নিজেদের ফাঁদে নিজেরাই আটকা

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

সাহিদ রহমান অরিন

শুক্রবারের সকালেই ম্যাচের লাগাম টেনে ধরেছিল বাংলাদেশ। তাইজুল আর সাকিবের জোড়া আঘাতে এদিন মাত্র ৭১ রান যোগ করেই ৩৪২ রানে অলআউট হয়ে যায় সফরকারী আফগানিস্তান। তবে জহুর আহমেদের ২২ গজ যে চোখ রাঙানি দেব খোদ স্বাগতিকদের, তা হয়তো কেউই বুঝতেই পারেনি।

বাংলাদেশের পাতা ফাঁদকেই পরে নিজেদের জাল বানিয়ে চট্টলার উইকেটে বিছিয়েছে আফগানিস্তান। আর সে জালেই একে একে ধরা পড়েছেন লিটন-সাকিব-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহরা। তাতে দিনের শেষে টাইগারদের থেকে যোজন-যোজন হাসি মুখে হোটেলে ফিরেছেন রশিদ-নবী-আসগররা। গতকাল ৬৭ ওভারে ১৯৪ রান তোলার পর অস্বস্তিতে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। আজ মোসাদ্দেক ৪৪ এবং তাইজুল ১৪ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের সকালে ব্যাটিং শুরু করবেন।

একটা সময় ফলো অনের শঙ্কায় পড়া বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে ১৪৮ রানে। দেশি ব্যাটসম্যানদের হতশ্রী ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল- যেন খাল কেটে কুমির এনেছে পিচ কিউরেটর। প্রথম ইনিংসে আফগানিস্তানের ৩৪২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে দলীয় স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ করার আগেই ফিরে গেছেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যাস সাদমান ইসলাম। আফগান দলের একমাত্র পেসার ইয়ামিন আহমেদজাই ইনিংসের প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই পরাস্ত করলেন সাদমানকে।

এরপর এক লঙ্কা কা- ঘটে গেছে সাগরিকায়। মোহাম্মদ নবী আর রশিদ খানের ঘূর্ণির কাছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যেন কাঁপছিল থরথরিয়ে। যে ঘূর্ণিতে আফগানদের বধ করার ছক কষেছিল, সেই ঘূর্ণিতে নিজেরাই আটকা পড়েছে। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সৌম্য সরকারকে সঙ্গে নিয়ে ৩৮ রানের জুটি গড়েন লিটন দাস। টাইগার সমর্থকরা তখনও স্বপ্ন দেখছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিবে স্বাগতিকরাই। তবে আফগানদের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবীর চিন্তা ছিল ভিন্ন। উইকেটে থিতু হওয়া সৌম্যকে (১৭) এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে ধসের শুরুরা করেন নবীই।

এরপর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে টাইগারদের ব্যাটিং লাইন আপ। সৌম্যর মতো উইকেটে থিতু হয়ে ফিরে গেলেন লিটন দাসও। রশিদ খানের প্রথম শিকার ইনিংসে তার প্রথম ওভারেই। ৫৪ রানেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান বিদায় জানিয়ে ফিরে যান ড্রেসিং রুমে। তখন থেকে শুধু আসা-যাওয়ার মিছিল দেখেছে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের হাজার তিনেক দর্শক। এ সময় বাংলাদেশের বিপদসীমার ওপর দিয়ে ‘ঘূর্ণিঝড়’ বইয়ে দিয়েছেন রশিদ খান। লিটনের পর সাকিব-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহদের অসহায় আত্মসমর্পণ সইতে না পেরে বিষণœ মনে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেছেন সেই দর্শকরা। ১১ রান করা সাকিবকে ফিরিয়েছেন এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি টাইগার কাপ্তান। একই ওভারে রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেছেন মুশফিকুর রহিমকেও। বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে তখন ৫ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৮৮ রান।

টাইগারদের মনে তখন ফলো অনের শঙ্কা! তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে বাংলাদেশকে সেই শঙ্কা দূরীভূত করেন মুমিনুল হক। চট্টগ্রামের মাটিতে খেলা টেস্টগুলোতে এর আগে যে কবার পঞ্চাশ করেছিলেন সবগুলোকেই পরিণত করেছিলেন শতকে। তবে এবার আর পারলেন না ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে। পরাস্ত হয়েছেন মোহাম্মদ নবীর কাছে।

তবে শেষ পর্যন্ত মোসাদ্দেক হোসেন আর মেহেদী হাসান মিরাজ ফলো অন এড়িয়েছেন। দলীয় ১৪৬ রানে মিরাজ (১১) আউট হন কায়িস আহমেদের বলে। এরপর দলের হাল ধরেন মোসাদ্দেক আর তাইজুল ইসলাম। দুইজন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করে সফলও হয়েছেন। আজ তারা দেশকে কতদূর টানতে পারেন, এখন সেটাই দেখার।

"