নিউজিল্যান্ডবাসীর হৃদয় ভেঙে তাদেরই ‘বর্ষসেরা নাগরিক’!

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

বাবা জেরার্ড স্টোকস নিউজিল্যান্ডের হয়ে রাগবি লিগে খেলেছেন নিয়মিত। এরপর কোচিংয়ের কারণে পরিবারকে নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডে। ১২ বছর বয়সে সেই যে বাবার সঙ্গে বেন স্টোকসের ইংলিশ মুলুকে পা রাখা, এরপর আর জন্মভিটে নিউজিল্যান্ডে ফিরে আসেননি তিনি। বাবা-মা পরে ক্রাইস্টচার্চে ফিরলেও ইংল্যান্ডের নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানেই ক্রিকেটে মনোনিবেশ করেন স্টোকস।

ফাইনালে ‘নিউজিল্যান্ড জাত’ সেই বেন স্টোকসের ব্যাট হাতে অদম্য লড়াই প্রথমবারের মতো বিশ্বজয়ের স্বাদ পাইয়ে দিয়েছে ইংলিশদের। দেশের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য ‘নাইটহুড’ সম্মানে ভূষিত হতে পারেন তারকা অলরাউন্ডার স্টোকস, ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলোতে ফলাও করে প্রচার হয়েছে সে খবর। কিন্তু ভিনদেশকে বিশ্বকাপ জেতালেও ভূমিপুত্রকে এখনো ভোলেনি নিউজিল্যান্ড। তাই নাইটহুডের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যভাবে ‘নিউজিল্যান্ডার অব দি ইয়ার’ সম্মানে মনোনীত হলেন ২৮ বছর বয়সি ক্রিকেটার।

এদিকে, দেশকে বিশ্বকাপ এনে দিতে না পারলেও ‘নিউজিল্যান্ডার অব দ্য ইয়ার’ সম্মানে মনোনীত হয়েছেন সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় ও কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনও। ফাইনালে বেন স্টোকসের অপরাজিত ৮৪ রানে ভর করে নিউজিল্যান্ডের ছুড়ে দেওয়া ২৪১ রান ছুঁতে সমর্থ হয় ইংল্যান্ড। ম্যাচ টাই হওয়ায় খেলা গড়ায় সুপার ওভারে।

সেখানেও দুদলের রানসংখ্যা সমান থাকায় দুটি ইনিংস মিলিয়ে বাউন্ডারির নিরিখে অধরা শিরোপা জিতে নেয় ইয়ন মরগানের ইংল্যান্ড। ইংরেজদের বিশ্বজয়ের অন্যতম কা-ারি বেন স্টোকসকে বর্ষসেরা নাগরিকের সম্মানে মনোনীত করে নজিরবিহীন দৃষ্টান্তই স্থাপন করল নিউজিল্যান্ড সরকার। স্টোকস ইংল্যান্ডে থাকলেও ক্রাইস্টচার্চের সাউথ আইল্যান্ড সিটিতে জন্মভিটেতেই বসবাস করেন তার মা-বাবা।

ইংল্যান্ডের বিশ্বজয়ে ছেলের সাফল্যে গর্বিত হলেও মনেপ্রাণে সমর্থন করে গেছেন নিউজিল্যান্ডকে। ইংল্যান্ডের বিশ্বজয়ের পর এমনটাই জানিয়েছিলেন জেরার্ড স্টোকস। নিউজিল্যান্ডের বর্ষসেরা নাগরিক সম্মানের মুখ্য নির্বাচক ক্যামেরন বেনেটের মতে, ‘স্টোকস ব্ল্যাক ক্যাপসদের হয়ে খেলছে না ঠিকই, কিন্তু জন্মসূত্রে সে নিউজিল্যান্ডের নাগরিক। তার মা-বাবা এখনো এখানে বসবাস করেন। তাই নিশ্চিতভাবেই কিউইরা তাকে নিজেদের বলে দাবি করতেই পারেন।’

"