ঠাকুরগাঁওয়ে বাফুফের ‘ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদ

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

শাকিল আহমেদ, ঠাকুরগাঁও

জেএফএ কাপ অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল থেকে ঠাকুরগাঁও দলকে বাদ দিয়ে ময়মনসিংহকে খেলানোর সুযোগ করে দেওয়ায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ‘ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদ করেছে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা।

গতকাল দুপুরে শহরের চৌরাস্তা মোড়ে ঠাকুরগাঁও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের ব্যানারে এ প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। ঘণ্টাব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশে ঠাকুরগাঁও নারী দলের খেলোয়াড়সহ সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের আহবায়ক আতাউর রহমান রানা, সুসাশনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে, ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক শাহিন ফেরদৌস, জেলা ফুটবল একাডেমির সভাপতি ফারুক হোসেন জুলু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াফু তপু, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহাবুব হোসেন রনি, জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক সুমন ঘোষ, জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক রিজু প্রমুক।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘বাফুফের ষড়যন্ত্র, স্বেচ্ছাকারী ও হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে ফাইনাল খেলায় ঠাকুরগাঁও নারী ফুটবল দল অংশগ্রহণ করতে পারেনি। বাফুফের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সম্ভাব্য চাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্য এই দলটিকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’ বক্তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ঠাকুরগাঁবাসী বৃহত্তর আন্দোলন করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণকারী ঠাকুরগাঁও অনূর্ধ্ব-১৪ নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড় লাবণ্য রায়, রঞ্জনা, চন্দনা ও শাবনুর বলেন, ‘ময়মনসিংহ দলকে পরাজিত করে আমরা ফাইনালে উঠেছি। ফাইনাল খেলা শুরু হওয়ার ১ ঘন্টা পূর্বে বাফুফে আমাদের দলের ৪জন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে বাইলজ নিয়ে। অথচ সেটা তারা প্রমাণ করতে পারেনি।’

খেলোয়াড়দের ভাষ্য, ‘আমাদের ৪ জন খেলোয়াড়কে বাদ দিয়ে ফাইনাল খেলার সুযোগ দেওয়া যেত, কিন্তু বাফুফে সেটা করেনি। ফাইনাল ম্যাচ শুরু হওয়ার ১ ঘন্টা আগে আমাদের জানানো হলো ঠাকুরগাঁও নারী দল খেলতে পারবে না। আমরা বাফুফের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতে মাঠে গেলে পুলিশ দিয়ে আমাদেরকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর বাফুফে সদস্যরা আমাদেরকে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে। বাফুফে আমাদের দলকে আপিল করার কোনো সুযোগই দেয়নি। আমাদের দলের প্রতি বাফুফে অবিচার করেছে। আমরা এটার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

উল্লেখ্য, জেএফএ কাপ অনূর্ধ্ব-১৪ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ময়মনসিংহকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ঠাকুরগাঁও দল। তবে ফাইনালে উঠলেও গত শুক্রবার (১৯ জুলাই) বাফুফের বাইলজের নিয়মে বাদ পড়ে যায় দলটি। পরে কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ফাইনাল খেলায় অংশগ্রহণ করে রংপুর ও ময়মনসিংহ দল। খেলায় টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে ময়মনসিংহকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় রংপুর নারী ফুটবল দল।

 

"