ফাইনালের এক টিকিটের দাম ১৭ লাখ!

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের জন্য ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড সমর্থকদের মধ্যে হাহাকার। বেশির ভাগ টিকিট ভারতীয়দের দখলে। অথচ ভারত ফাইনালেই নেই। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ভারতীয় সমর্থকরা টিকিটের কালোবাজারি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কারণ, বেশির ভাগ টিকিট নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ফেরত না দিয়ে তোলা হয়েছে অননুমোদিত ওয়েবসাইটগুলোয়। এরই মধ্যে স্টাবহাব নামের একটি ওয়েবসাইট লর্ডসের কম্পটন স্ট্যান্ডের দুটি টিকিটের প্রতিটির জন্য ১৬ হাজার ৫৮৪ দশমিক ৮০ পাউন্ড চাইছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১৭ লাখ টাকা!

অথচ এই টিকিটের প্রকৃত মূল্য ২৯৫ পাউন্ড। ৫০ গুণেরও বেশি দামে এখন টিকিটটি বিক্রি করার চেষ্টা চলছে। শুধু এই টিকিটটিই নয়, আরো অনেক টিকিট ওয়েবসাইটটি বিক্রি করছে ৩ থেকে ৪ হাজার পাউন্ডের মধ্যে। একেকটি টিকিটের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা!

এই টিকিটগুলোর প্রকৃত মালিক কে, তা জানা যায়নি। তবে ভারতীয় সমর্থকদের দিকেই অভিযোগের আঙুল। ভার্চুয়াল জগতের কালোবাজারে টিকিটের যে দর হাঁকা হচ্ছে, তা বড়লোকদের পক্ষেই কেনা সম্ভব। ফাইনালের টিকিট আইসিসি পাঁচটি ক্যাটাগরিতে বিক্রি করেছিল প্ল্যাটিনাম, গোল্ড, সিলভার, ব্রোঞ্জ এবং ট্রাভেল ক্লাব। টিকিটের যে দাম, যার সর্বনিম্ন মূল্য ৯৫ পাউন্ড থেকে সর্বোচ্চ ৩৯৫ পাউন্ড।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ব্যক্তিগতভাবে কেউ টিকিট হস্তান্তর করতে পারবে না। আইসিসি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রিসেল (পুনর্বিক্রি) প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। যার মাধ্যমে টিকিট ক্রয়কারী চাইলে নিজের টিকিট বৈধ প্রক্রিয়ায় অন্য কারো কাছে বিক্রি করে দিতে পারেন। এ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজারেরও বেশি টিকিট এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হাতবদল হয়েছে। কিন্তু ভোক্তাদের অভিযোগ, আইসিসির এই টিকিট পুনর্বিক্রি প্রক্রিয়ায় ঝক্কি আছে অনেক। প্রায় সময়ই পেজ ক্র্যাশসহ বেশকিছু সমস্যার কারণে অনেক সমর্থক আইসিসির রিসেল প্ল্যাটফর্মের বদলে আনঅফিসিয়াল রিসেল সাইট ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। তবে আইসিসির দাবি, বেশি টাকার লোভেই ফাইনালের অনেক টিকিট অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে। এর আগে আইসিসি হুমকি-ধামকি দিয়ে জানিয়েছিল, এভাবে টিকিট কেনা কিংবা বেচা দুটিই অনিয়ম। অবশ্য সেমিফাইনালের আগেও সতর্কবার্তা দিয়েছিল আইসিসি। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া সেমিফাইনালেরও সিংহভাগ টিকিট ছিল ভারতীয়দের দখলে। এমনও আশঙ্কা করা হয়েছিল, গ্যালারি ফাঁকা না থেকে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গ্যালারি প্রায় পূর্ণই ছিল। তাতে বোঝা গেছে, ওই টিকিটগুলো কোনো না কোনোভাবে হাতবদল হয়েছে। যেমনটা ফাইনালের টিকিটও একইভাবে হাতবদল হচ্ছে।

 

"