‘এ’ দলের এমন লজ্জা!

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

‘আফগান লজ্জা’ বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু নয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির বিপক্ষে প্রায়ই পরাজয় বরণ করে বাংলাদেশ। কাল সঙ্গী হলো আরেকটি পরাজয়। তবে সেটা অবাক করার মতো ঘটনাই বটে! আফগানিস্তান ‘এ’ দলের কাছে ১০ উইকেটে উড়ে গেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল।

নামে বাংলাদেশ ‘এ’ দল হলেও ‘প্রায়’ জাতীয় দলই বলা যায়। সে দলই কিনা শুক্রবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে আফগানদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করল। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের আনঅফিশিয়াল ওয়ানডে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল আফগানরা। এর আগে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতেছে তারা।

বাংলাদেশ ‘এ’ দলে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ছড়াছড়ি। কে নেই সেখানে! ওপেনার ইমরুল কায়েস, এনামুল হক বিজয় থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা মোহাম্মদ মিঠুন আলি, সাব্বির রহমান, রুবেল হোসেন, আবু জায়েদ রাহী সবাই আছেন। এখানেই শেষ নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা নাজমুল ইসলাম অপু ও আফিফ হোসেন ধ্রুবও আছেন এই দলে। অথচ জাতীয় দলের ছায়া দলটিই আফগান তরুণদের কাছে নাকানিচুবানি খেল।

যে উইকেটে রানের জন্য মাথা কুটে মরেছে বাংলাদেশের ব্যাটসমানরা, সেখানে হেসে-খেলে রানের ফুলঝুরি ছিটিয়েছে আফগানিস্তান ‘এ’ দলের দুই ওপেনার। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২০১ রান তুলতেই হাঁপিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল।

ম্যাচটা একেবারেই ধরা ছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গেছেন দুই আফগান ওপেনার রাহমানুল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। ১০৫ রানে অপরাজিত ছিলেন গুরবাজ। বাংলাদেশ আরও কিছু রান করলে সেঞ্চুরি পেতে পারতেন ইব্রাহিমও। তিনি অপরাজিত ছিলেন ৮৬ রানে। জাতীয় দলের পেসার রুবেল ৭.৫ ওভারে ২৪ রান দিয়েছেন। রাহীও বল করেছেন ৭.৫ ওভার। তিনি দিয়েছেন ৩৬ রান। সবচেয়ে খরুচে ছিলেন স্পিনার নাজমুল ইসলাম। ৩ ওভারে ১২ ইকোনমিতে ৩৬ রান দিয়েছেন জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া এই স্পিনার।

এদিন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে কেউ ধারাবাহিক ছিলেন না। যদিও ওপেনিং জুটিতে ইমরুল ও বিজয় ভালোই শুরু করেছিলেন। ৫২ রানের জুটি গড়ে ফেরার আগে ইমরুলের ব্যাট থেকে এসেছে ২৮ রান। এরপর থেকে শুরু হয় যাওয়া-আসার মিছিল। ৫২ রানে কোনো উইকেট না হারানো দলটি মুহূর্তের মধ্যে ১০৬ রানে হারিয়ে ফেলে ৬ উইকেট। ১৯ রানে ফিরেছেন বিজয়। বিশ্বকাপ খেলে আসা মিঠুন ৩ ও সাব্বির ১৫ রান করেছেন।

ভাগ্যিস অষ্টম উইকেট জুটিতে ৬৭ রানের জুটি গড়েছিলেন আফিফ হোসেন ও ফরহাদ রেজা; নয়তো টাইগার ‘এ’ দলের সংগ্রহটা দেড়শও পেরুত কি না সন্দেহ। ৭১ বল খেলে সর্বোচ্চ ৫৯ রান করেছেন আফিফ, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩০ রান এসেছে ফরহাদের ব্যাট থেকে।

 

"