খেলা ছাড়াই বিপিএলের মাঠ গরম

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

খেলা ছাড়াই বিপিএলের মাঠ হঠাৎ করে গরম। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের ছয় বছরের চক্র শেষ হওয়ায় নতুন চুক্তির সঙ্গে খেলোয়াড়দের নিলাম প্রক্রিয়ায় প্লেয়ার ড্রাফটে করার সিদ্ধান্ত নেয় বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। গুঞ্জন ওঠে, সাকিব আল হাসান ঢাকা ছেড়ে রংপুর রাইডার্সে যোগ দেওয়ায় এ নিয়ম করল বোর্ড। প্লেয়ার ড্রাফটের পুরোনো নিয়মে ফেরার ঘোষণায় তামিম ইকবালের খুলনা টাইটান্স আর মুশফিকুর রহিমের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে যাওয়া হলো না।

তবে বিপিএল অকশন কমিশনার মাহাবুবুল আনাম গত মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজিদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই। প্লেয়ার ড্রাফট হলেও একজন করে আইকন ক্রিকেটার তারা পছন্দমতো নিতে পারবে। এমনও হতে পারে, আগের নিয়মটাই বহাল রাখবে। তবে সেটা যেন সুশৃঙ্খলভাবে হয়, নিয়মের ভেতরে হয়, সেজন্য একটা স্থায়ী পদ্ধতি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’ তবে এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল ও ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সভা পর্যন্ত। আগামী ১৮ ও ১৯ আগস্ট হবে এই সভা, যেখানে বিসিবির কাছে বিপিএলের রাজস্বের ভাগ চাইবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। গত রোববার বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সংবাদ সম্মেলনের পরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। বেশির ভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্মকর্তারা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দিতে বিপিএলে বছর বছর নিয়ম পরিবর্তন করা হয়। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেন বিসিবি কর্মকর্তারা।

রোববারের সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়েছিল, নতুন চুক্তির জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চিঠি দেওয়া হবে। প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যেই ফ্র্যাঞ্চাইজিদের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠাল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। পরশু বিকালের মধ্যেই ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে চিঠি গেছে বিসিবি থেকে। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের বিসিবিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ১৮ ও ১৯ আগস্ট। খুলনা টাইটান্স, রংপুর রাইডার্সকে ১৮ আগস্ট বিসিবিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

রাজশাহী কিংসের সিইও তাহমিদ আজিজুল হক জানান, ১৯ আগস্ট আমন্ত্রণ পেয়েছেন তারা। ঢাকা ডায়নামাইটস, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও সিলেট সিক্সার্সের কর্মকর্তারা ফোন না ধরায় জানা যায়নি, এদের কোন দলকে কবে ডাকা হয়েছে।

খুলনা টাইটান্সের চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, চিঠিতে ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তি বা নতুন নিয়ম সম্পর্কে কিছুই লেখা হয়নি। মিটিংয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে মনে করছেন টাইটান্স চেয়ারম্যান। তবে বিসিবি ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সঙ্গে সভায় চায় অপরিবর্তিত নিয়ম চালুর পাশাপাশি রাজস্ব ভাগাভাগি দাবি করবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। রাজশাহী কিংসের সিইও তাহমিদ বলেন, ‘আইপিএল তার প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে বছরে দেড়শ কোটি টাকা লভ্যাংশ দেয়। বিসিবি সেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাছ থেকে শুধু নেয়। আমরা খেলোয়াড়দের টাকা দিই, প্রচারে টাকা দিই, বিসিবিকে টাকা দিই। কম করে হলেও একটা দলকে ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকা খরচ করতে হয়। ফ্র্যাঞ্চাইজি আয় শুধু লোগো ব্র্যান্ডিং থেকে। খরচের তুলনায় যা খুবই সামান্য। এভাবে খরচ করতে হলে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিই বেশি দিন টিকবে না। দু-তিন বছর পর ছেড়ে চলে যাবে। তাই লভ্যাংশ না দিলে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা টিকবে না।’

বিসিবির কাছে এরই মধ্যে বিপিএলের লভ্যাংশ চেয়েছে খুলনা টাইটান্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। রাজশাহী আর রংপুরের কর্মকর্তারা জানান, তারাও লভ্যাংশ চাইবেন বিসিবির কাছে। বিপিএল থেকে প্রতি আসরে ন্যূনতম ৩৫ কোটি টাকা আয় করে বিসিবি। টিভিস্বত্ব থেকে আয় হয় ২৭ কোটি টাকা। গ্রাউন্ডস ও ব্র্যান্ডিং থেকে আয় সাড়ে ৬ কোটি টাকা। টিকিট থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এ ছাড়া স্টেডিয়ামে স্টল ভাড়া দিয়েও আয় করে বিসিবি। ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি থেকেও আসে ৯ কোটি টাকার মতো। বিপিএল ২০১৯ আসরে ১ কোটি ৩৩ লাখ ১০ হাজার টাকা করে বিসিবিকে ফি দিতে হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে। সব মিলিয়ে বিপিএল থেকে বছরে ৪৫ কোটি টাকার মতো আয় করে বিসিবি। তবে টুর্নামেন্ট আয়োজনের খরচ বাদ দেওয়ার পর কম হলেও ৩৫ কোটি টাকা থাকার কথা বিসিবির ভান্ডারে।

এ ব্যাপারে কাজী ইনাম বলেন, ‘বিপিএলে সব কিছুই করে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। দলগুলো ভালো খেলোয়াড় আনে বলেই বিপিএল জমজমাট হয়। বিসিবি যদি নিজস্ব অর্থে ফ্র্যাঞ্চাইজি করে, তা হলে এখনকার জৌলুস আর থাকবে না। সুতরাং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকেও বাঁচিয়ে রাখা বিসিবির কর্তব্য। সেজন্য লভ্যাংশ ভাগ হওয়া উচিত।

 

 

"