‘ক্রিকেটাররা জিতলে বাড়ি-গাড়ি আমরা জিতলে কিছুই না’

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

একসময় দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ছিল ফুটবল। কিন্তু ক্রমেই ক্রিকেটের আগ্রাসনে ফুটবলের কথা সবাই ভুলে গেছে। এখন তো পরিস্থিতি এমন হয়েছে, ক্রিকেটের তারকাখ্যাতির কাছে পাত্তা পান না অন্য খেলার খেলোয়াড়রা। যেমনÑ রোমান সানা।

গত শুক্রবার এশিয়ান ওয়ার্ল্ড র‌্যাংকিং আর্চারিতে সোনা জিতে দেশকে গর্বিত করেছেন তিনি। ১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়ান গেমসে বক্সিংয়ে মোশাররফ হোসেনের ব্রোঞ্জ জয় ছিল এত দিন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্জন। অথচ এবার দেশকে আন্তর্জাতিক সম্মান উপহার দিয়েও বিনিময়ে কিছু পাননি রোমান। গতকাল দেশে ফিরে তাই নিজের কষ্টের কথা গোপন রাখেননি এশিয়ার সেরা তীরন্দাজ।

দেশবাসীকে সোনার পদক উৎসর্গ করা রোমান সানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের দেশে ক্রিকেটে একটা সিরিজ জিতলেই ক্রিকেটাররা বাড়ি-গাড়ি পেয়ে যান। অথচ ২০৯ জনকে পেছনে ফেলে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতেও আমরা কিছু পাই না। দেশকে সাফল্য এনে দিলাম। কিছু পাওয়ার আশা তো থাকে। আমরা গাড়ি-বাড়ি চাই না। লাখ টাকা বেতনও চাই না। আমরা একটা নিশ্চিন্ত জীবনের স্বপ্ন দেখি। সেটা কি খুব বেশি কিছু?’

ক্রিকেট জনপ্রিয় খেলা হওয়ায় বিসিবি বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রিকেট বোর্ড। প্রচুর বেতন এবং ম্যাচ ফি পান ক্রিকেটাররা। সেই সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ জয়ের পর সরকারের পক্ষ থেকেও মহামূল্যের উপহার দেওয়া হয়। কিন্তু ৫৫টি দেশের ২০৯ জনকে পেছনে ফেলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য সেরা সাফল্য বয়ে আনলেও তেমন কিছু পান না রোমান সানারা। এবার তো সোনা জয়ের পাশাপাশি তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অলিম্পিকে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। এত সব অর্জনের পরও সরকারপ্রধানের তরফ থেকে একটা অভিনন্দন বার্তাও তিনি পাননি! গাড়ি-বাড়ি কিংবা বড় কোনো পুরস্কার তো দূরের কথা!

রোমান সানা তাই নিজের খেলা নিয়ে দিন-রাত মগ্ন থাকতে পারেন না। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান রোমানকে তো সংসার চালাতে হবে। তাই বাংলাদেশ আনসারে সাধারণ একটা চাকরি করেই অর্থের জোগান দিতে হয়। এত প্রতিবন্ধকতার পরও খেলা ছাড়েননি তিনি। নিজের জন্য এবং দেশের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক পদক জেতার পর নিজের ফেডারেশন বা ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তাকে কোনো পুরস্কারও দেয়নি। শুধু ফুলের মালা দিয়ে ও মিষ্টি খাইয়ে বরণ করা হয়েছে।

তবে কেউ কিছু না দিলেও অলিম্পিকের জন্য প্রস্তুত হবেন রোমান। দেশকে আবার সম্মান এনে দেওয়াই তার লক্ষ্য। বড় কিছু আশা করেন না তিনি, ক্রিকেটারদের হিংসাও করেন না, তাই বলে কি অভিমানও হবে না?

 

 

"