এক জাদুকরের জীবনাবসান

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

ক্রিকেট মাঠ ইদানিং অনন্য কিছুর উদাহরণ সৃষ্টি করছে। এক দলের হয়ে হাত ঘোরাতে দেখা যাচ্ছে তিন-তিনজন লেগ স্পিনারকে। তাদের কেউই পার্ট-টাইমার নন। লেগ স্পিন শিল্পটাকে আঁকড়ে ধরেই ক্যারিয়ার গড়েছেন তারা। ক্রিকেটে লেগ স্পিনের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হয়ে যাওয়ার নমুনাই হয়তো এটি। আর এমন সময়েই কি-না লেগ স্পিনকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে তোলা লোকটাই চিরবিদায় নিলেন।

এমনই এক খবর যে কেউই প্রথমে সরাসরি বলার সাহস পাচ্ছিলেন না। সবাই শোনা যাচ্ছে, গুঞ্জন আছেÑ এভাবেই জানাচ্ছিলেন সংবাদটি। পরে নিশ্চিত হওয়া গেছে, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ৬৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন আবদুল কাদির। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) এক টুইট নিশ্চিত করেছে দুঃসংবাদটি। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টার দিকে এক টুইটে তারা জানিয়েছে, ‘মায়েস্ত্রো আবদুল কাদিরের বিদায়ের খবরে শোকাহত পিসিবি, তার পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি গভীর সহানুভূতি জানাচ্ছি।’

রহস্যময়! আবদুল কাদিরের সঙ্গে যায় সন্দেহ নেই। কিন্তু ৬৭ টেস্ট ও ১০৪ ওয়ানডে কিংবা ৩৬৮টি আন্তর্জাতিক উইকেটের মালিকের নামের সঙ্গে জাদুকর শব্দটাই হয়তো বেশি মানানসই। প্রায় ভুলে যাওয়া এক শিল্পে রূপ নিয়েছিল লেগ স্পিন। কার্যকর অফ স্পিনের কাছে মার খাচ্ছিল খরুচে এই শিল্প। সেই শিল্পকেই সবার কাছে পরম আরাধ্য বানিয়ে তুলেছিলেন আবদুল কাদির। লেগ স্পিনে রং’আনের দোকান নিয়েই যেন নামতেন মাঠে। কারো কাছে বিকোতেন গুগলি, কারো কাছে ফ্লিপার, কারো কাছে আবার টপ স্পিন, কারো কপালে জুটত ফ্লোতিল্লা। লেগ স্পিন তো আছেই। এ কারণেই ক্রিকেটীয় অর্জনে তাকে ছাড়িয়ে গেলেও শেন ওয়ার্নের চেয়ে কাদিরের কাছেই কৃতজ্ঞ বেশি লেগ স্পিন। শেন ওয়ার্নও তাই কাদিরের বিদায়ে সম্মান জানাতে কোনো কার্পণ্য করেননি, ‘আবদুল কাদিরের দুঃসংবাদটা শুনলাম। ১৯৯৪ সালে পাকিস্তানে আমার প্রথম সফরে তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ মিলেছিল। আমার মতোই যারা লিগ স্পিন করে, তারা তাকে অনুসরণ করতাম। অসাধারণ এক বোলার, যে অসংখ্য ব্যাটসম্যানকে বোকা বানিয়েছে।’

বোকা বানানোর গল্পগুলো লিখতে বসলে হয়তো এক জীবনে শেষ করা সম্ভব নয়। তবে আবদুল কাদিরের ইহজীবন শেষ হলেও পরপারে চলে যাওয়া প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানরা এখন থেকে যে আবারও তার স্পিনে বোকা হবেন, সেটা বোধহয় আর না বললেও চলে।

 

"