টাইগারদের ফিটনেসে নাখোশ ট্রেনার

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

কন্ডিশনিং ক্যাম্প শুরুর দিনে একটা দৃশ্য খুব পরিচিত। ক্রিকেটাররা হাসিমুখে শুরু করেন ফিটনেস টেস্ট। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে হাসিটা কোথায় যেন উধাও হয়ে যায়! ফিটনেস কোন পর্যায়ে আছে, সেটি প্রমাণ করতে যে খাটুনিটা করতে হয়, তাতে হাসিমাখা মুখগুলো মলিন হয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। গতকাল এই পরীক্ষা শেষে টাইগারদের ফিটনেস নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি ট্রেনারও।

বাংলাদেশ দলের সবশেষ কন্ডিশনিং ক্যাম্প হয়েছিল গেল বছরের অক্টোবরে, দেশের মাঠে জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগে। মাঝে টানা ক্রিকেটের ধকল। প্রায় আট মাস পর আবারও কন্ডিশনিং ক্যাম্পে খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে যে খুশি নন, সেটি সোমবার দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন জাতীয় দলের ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়ন, ‘আট মাস পর ওদের ফিটনেস টেস্ট হলো। অক্টোবর থেকে অবিরত ক্রিকেট খেলছে ওরা। খেলোয়াড় ও আমাকে বুঝতে হচ্ছে ফিটনেসের কী অবস্থা। পরের মাস থেকে এ নিয়ে আরও কাজ করতে হবে। যদি বলেন সব মিলিয়ে কেমন দেখলেন, তাহলে বলব সন্তুষ্ট নয়। আরো উন্নতি করতে হবে ওদের। আবার এও বুঝতে হবে গত ৮ মাসে ওদের কোনো ফিটনেস ক্যাম্প ছিল না। তবে তারা খুব যে খারাপ অবস্থায় আছে তা নয়।’

কাল ফিটনেস পরীক্ষায় সবচেয়ে ভালো করেছেন দীর্ঘ দিন পর জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাওয়া জহুরুল ইসলাম। ব্লিপ টেস্টে পেয়েছেন সর্বোচ্চ ১২.৩। পেসার আবু জায়েদ রাহিও ১২.৩ পেয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২.২ পেয়েছেন ফরহাদ রেজা। ফরহাদ সবশেষ আন্তর্জাতিক খেলেছেন সাড়ে পাঁচ বছর আগে। লম্বা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকা দুজন ক্রিকেটার ফিটনেসে ভালো করলেও বাংলাদেশ দলের নিয়মিত ক্রিকেটাররা খুব একটা ভালো করতে পারেননি। সবারই নম্বর গড়ে ১০ থেকে ১১।

কে খারাপ করেছে, কে ভালো করেছে - মারিও বিষয়টি এভাবে দেখতে চান না। তার ভাষ্য, ‘রানিং, স্কিল ও স্ট্রেংথ ফিটনেসে কে কোথায় আছে সেটা জানতে হবে। যেখানে যেখানে কাজ করা দরকার, সেখানে সেখানে কাজ করতে হবে। কিছু খেলোয়াড়ের ফিটনেস নিয়ে আরও কাজ করার দরকার, আবার যারা ভালো অবস্থায় আছে তাদের আরও উন্নতি করতে হবে।’

বাংলাদেশ দল যে ধারাবাহিক বাজে ফিল্ডিং করছে, তার কারণ হিসেবে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ঘাটতির কথা আসছে। বিসিবি তাই খেলোয়াড়দের ফিটনেসে উন্নতি আনতে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে। তবে মারিও মনে করেন না, ফিটনেসের কারণে একজন ক্রিকেটার ক্যাচ হাতছাড়া করেন, ‘বলতে পারি না যে এ কারণে বাজে ফিল্ডিং হচ্ছে। এটা বলা অন্যায় হবে যে ফিটনেসের কারণে ক্যাচ হাতছাড়া হচ্ছে।’ কিন্তু বিসিবি যে ফিটনেসে উন্নতি আনার উদ্যোগ নিয়েছে, সেটি কি চার দিনের এ কন্ডিশনিং ক্যাম্পে সম্ভব? ৪৫ বছর বয়সি লঙ্কান ট্রেনার মনে করেন, ফিটনেসে উন্নতি করতে চার দিন মোটেও যথেষ্ট সময় নয়। অন্তত পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ তো লাগবেই। যেহেতু সেই সময়টা আপাতত পাওয়া যাচ্ছে না, তাই স্কিল অনুশীলনের পাশাপাশি ক্রিকেটারদের ফিটনেস নিয়ে বিশেষ কাজ করার পরামর্শ মারিও ভিল্লাভারায়নের।

 

"