নীরবেই চলে গেলেন রোডস

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ হয়ে স্টিভ রোডস গত বছর জুনে ঠিক এমনই এক মেঘলা দুপুরে এসেছিলেন বিসিবি কার্যালয়ে। সংবাদমাধ্যম এড়িয়ে চলে গিয়েছিলেন বিসিবির প্রধান নির্বাহীর কক্ষে। বাংলাদেশে তার প্রথম দিনটার সঙ্গে শেষ দিনটাও মিলে গেল অদ্ভুতভাবে।

কালও সেই মেঘলা দুপুর। বিসিবির প্রধান নির্বাহীর কক্ষ। সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে যাওয়া। পার্থক্যটা হচ্ছে, যেদিন কোচ হয়ে বাংলাদেশে প্রথম এলেন, সেদিন মুখে একটা হাসি ছিল। কাল সেটি উধাও! বিদায় বেলায় তার বিষণœ মুখটা দেখে মনে হচ্ছিল, এভাবে বিদায় তিনি নিতে চাননি। এক বছরের বাংলাদেশ অধ্যায় যিনি কখনোই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেননি সেই রোডস কাল বিদায়ক্ষণে একটা কথাও বললেন না। আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ পর্বটা তার শেষ হলো নীরবেই। বিসিবিতে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। বিসিবি বলছে, ‘এটা পারস্পরিক সমঝোতার বিচ্ছেদ।’

স্টিভ রোডসের বিসিবিতে আসা প্রসঙ্গে সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এটি আসলে একটি ফরমালিটি ছিল। আমাদের ইন্টারনাল প্রোসেস ছিল, সেগুলো আমরা শেষ করলাম। তিনি সম্ভবত আজকে (কালকে) বাংলাদেশ থেকে চলে যাচ্ছেন।’ যাওয়ার আগে কিছু বলেছেন কি-না এমন প্রশ্নে বিসিবি সিইও বলেন, ‘যখন চুক্তিটি শেষ দিকে থাকে তখন তো উপদেশের কিছু নেই।’ তার মতে, ‘যেহেতু তিনি সরাসরি জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করেছেন, তাই আমাদের ভালোই দেখতে চান।’

এর আগে বিসিবির পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন রোডসকে বিদায় দেওয়ার কারণ জানাতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘মনে হয় না শুধু এই সিরিজের (বিশ্বকাপ) জন্য স্টিভকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এক বছর ধরে সে এখানে কাজ করছিল, তার সঙ্গে আমরা সমঝোতার মধ্যে গিয়েছি বোর্ড থেকে। মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ভাই বলেছেন, সিইও বলেছেন। হয়তো বোর্ডের যে প্রত্যাশা তা পূরণ হচ্ছিল না তার কোচিংয়ে। এজন্যই সেটা হয়েছে।’

২০১৮ সালের ২২ জুন থেকে মাশরাফি-সাকিবদের কোচের দায়িত্বে ছিলেন রোডস। প্রায় ১৩ মাস কাজ করেছেন টাইগারদের নিয়ে। কিন্তু বিশ্বকাপে খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে পূর্ণ মেয়াদ থাকতে পারলেন না। এবারের বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ বিদায় নেয় শেষ চারে উঠার আগেই। আট ম্যাচ খেলে তিন জয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান আট নম্বরে।

"