এত সাংবাদিক আগে দেখেননি ডমিঙ্গো

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

উপমহাদেশে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা কেমনÑ সেটা আন্দাজ করতে গ্যালারিতে যেতে হয় না, সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখলেই বোঝা যায়। অন্তত উপমহাদেশের বাইরে থেকে আসা ক্রিকেট-সংশ্লিষ্টরা এটা বেশ ভালোভাবেই টের পেয়ে থাকেন।

বাংলাদেশের প্রধান কোচ হয়ে আসা রাসেল ডমিঙ্গো পরশু এসেই পৌঁছেছেন ঢাকায়। কাতার এয়ারওয়েজের উড়োজাহাজ থেকে নেমে যেই না শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বেরুতে যাবেন, তখনই তিনি অবাক হয়ে যান শতাধিক ক্যামেরাপারসন এবং সাংবাদিক দেখে। মঙ্গলবার কড়া নিরাপত্তায় বিমানবন্দর থেকে সরাসরি গুলশানের আমারি হোটেলে ওঠেন ডমিঙ্গো। ওইদিন গণমাধ্যমে কোনো কথা না বললেও বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের উদ্দেশে হাত নাড়ান ডমিঙ্গো।

তবে টাইগারদের ‘হেডস্যার’ হিসেবে প্রথমবার সংবাদ সম্মেলনে আসতেই হলো ৪৪ বছর বয়সি দক্ষিণ আফ্রিকানকে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বুধবার ছিল তার প্রথম দিন। পরিচয়পর্ব থেকে শুরু করে কাজ শুরু করা, বিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হওয়াÑ সবই করতে হয়েছে কাল। এরই ফাঁকে ডমিঙ্গো মুখোমুখি হন সাংবাদিকদেরও। সেখানে এসে তো কোচ রীতিমতো অবাক।

জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন বলতে কী বোঝায়, তা হয়তো এত দিন কল্পনাতেও ছিল না এই প্রোটিয়া প্রশিক্ষকের। বাংলাদেশে এসে সেই দর্শনটাও পেয়ে গেলেন তিনি। একসঙ্গে এক জায়গায় এত সাংবাদিক এর আগে আর কখনো দেখেননি ডমিঙ্গো। সংবাদ সম্মেলনে সাকিব-তামিমদের ওস্তাদ বলেন, ‘আমি জীবনেও এত রিপোর্টার একসঙ্গে দেখিনি। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকার বড় কোনো ম্যাচের আগে প্রেস কনফারেন্সেও বড়জোর আট-নয়জন রিপোর্টার থাকে। কাল (পরশু) বিমানবন্দরে মনে হয় ১০০ ক্যামেরা ছিল। এতেই বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়ে গেছি। এই যে ক্রিকেট নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের এত আবেগ, এটাই আমাকে এখানে ছুটে আসতে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে।’

বাংলাদেশে এবারই প্রথম নন ডমিঙ্গো। বয়সভিত্তিক দলের কোচ হিসেবে তার প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট ছিল কিন্তু বাংলাদেশেই। ২০০৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ হয়ে প্রথম লাল-সবুজের দেশে পা রেখেছিলেন ডমিঙ্গো। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এ নিয়ে সপ্তমবার আমি বাংলাদেশে আসলাম। প্রথমবার ২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ হিসেবে এসেছিলাম।’

বাংলাদেশ অধ্যায়ের শুরুতেই এ দেশের মানুষের ‘ক্রিকেট প্যাশন’ সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন ডমিঙ্গো। এই আবেগের আরেক নাম যে চাপ, সেটি নিশ্চয়ই অজানা নয় তার। টাইগারদের প্রোটিয়া কোচ এই চাপ কীভাবে সামলাবেন, সেটিও জানালেন মিরপুরের সংবাদ সম্মেলনে, ‘পাঁচ বছর ধরে প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করছি। মানুষ আমাদের কাছে প্রত্যাশা করে আমরা যেন প্রতিপক্ষকে নিয়মিত হারাই। এই প্রত্যাশা ও চাপ সম্পর্কে অবগত। আমি সামনের দিকে তাকাচ্ছি। এই মানুষগুলোর সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত। একজন কোচ হিসেবে চাপ উপভোগ করতে চাই।’

 

"