বিশ্ব বিজেতাকে বরণে প্রস্তুত লর্ডস

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

সাহিদ রহমান অরিন

ক্রিকেটের তীর্থভূমি, হোম অব ক্রিকেট কিংবা ক্রিকেটের মক্কাÑ লর্ডসকে ডাকা হয় এরকম কত নামেই। ক্রিকেটের জন্ম যে এই ঐতিহাসিক স্থানেই। লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮১৪ সালে। ব্রিটেনের সর্ববৃহৎ এই ক্রিকেট ক্ষেত্রটির নামকরণ করা হয়েছে এর প্রতিষ্ঠাতা টমাস লর্ডসের নামে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত কত-শত ঘটনা ও ইতিহাসের সাক্ষী এই লর্ডস। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) ও ইউরোপীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের সদর দফতর এখানেই। ২০০৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সদর দফতরও ছিল এখানে। এর আগে চার-চারটি বিশ্বকাপ ফাইনালের আয়োজন করেছে লর্ডস। সেই ধারাবাহিকতায় আজ পঞ্চবারের মতো ক্রিকেট শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই মঞ্চস্থ করতে প্রস্তুত এই স্টেডিয়াম।

আজ রোববার স্বপ্নের ফাইনালে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। ৯৬-এর পর এই প্রথম বিশ্ব ক্রিকেট আবারও দেখতে যাচ্ছে নতুন চ্যাম্পিয়ন। ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড দুদলই আগে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে খেললেও অধরাই রয়েছে গেছে সোনালি ট্রফিটি। বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে শক্তি এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে নিউজিল্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে ইংলিশরাই। তবে আন্ডারডগ হিসেবে আসর শুরু করলেও জয়ের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের কোচ গ্রে স্টিড। এতদূর অবধি এসে খালি হাতে দেশে ফিরতে নারাজ তিনি।

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালের আগে লর্ডসে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ঐতিহাসিক এই ক্রিকেট ভেন্যুর চারপাশজুড়ে ব্যস্ত ছিলেন মাঠকর্মীরা। আউট ফিল্ডে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির কাজ। কর্মীরা চেষ্টা করছেন যেন কোন ধরণের ফাঁক-ফোকর না থাকে।

আজকের আগে আরো চারবার এই মাঠে ফাইনাল হলেও স্বাগতিক ইংল্যান্ড মাত্র একবার এখানে খেলেছিল। ১৯৭৯ এর ওই ফাইনালে ইংলিশদের হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯৯২ সালের পর এই প্রথম ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড, তাও নিজেদের উঠোনে। স্বাভাবিকভাবে একটু বেশিই উৎফুল্ল ইংলিশরা। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড ২০১৫ বিশ্বকাপের রানার্স আপ হলেও শিরোপা যে ছুঁয়ে দেখা হয়নি এখনো।

আজকের দিনটাকে স্মরণীয় করে রাখতে চান ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ান মরগানও। বলেছেন, ‘আমরা লর্ডসের মাঠে ফাইনাল খেলার সুযোগ পেয়েছি। এটা আমার জন্য, আমাদের দলের জন্য অনেক সম্মানের ব্যাপার। এটা আমরা অর্জন করেছি। চেষ্টা করব রোববারও এমন কিছু করতে, যা স্মরণীয় হয়ে থাকে আমাদের প্রত্যেকের জীবনে।’

অতীতে তিন-তিনবার ফেভারিট তকমা নিয়েও যে ট্রফি স্পর্শ করতে পারেনি ইংলিশরা, এবার সেই দুঃখ ঘোচানোর খুব কাছাকাছি তারা। আর সেটা আবার ‘হোম অব ক্রিকেটে’! সেয়ানে-সেয়ানে টক্করের পর চ্যাম্পিয়ন যেই হোক, নতুন শিরোপাধারীদের বরণ করতে পুরোপুরি প্রস্তত ঐতিহাসিক লর্ডস।

 

"