীয় এক জয়ের সুখস্মৃতি নিয়ে ক্রিকেটকে বিদায় বলেছেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। সেই জয়টা এসেছে তার হাত ধরেই। সতীর্থরা তো বটেই, বিদায় বেলায় তাকে গার্ড অব অনার দিয়েছে আফগানরাও। এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে?

বিদায়ের বিষাদ ছাপিয়ে সংবাদ সম্মেলনে হাসিমাখা মুখ নিয়ে হাজির হলেন মাসাকাদজা। অকপটে জানালেন, কষ্ট হচ্ছে তবে কোনো অপূর্ণতা নেই। বরং ১৮ বছরে যা অর্জন করেছেন, তা নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট তিনি। এখন নতুনদের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার সময়। সে কারণেই নিজে সরে দাঁড়িয়ে সেই পথ পরিষ্কার করে দিলেন।

শেষ ম্যাচে বিশেষ জার্সি পরে খেলতে নেমেছিলেন মাসাকাদজা। ম্যাচ শেষে বিসিবির কাছ থেকে পেয়েছেন বিশেষ সম্মাননা আর স্মারক উপহার। উপহার সামগ্রীর একটি ছিল ফ্রেমে বাঁধানো তার ক্যারিয়ারের স্মরণীয় কিছু মুহূর্ত। ফ্রেমে লেখা ‘থ্যাংকস মুধারা হ্যামি’ (জিম্বাবুয়েন ভাষায় এর অর্থ ‘পরিণত’)। এটা তার ডাক নাম, যা ক্যারিয়ারের শুরুতে পেয়েছিলেন।

উপহার হাতে নিয়েই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন মাসাকাদজা। এরপর বিদায়ী বক্তৃতার এক পর্যায়ে বাংলাদেশ নিয়ে নিজের ভালোবাসার কথাও বলেছেন তিনি। জানিয়েছেন, তার হৃদয়ে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে এই দেশ। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে মাসাকাদজার সম্পর্ক অনেক পুরোনো। খেলেছেন এ দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটেও। জাতীয় দলের হয়ে সফর করেছেন বহুবার।

বাংলাদেশ নিয়ে মাসাকাদজার আবেগের আরেকটা কারণ আছে। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডকে আইসিসি বরখাস্ত করার পর বিসিবি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমন্ত্রণ জানিয়েছে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেওয়ার জন্য। ফলে ছন্নছাড়া জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ফের আশার আলোর দেখা পেয়েছে। আর মাসাকাদজাও পেয়েছেন মাঠ থেকেই বিদায় নেওয়ার সুযোগ।

তাই তো মাসকাদজা বললেন, ‘বাংলাদেশ আমার দ্বিতীয় বাড়ি এবং আমার হৃদয়ে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। আমি এখানে অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি এবং অনেক বন্ধু পেয়েছি। আমি এখান থেকে অনেক কিছু শিখেছি। এখানকার মানুষের ক্রিকেটের প্রতি আবেগকে আমি ভালোবাসি। এটা আমি দারুণ উপভোগ করি। বাংলাদেশে অনেকবার আসতে পারা এবং এখানকার সংস্কৃতি ও মানুষ সম্পর্কে জানতে পারা আমার জন্য অনেক বড় আশীর্বাদ।’

নিজের বিদায়ী ম্যাচে বিশ্ব রেকর্ডকে সঙ্গী করেছেন মাসাকাদজা। পরশু রাতে আফগানদের ৭ উইকেটে হারিয়ে দেওয়া ম্যাচে ৪২ বলে ৭১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন ৩৬ বছর বয়সি ব্যাটসম্যান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে বিদায়ী ম্যাচে কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ইনিংস এখন এটিই।

 

"