‘বিশ্বাস ও আস্থার সম্পর্ক তৈরি করতে চাই’

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ঢাকায় আসার আগে এ শহরটা নিয়ে বেশ অধ্যয়ন করে এসেছেন রাসেল ডমিঙ্গো। যাতে তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন ঢাকার ‘কুখ্যাত’ যানজটের খবর। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় পা ফেলে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি গুলশান-২-এর পাঁচ-তারকা হোটেল আমারিতে গিয়ে ওঠেন তিনি। সেখান থেকে কাল সকাল সকাল স্টেডিয়ামে পৌঁছাবেনÑ এটাই ছিল টাইগারদের নতুন হেডস্যারের প্রত্যাশা। ডমিঙ্গোর ধারণা ছিল, গুলশান-২ থেকে মিরপুরে পৌঁছাতে কমপক্ষে সোয়া এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগবেই। অথচ তার কালো টয়োটা গাড়িটা শেরেবাংলার পার্কিং লটে পৌঁছাল মাত্র ২০ মিনিটেই! ডমিঙ্গোর সঙ্গেই মিরপুরে পা পড়েছে নতুন পেস বোলিং কোচ চার্ল ল্যাঙ্গাভেল্টেরও।

প্রথমে সাংবাদিকদের জানানো হয়েছিল, সকাল সাড়ে ৯টায় আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আসবেন নতুন দুই কোচ। পরে সেটি এক ঘণ্টা পিছিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিটের মধ্যেই টাইগারদের দুই প্রোটিয়া প্রশিক্ষককে নিয়ে মিরপুর শেরেবাংলার প্রেস কনফারেন্স রুমে হাজির দলের মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম। রুমে ঢোকার আগে থেকেই হাস্যোজ্জ্বল ডমিঙ্গো-ল্যাঙ্গাভেল্ট। ঢাকায় আসার আগেই একাধিক দেশীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিলেও কাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনেও প্রাণবন্তই দেখা যায় মুশফিক-মুস্তাফিজদের দুই গুরুকে।

জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই নিজের প্রাথমিক লক্ষ্যের কথা জানিয়ে দেন হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। মূলত খেলোয়াড়দের সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ এবং তাদের আস্থা অর্জনের দিকেই বেশি মনোযোগী তিনি। ডমিঙ্গো বলেন, ‘আমার প্রাথমিক লক্ষ্য হলো খেলোয়াড়দের ভালোভাবে পর্যক্ষেণ করা, তাদের সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করা এবং খেলোয়াড়দের আস্থা অর্জন করা।’ তিনি মনে করেন, সাকিব-তামিমদের বিশ্বাস অর্জন করতে না পারলে শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্কে দূরত্ব থেকেই যাবে।

প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বেশ ‘দিল দরিয়া’ হয়েই কথা বলেছেন ডমিঙ্গো। তিনি জানান, বাংলাদেশ দলের উন্নতির জন্য তিনি টেস্ট ম্যাচকে গুরুত্ব দিতে চান। তার মতে, ‘নিয়মিত টেস্ট না খেললে দলের উন্নতি সম্ভব নয়।’ ডমিঙ্গোর প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট অবশ্য আগামী সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ দিয়েই। নিজের প্রথম পরীক্ষাকে সামনে রেখে তার প্রাথমিক পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন, ‘আমি আগামী দুই সপ্তাহ সবকিছু পর্যবেক্ষণ করব। পর্যবেক্ষণটা হবে, খেলোয়াড়রা আমার কাছ থেকে কেমন শিখতে পারছে।’

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের ইতিবাচক দিকগুলোকেই নিতে চান ডমিঙ্গো। তার মতে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ হয়তো অষ্টম হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের সত্যিকারের পারফরম্যান্স কিন্তু বলছে তারা অষ্টম স্থানে থাকা কোনো দলের চেয়েও ঢের ভালো খেলেছে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়াকেও খুব বড় করে দেখতে চান না তিনি, ‘আমি মনে করি না, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হেরেছে বলেই বাংলাদেশ খুব বাজে দল। আমি শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নয়। বিশ্বকাপে তারা কিন্তু সত্যিই খুব ভালো খেলেছে। কয়েকটি ম্যাচে জেতার খুব কাছে গিয়েও হেরেছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তো ওই রানআউট মিসই সর্বনাশ করেছে। এই দলটা বিশ্ব ক্রিকেটে শক্তিশালী দল হয়ে ওঠার খুব কাছেই রয়েছে।’

 

 

"