ইমনকে দলে নিলে শিরোপা নিশ্চিত!

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

ফুটবলে ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’ কথাটা তেমন খাটে না। এটা এমন একটা খেলা, যেখানে ১১ জনকে সমান তালে লড়াই করতে হয়। তবে দলে দুই-একজন প্লে-মেকার থাকতেই পারেন। মাঠে কঠিন সময়ে যারা ঠিকই দলকে বের করে আনার ক্ষমতা রাখেন। বসুন্ধরা কিংসের মিডফিল্ডার ইমন মাহমুদ বাবুর সেই গুণ আছে। তবে তার সবচেয়ে বড় গুণ বোধহয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সৌভাগ্য। এবার শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে হ্যাটট্রিক লিগ শিরোপা জিতেছেন এই মিডফিল্ডার।

আবাহনীর হয়ে টানা দুই মৌসুম প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জেতায় এবার হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য হওয়ার হাতছানি ছিল। কিন্তু দেশের ফুটবল ইতিহাসে রেকর্ড ৬৫ লাখ টাকা দিয়ে আবাহনী থেকে ইমনকে দলে টেনে নেয় বসুন্ধরা। দেশের সেরা মিডফিল্ডারকে তো দলে টানলই নবাগতরা, সঙ্গে শিরোপা ভাগ্যটাও বোধহয় ধানমন্ডি এলাকা থেকে নিয়ে গেলেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। ব্যস, বসুন্ধরার সুবাদে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেলেন ইমন। হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সৌভাগ্য বেশ কয়েকজন ফুটবলারের আছে। কিন্তু দুই দলের জার্সিতে খেলে এমন হ্যাটট্রিক ইমন ছাড়া আর কারো আছে বলে জানা নেই।

নতুন ক্লাবে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চাপ নিয়েই মৌসুম শুরু করা। সঙ্গে শিরোপার প্রত্যাশা। কাল দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি দৈনিককে সেই কঠিন পথ পাড়ি দেওয়ার গল্প শুনিয়েছেন ইমন, ‘আবাহনী ছাড়ার সিদ্ধান্তটা কঠিন ছিল। ক্লাবে আমার সময়টা ভালো যাচ্ছিল। সেখান থেকে নতুন ক্লাবে এসে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছিল। সঙ্গে ব্যক্তিগত হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের হাতছানি। খুব চ্যালেঞ্জিং একটা মৌসুম পার করলাম।’

বসুন্ধরার জার্সিতে প্রথম বছরেই লিগ শিরোপা। একক প্রাধান্য দেখিয়েই লিগ নিজেদের করে নিয়েছে ইমনদের দল। এই শিরোপা জয়ের মাহাত্ম্য অনেক। তবে এর চেয়ে বেশি কঠিন ছিল আবাহনীর হয়ে আগের মৌসুমের শিরোপা জয়, ‘এই বছর চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা অনেক কঠিন ছিল। তবে কঠোর পরিশ্রম করে আমরা খুব দাপটের সঙ্গে জিতেছি। তবে এর আগের মৌসুমে আরো কঠিন কাজ ছিল আমাদের (আবাহনীর) জন্য। লি টাক (ইংলিশ মিডফিল্ডার) দল ছেড়ে যাওয়ায় ওই মৌসুমে আবাহনী দলটা খুব বেশি ভালো ছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত আমরাই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম।’

২০০৯ সাল থেকে জাতীয় দলে খেললেও কখনোই পাদপ্রদীপের আলোয় আসা হয়নি ইমনের। অথচ প্রায় কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের সেরা ফুটবলারের প্রসঙ্গ উঠলে তার নামটাই আসবে সবার আগে। কিন্তু একেবারেই আড়ালে থাকতে পছন্দ করেন বলে প্রচারের হাওয়া তার গায়ে লাগে না। অবশ্য গতবার দৃশ্যটা বদলে গেছে। কারণ ৬৫ লাখ টাকায় ক্লাব বদল করায় আলোচনায় চলে আসেন। আর এসেই বসুন্ধরার হয়েও জিতলেন শিরোপা। ইমন একটু অহংকার মিশিয়ে বলতেই পারেন, ‘শিরোপা জিততে চাইলে আমাকে দলে নিতে পারেন।’

 

"