স্কোয়াশে দুর্নীতি

খেলোয়াড় সেজে যুক্তরাষ্ট্রে জিএসের ছেলে

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দেশের ৫৩টি ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে অনেক কম আলোচিত স্কোয়াশ। কার্যক্রম কম থাকায় বাংলাদেশ স্কোয়াশ র‌্যাকেটস ফেডারেশন (বিএসআরএফ) সবসময়ই থাকে আলোচনার বাইরে। হঠাৎ করে সেই ফেডারেশন নিয়ে মিডিয়ার ব্যস্ততা। না, কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো কার্যক্রমের জন্য নয়, এই ফেডারেশন হঠাৎ আলোচনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে।

ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হামিদের (সোহেল হামিদ) বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন কমিটিরই সদস্য হেদায়েত উল্লাহ তুর্কি। এক সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি অভিযোগ করে বলেন, ‘জাহাঙ্গীর হামিদ তার ছেলেকে খেলোয়াড় সাজিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছেন। অনির্বাচিত হয়েও ১৫ বছর ধরে পদ আকড়ে আছেন। বছরের পর বছর ধরে আর্থিক দুর্নীতি ও নানান অপকর্ম করে যাচ্ছেন অবলীলায়।’

সংবাদ সম্মেলনে চার পাতায় লেখা ২৯টি অভিযোগ পড়ে শোনান ফেডারেশন সদস্য তুর্কি। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ ছিল সম্প্রতি ‘অখেলোয়াড়’ পুত্রকে খেলোয়াড় বানিয়ে মার্কিন মুলুকে আমেরিকান ওপেন টুর্নামেন্ট খেলতে পাঠানো। এছাড়া দেশের কয়েকটি ক্যাডেট কলেজ ও সেনানিবাসে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প করে খেলোয়াড়দের ভ্রমণ ভাতা (টিএ), মহার্ঘ ভাতাসহ (ডিএ) অন্যান্য খরচ দেখিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে ৫ লাখ টাকা তুলে নেন জাহাঙ্গীর হামিদ। অথচ প্রশিক্ষণের সব খরচ বহন করে সেনাবাহিনী।

সংবাদ সম্মেলনে উঠে এসেছে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত চার বছরে ফেডারেশনের অফিস খুলেছে মাত্র এক দিন। দেশের বাইরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নিজ উদ্যোগ ও খরচেই অংশ নেন খেলোয়াড়রা। অথচ জাহাঙ্গীর বিদেশ ভ্রমণে যান ফেডারেশনের টাকায়। তার অনিয়ম ও দুর্নীতি এখানেই থেমে নেই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট কাউকে না জানিয়ে ১ কোটি ৬ লাখ টাকার বাজেটও জমা দিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হামিদ সোহেল। এছাড়া দক্ষিণ এশীয় (এসএ) গেমসের ক্যাম্পে র‌্যাঙ্কিং না মেনেই খেলোয়াড় বাছাই করেছেন তিনি। ক্যাম্প চলাকালীন খেলোয়াড়দের প্রতিদিনের বরাদ্দ ৮৫০ টাকা হলেও জাহাঙ্গীর হামিদ মাত্র ৪৫০ টাকা খরচ করে বাকিটা নিজের পকেটে তুলে রেখেছেন।

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ ‘হাস্যকর ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জাহাঙ্গীর হামিদ। বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির কার্যালয়ে তিনি তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো দেখলাম। এসব হাস্যকর ও ভিত্তিহীন ছাড়া কিছুই নয়। আমি বিষয়টি সভাপতি মহোদয়কে (অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফারুক খান এমপি) অবহিত করব। কমিটির সবাইকেও জানাব। আমরা তার (তুর্কির) বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেব।’

 

 

"