অ্যাশেজ ধরে রাখল অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

দুই ইনিংসেই বিপদের মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার হাল ধরেন স্টিভেন স্মিথ। করেন অসাধারণ ব্যাটিং। তাতে লড়াইয়ের বড় পুঁজিই পায় অজিরা। পরে প্যাট কামিন্স, জস হ্যাজেলউড ও মিশেল স্টার্কের আগুন ঝরা বোলিংয়ে ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে ইংল্যান্ডকে দাঁড়াতেই দেয়নি সফরকারীরা। এ সুবাদে দাপুটে জয়ে এক ম্যাচ আগেই অ্যাশেজ নিজেদের দখলেই রাখল অস্ট্রেলিয়া।

পরশু ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অ্যাশেজ সিরিজের চতুর্থ টেস্টে ইংল্যান্ডকে ১৮৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া। আর তাতে এ সিরিজ ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে রইলেন অজিরা। প্রথম ইনিংসে ১৯৬ রানের লিডের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ১৮৬ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে ৩০৭ রানে ইংল্যান্ড গুটিয়ে দলটির জিততে লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ৩৮৩ রান। কিন্তু পরশু এ রানের পেছনে ছুটতে গিয়ে শুরুতেই বিপদে পড়েছিল স্বাগতিকরা। শেষ বিকালে ১৯৭ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। এর ফলে বড় জয় পায় অজিরা। একই সঙ্গে অ্যাশেজ টেস্টের শিরোপাও নিজেদের দখলে রেখে দেওয়ার আনন্দে মাতে টিম পেইনের দল।

শেষ দিনে পরশু জিততে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৩৬৫ রান। সেটি ছিল দলটির জন্য প্রায় অসম্ভব। তাই এদিন সকাল থেকে জো রুট বাহিনী লক্ষ্য স্থির করে ম্যাচ বাঁচানো। শুরুটাও দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান জো ডেনলি ও জেসন বেশ করেন। প্রথম সেশনের ১ ঘণ্টা নিরাপদেই তারা কাটিয়ে দেন। কিন্তু লাঞ্চের আগে রয়কে (৩১) দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন প্যাট কামিন্স। এর কিছুক্ষণ পরই বেন স্টোকসকে উইকেটের পেছনে টিম পেইনের গ্লাভস বন্দি করেন এ পেসার। তাতে ফের বিপদে পড়ে ইংল্যান্ড। তবে জো ডেনলি এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এ ওপেনার লাঞ্চের পর ফিরে হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ধৈর্য হারান। সে সুযোগে স্পিনের বাউন্সে তাকে প্রলুব্ধ করে শর্ট খেলতে উদ্বুদ্ধ করেন নাথান লায়ন। সেই ফাঁদে পা দিয়ে ইংলিশ ওপেনার শর্ট লেগে ক্যাচ তুলে নেন লাবুশেনের হাতে। ফেরার আগে তিনি করেন ৬টি চারে ৫৩ রান।

ডেনলি ফেরার পর জস বাটলার ও জনি বেয়ারস্টো বুক চিতিয়ে লড়াইয়ের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তারা কেউ নিজেদের ইনিংস বড় করতে পারেনি। সে সুযোগে চা বিরতির আগেই বেয়ারস্টোকে (২৫) সাজঘরের পথ দেখান স্টার্ক। পরে সতীর্থের দেখানো পথে হাঁটেন ইংল্যান্ডের শেষ ভরসা বাটলার। ১৫১ মিনিট ক্রিসে থেকে এ ডানহাতি ৪টি চারে ৩৪ রান করে হ্যাজেলউডের বলে বোল্ড হন। তখনই ইংল্যান্ডের গুটিয়ে যাওয়া দ্রুত হওয়ার আভাস দিয়েছিল। কিন্তু তেমনটা হতে দেননি এভারটন। এক প্রান্ত আগলে রেখে লেজের ব্যাটসম্যানদের ম্যাচ বাঁচানোর একটা আশা জাগিয়ে ছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত আশা পূরণ করতে দেননি হ্যাজেলউড। এলবিডব্লিয়ের ফাঁদে ফেলে ৩৪ রান করা এভারটনকে সাজঘরের পথ দেখান। তার বিদায়ে শেষ হয় ইংল্যান্ড ইনিংস। সঙ্গে সঙ্গে অস্ট্রেলিয়াও অ্যাশেজ শিরোপা ধরে রাখার আনন্দে মাতে।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে প্যাট কামিন্স ৪৩ রানে নেন ৪টি উইকেট। এদিকে জস হ্যাজেলউড ও নাথান লায়ন নেন ২টি করে উইকেট। মিশেল স্টার্ক ও লাবুশেনে নেন ১টি করে উইকেট। দুই ইনিংসে অসাধারণ ব্যাটিংয়ের সুবাদে ম্যাচ সেরা হয়েছেন স্মিথ

"