সুপার কাপের সুপার চ্যাম্পিয়ন

লিভারপুল ২ (৫) : (৪) ২ চেলসি

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

সাহিদ রহমান অরিন

রোমাঞ্চ ছড়ানো ফুটবল উপহার দিতে যেন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েই রেখেছিল ইস্তানবুল। উয়েফা সুপার কাপের সুপার লড়াই দেখতে কৃত্রিম বাতি জ্বলে ওঠার আগেই ৪০ হাজার দর্শকে টইটম্বুর ভোডাফোন পার্ক। ড্রোন ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবিগুলো দেখে মনে হচ্ছিল, লাল সমুদ্রে নীল ঢেউ। ভোডাফোন পার্কের একাংশ যেন এক টুকরো অ্যানফিল্ড, আরেকাংশ এক টুকরো স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ।

বুধবার রাতে সোয়া দুই ঘণ্টার এক ম্যারাথন অল-ইংলিশ লড়াই শেষে হেসেছে রক্তিম সৈনিকরাই। টাই ব্রেকারে ৫-৪ গোলে ইউরোপা লিগ জয়ী চেলসিকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো উয়েফা সুপার কাপ শিরোপা ঘরে তুলেছে ইউরোপসেরা লিভারপুল। চেলসির ফরসি ফরোয়ার্ড জিরুর প্রথমার্ধের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ব্লুজরা। দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরান সেনেগাল তারকা সাদিও মানে। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এবার এগিয়ে যায় লিভারপুল। আবারও চেলসির জালে বল জড়ান মানে। তবে অতিরিক্ত সময়ের ১১ মিনিটে জর্জিনিয়ো পেনাল্টি থেকে গোল করলে ২-২ এ অমীমাংসিতই থেকে যায় ম্যাচ। ফলে উত্তেজনায় ঠাসা খেলাটি গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেও উত্তেজনার পারদ ছিল ঊর্ধ্বমুখী। শেষমেষ চেলসির আব্রাহামের নেওয়া পঞ্চম শটটি ঠেকিয়ে গোলরক্ষক আদ্রিয়ান লিভারপুল শিবিরে উল্লাসের ঝড় তোলেন।

ব্লুজ কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড প্রথমবার একাদশে সুযোগ দেন ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচকে। আর ইনজুরিতে ছিটকে পড়া লিভারপুলের প্রধান গোলরক্ষক অ্যালিসনের জায়গায় তিন কাঠির নিচে দাঁড়ান আদ্রিয়ান। সেই আদ্রিয়ান বীরত্বেই সুপার কাপ শিরোপা ঘরে তুললো অলরেডরা।

যদিও ম্যাচের প্রথম আধঘণ্টা দুর্দান্ত খেলেছে চেলসি। তবে ওই ৩০ মিনিট আসল খেল দেখিয়েছেন দুই গোলপ্রহরী আরিজাবালাগা ও আদ্রিয়ান। প্রতিপক্ষের হাফ ডজন চেষ্টা নসাৎ করে দিয়েছেন এ দুজন। তবে বিরতির আগেই ছন্দময় ফুটবলের পুরস্কার পায় চেলসি। ৩৬ মিনিটে পুলিসিচের ডিফেন্স ভেদ করা পাসে ঠা-া মাথায় আদ্রিয়ানকে পরাস্ত করেন জিরু। এগিয়ে থাকায় আত্মবিশ্বাস নিয়েই বিরতিতে যায় চেলসি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই খোলস ছেড়ে বের হয় লিভারপুল। আক্রমণের ধার বাড়াতে অ্যালেক্স চেম্বারলেইনকে তুলে নিয়ে রবার্তো ফিরমিনোকে নামান অলরেড বস ইয়ুর্গেন ক্লপ। তাতেই বদলে যায় দৃশ্যপট। ৪৮ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের অ্যাসিস্ট থেকেই দলকে সমতায় ফেরান সাদিও মানে। চেলসি গোলরক্ষক কেপা আরিজাবালাগাকে বোকা বানিয়ে খালি জালে বল জড়ান এই সেনেগালিজ। ৭৫ মিনিটে কেপার দুর্দান্ত জোড়া সেভে গোল বঞ্চিত হয় লিভারপুল। প্রথমে ভার্জিল ফন ডাইককে, এরপর ফাবিনহোর ফিরতি শট ঠেকান ব্লুজ গোলরক্ষক।

ফলে ভোডাফোন পার্কের ¯œায়ুযুদ্ধ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এবার এগিয়ে যায় লিভারপুল। ৯৫ মিনিটে সেই ফিরমিনোর কাট ব্যাক পাস থেকে সুনিপুণভাবে স্কোর ২-১ করেন মানে। তবে ছয় মিনিট বাদেই পেনাল্টি আদায় করে নেয় চেলসি। সফল স্পট কিকে আদ্রিয়ানকে ভুল দিকে পাঠিয়ে দলকে ম্যাচে ফেরান জর্জিনিয়ো। ফলে নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়েও দুদলকে আলাদা করতে ব্যর্থ ইস্তানবুল।

কিন্তু যে নগরী দুই মহাদেশকে (এশিয়া ও ইউরোপ) বিভক্ত করেছে, সেই নগরী চাইলেই তো আর ট্রফিটাকেও দুই ভাগ করে দিতে পারেনা। ফলে নিয়ম অনুযায়ী, পেনাল্টি শ্যুটআউটে গড়ায় ম্যাচ। সেখানেও কেউ-কাউকে দিচ্ছিল না ছাড়। অবশেষে আদ্রিয়ানই করলেন ‘পুলসিরাত’ পাড়! প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের আগের চার শটে কোনো না কোনো দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন আদ্রিয়ান। তবে আব্রাহামের নেওয়া শেষ শটটির গতিপথ বুঝতে পেরে ঝাঁপিয়ে পড়তে গিয়েও গড়েননি ৩২ বছর বয়সি গোলপ্রহরী। মাঝ বরাবর ধেঁয়ে নিচু শটটা অসাধারণ দক্ষতায় ডান পা দিয়ে রুখে দেন আদ্রিয়ান। তার বীরত্বেই মৌসুমের প্রথম শিরোপা জয়ের আনন্দে ভাসে লিভারপুল। আদ্রিয়ানকে অভিনন্দন জানাতে ছুটে আসেন সতীর্থরা। ম্যারাথন লড়াইয়ের নায়ককে বুকে টেনে নিতে ম্যারাথন রেসে অংশ নেন অলরেড বস ইয়ুর্গেন ক্লপও। নতুন শিষ্যকে জড়িয়ে ধরে ক্লপ কী বলেছিলেন, সেটা অবশ্য জানা যায়নি। তবে আদ্রিয়ানকে বলা জার্মান কোচের কথাগুলো যে ছিল এরকম, সেটা কল্পনা করাই যায়- ‘ইউরোপসেরা হয়েছি, আজ সুপার কাপ জিতলাম, এবার প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা চা-ই চাই।’

 

"